📘 ইসলামি অর্থব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 সামাজিক সংগঠন এবং বসতির ধরন

📄 সামাজিক সংগঠন এবং বসতির ধরন


আরবের অধিবাসীদের সমাজ-প্রকৃতিকে দুটি অসম শ্রেণিতে ভাগ করা যায়—যাযাবর ও নাগরিক। একটু পরই আমরা দেখব দক্ষিণ আরবে কিভাবে কিছু সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল। কিন্তু সেটা ছাড়া বাকি সব স্থায়ী জনবসতি গড়ে উঠেছিল প্রধানত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আরবের মরুদ্যানগুলো কেন্দ্র করে। সেইসাথে উন্নত দক্ষিণ ও উর্বর উত্তরের মধ্যকার বাণিজ্যিক সড়ক ঘিরে গড়ে ওঠা প্রধান শহরগুলোতে। প্রথম ধরনের স্থায়ী জনবসতিগুলো কৃষিকেন্দ্রিক, যেমন ইয়াসরিব (মদীনা) এবং নাজরান। আর দ্বিতীয় ধরনের বসতিগুলো বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে মক্কা, পেত্রা এবং পালমিরা। ইসলাম আবির্ভাবের স্থান মক্কার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে ধর্মীয় কারণে। সেই তখন থেকে নিয়ে আজও পর্যন্ত এটি হাজিদের চূড়ান্ত গন্তব্য। এটি মক্কাকে আরব শহরগুলোর মাঝে এক বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছে। এই মর্যাদার কারণে এর নাম হয়েছে 'উম্মুল কুরা'-সব শহরের জননী। এই জনবসতিগুলোর অস্তিত্ব সত্ত্বেও আরবের প্রধান জীবনপদ্ধতি ছিল যাযাবরীয়। যাযাবর ও নাগরিক জনবসতির মাঝে পার্থক্য খুব সূক্ষ্ম যদিও। আধা-যাযাবর ও আধা-নাগরিক কিছু ধরন রয়েছে। সাবেক বেদুইনদের অনেকে তাদের যাযাবর জীবনকে পেছনে ফেলে ক্রমশ নাগরিক হয়ে ওঠে। আবার কিছু বেদুইন তখনো পুরোপুরি নগরবাসী হয়ে ওঠেনি (Hitti, 1963)। এমনকি এও বলা হয় যে, নগরবাসীরাও আদতে বেদুইনই ছিল। উন্নততর জীবনের খোঁজ করতে করতে তারা মরুদ্যানগুলোর দখল নিয়ে নেয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে হয়তো আগে থেকে দখল হয়ে থাকা মরুদ্যানে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে এসে ঢুকে পড়ে (শহীদ, ১৯৭০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00