📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মৃত ব্যক্তির গীবত জায়েয হওয়ার পদ্ধতি

📄 মৃত ব্যক্তির গীবত জায়েয হওয়ার পদ্ধতি


শুধু এক অবস্থায় মৃত ব্যক্তির দোষ বর্ণনা করা জায়েয, তা এই যে, কোনো ব্যক্তি গোমরাহীর কথা-বার্তা কিতাবে লিখে দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছে। এখন তার বই-পুস্তক সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। সব মানুষ তার বই পুস্তক পড়ছে। এ ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে মানুষকে এ কথা বলা যে, সে আকীদা সম্পর্কে যে সব কথা লিখেছে তা ভুল এবং গোমরাহী। যাতে মানুষ তার বই পড়ে বিপথগামী না হয়। তার এতোটুকু দোষ বর্ণনা করার অনুমতি রয়েছে। এক্ষেত্রেও কেবল প্রয়োজন পরিমাণ বলবে। কিন্তু এমতাবস্থায়ও ঐ ব্যক্তিকে গাল-মন্দ করা, বা তার জন্যে এমন শব্দ ব্যবহার করা, যা গালির অন্তর্ভুক্ত- জায়েয নয়। একারণে যে, যদিও সে তার বই-পুস্তকে গোমরাহীর কথা লিখেছে, কিন্তু হতে পারে মৃত্যুর সময় আল্লাহ তা'আলা তাকে তওবার তাওফীক দান করেছেন এবং ঐ তওবার কারণে আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দিয়েছেন। এজন্যে তার ব্যাপারে খারাপ শব্দ ব্যবহার করা- যেমন একথা বলা যে, (নাউযুবিল্লাহ) সে তো জাহান্নামী ছিলো ইত্যাদি, এটা কোনোভাবেই জায়েয নেই। কারণ, কারো জান্নামী হওয়া বা না হওয়ার ফয়সালা শুধুমাত্র এক সত্তার হাতে। তিনিই ফয়সালা করেন কে জান্নাতী আর কে জাহান্নামী। তুমি তার উপর জাহান্নামী হওয়ার ফয়সালা দেওয়ার কে? তুমি তার ব্যাপারে এ ফয়সালা কীভাবে দেও যে, সে মরদূদ ছিলো। এধরনের শব্দ তার ব্যাপারে ব্যবহার করা কোনোভাবেই জায়েয নেই। তবে সে যেসব গোমরাহী ছড়িয়েছে, তার খন্ডন করো যে, তার এসব আকীদা গোমরাহসূলভ। এসব আকীদার কারণে কেউ ধোঁকা খাবেন না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ভালো আলোচনার দ্বারা মৃত ব্যক্তির উপকার

📄 ভালো আলোচনার দ্বারা মৃত ব্যক্তির উপকার


হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ ইরশাদটি অত্যন্ত স্মরণীয় যে, মৃত ব্যক্তিদের গুণ আলোচনা করো এবং তাদের দোষ চর্চা থেকে বিরত থাকো। এ হাদীসে শুধু দোষ চর্চা থেকে বিরত থাকতে বলেননি, বরং সাথে তার গুণ আলোচনাও করতে বলেছেন। তার ভালো দিকসমূহ আলোচনা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। আমি কতক বুযুর্গ থেকে এর হিকমত এই শুনেছি যে, যখন কোনো মুসলমান কোনো মৃত ব্যক্তির গুণ আলোচনা করে তখন তা ঐ মৃত ব্যক্তির পক্ষে একটি সাক্ষী হয় এবং সেই সাক্ষীর ভিত্তিতে কতক সময় আল্লাহ তা'আলা তার উপর অনুগ্রহ করেন যে, আমার নেক বান্দাগণ তোমার ব্যাপারে ভালো হওয়ার সাক্ষ্য দিচ্ছে, তাই আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম। ভালো গুণ আলোচনা করা মৃত ব্যক্তির জন্যে উপকারী। তোমার সাক্ষ্যের ফলে যেহেতু তার উপকার হলো তাই এর ফলে আল্লাহ তা'আলা তোমাকেও মাফ করে দেওয়া অসম্ভব নয়। হয়তো তিনি বলবেন যে, তুমি আমার এক বান্দার উপকার করেছো এজন্যে আমিও তোমার উপকার করলাম, তোমাকেও মাফ করে দিলাম। এজন্যে বলেছেন যে, শুধু এতোটুকু নয় যে, মৃত ব্যক্তির দোষ চর্চা করবে না, বরং তার গুণ আলোচনা করবে, তাহলে ইনশাআল্লাহ তারও উপকার হবে এবং তোমাদেরও উপকার হবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মৃত ব্যক্তিদের জন্য দু'আ করো

📄 মৃত ব্যক্তিদের জন্য দু'আ করো


এ বিষয়েই আরেকটি হাদীস রয়েছে তবে তার শব্দ ভিন্ন। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. থেকে বর্ণিত-
لَا تَذْكُرُوا هَلْكَاكُمْ إِلَّا بِخَيْرٍ
অর্থাৎ, নিজেদের মৃতদের ভালো ছাড়া আলোচনা করো না। ভালো আলোচনার মধ্যে তাদের জন্যে দু'আ করাও অন্তর্ভুক্ত। তাদের জন্যে দু'আ করো- হে আল্লাহ! তাদেরকে মাফ করে দিন। তাদের প্রতি দয়া করুন। তাদেরকে আযাব থেকে হেফাজত করুন। এসব দু'আ দ্বিগুণ উপকার দিবে। একে তো দু'আ করা একটি স্বতন্ত্র ইবাদত ও সওয়াবের কাজ, তা যে কোনো কাজের জন্যেই হোক। দ্বিতীয়ত, এতে একজন মুসলমানকে উপকার করার সওয়াবও লাভ হবে। এজন্যে তার পক্ষে দু'আ করায় আপনারও লাভ রয়েছে এবং তারও লাভ রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে আমাদের সকলকে এর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

টিকাঃ
৩. সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ১৯০৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00