📄 জীবিত ও মৃতের মধ্যে পার্থক্য
তৃতীয় কারণ এই যে, জীবিত মানুষের গীবত কোনো কোনো সময় জায়েয হয়। যেমন, একজন মানুষের অভ্যাস খারাপ। ফলে অন্য মানুষ তার ধোঁকায় পড়ার বা তার দ্বারা কষ্ট পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন যদি তার সম্পর্কে কাউকে বলা হয় যে, দেখো এর ব্যাপারে সাবধান থাকবে। এর কিন্তু এই অভ্যাস রয়েছে। এ গীবত জায়েয। কারণ, এর উদ্দেশ্য অন্যকে ক্ষতি থেকে বাঁচানো। কিন্তু যে মানুষের মৃত্যু হয়েছে সে এখন অন্য কাউকে কষ্ট দিতে পারবে না এবং ধোঁকাও দিতে পারবে না। একারণে তার গীবত কখনোই বৈধ হতে পারে না। এজন্যে বিশেষভাবে বলেছেন যে, মৃত ব্যক্তির দোষ চর্চা করো না। তার নিন্দা আলোচনা করো না।
📄 মৃত ব্যক্তির গীবতের দ্বারা জীবিতরা কষ্ট পাবে
চতুর্থ কারণ হাদীস শরীফের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ইরশাদ করেছেন যে, তুমি এ কথা চিন্তা করে মৃত ব্যক্তি গীবত করলে যে, এ ব্যক্তি তো আল্লাহর কাছে চলে গেছে। আমার দোষ চর্চার দ্বারা সে কষ্টও পাবে না এবং সে জানতেও পারবে না। কিন্তু তুমি একথা চিন্তা করলে না যে, ঐ মৃত ব্যক্তির কিছু প্রিয়জনও দুনিয়াতে রয়েছে। যখন তারা জানতে পারবে যে, আমাদের অমুক মৃত আত্মীয়ের দোষ চর্চা করা হয়েছে, তখন এর ফলে তাদের কষ্ট হবে। মনে করুন, আপনি কোনো জীবিত মানুষের গীবত করলেন, তাহলে আপনার জন্যে তার কাছে গিয়ে মাফ চেয়ে নেওয়া সহজ। সে মাফ করে দিলে ব্যাপার চুকে গেলো। কিন্তু আপনি যদি কোনো মৃত ব্যক্তির গীবত করেন, তাহলে তার যতো আত্মীয় ও বন্ধু আছে, তাদের সকলের কষ্ট হবে। এখন আপনি কোথায় কোথায় গিয়ে তার আত্মীয়-স্বজনকে তালাশ করবেন এবং যাচাই করবেন যে, কার কার কষ্ট হয়েছে এবং কার কার কাছে গিয়ে মাফ চাইবেন? এজন্যে মৃত ব্যক্তির দোষ চর্চা করা খুবই মারাত্মক। যে কারণে জীবিত মানুষের গীবত তো হারাম বটেই, কিন্তু মৃত মানুষের গীবত সে তুলনায় অধিক হারাম এবং তা মাফ নেওয়াও খুব কঠিন। একারণে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, মৃত ব্যক্তিদের দোষ চর্চা করো না, শুধু তাদের গুণ আলোচনা করো।
📄 মৃত ব্যক্তির গীবত জায়েয হওয়ার পদ্ধতি
শুধু এক অবস্থায় মৃত ব্যক্তির দোষ বর্ণনা করা জায়েয, তা এই যে, কোনো ব্যক্তি গোমরাহীর কথা-বার্তা কিতাবে লিখে দুনিয়া থেকে চলে গিয়েছে। এখন তার বই-পুস্তক সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। সব মানুষ তার বই পুস্তক পড়ছে। এ ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে মানুষকে এ কথা বলা যে, সে আকীদা সম্পর্কে যে সব কথা লিখেছে তা ভুল এবং গোমরাহী। যাতে মানুষ তার বই পড়ে বিপথগামী না হয়। তার এতোটুকু দোষ বর্ণনা করার অনুমতি রয়েছে। এক্ষেত্রেও কেবল প্রয়োজন পরিমাণ বলবে। কিন্তু এমতাবস্থায়ও ঐ ব্যক্তিকে গাল-মন্দ করা, বা তার জন্যে এমন শব্দ ব্যবহার করা, যা গালির অন্তর্ভুক্ত- জায়েয নয়। একারণে যে, যদিও সে তার বই-পুস্তকে গোমরাহীর কথা লিখেছে, কিন্তু হতে পারে মৃত্যুর সময় আল্লাহ তা'আলা তাকে তওবার তাওফীক দান করেছেন এবং ঐ তওবার কারণে আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দিয়েছেন। এজন্যে তার ব্যাপারে খারাপ শব্দ ব্যবহার করা- যেমন একথা বলা যে, (নাউযুবিল্লাহ) সে তো জাহান্নামী ছিলো ইত্যাদি, এটা কোনোভাবেই জায়েয নেই। কারণ, কারো জান্নামী হওয়া বা না হওয়ার ফয়সালা শুধুমাত্র এক সত্তার হাতে। তিনিই ফয়সালা করেন কে জান্নাতী আর কে জাহান্নামী। তুমি তার উপর জাহান্নামী হওয়ার ফয়সালা দেওয়ার কে? তুমি তার ব্যাপারে এ ফয়সালা কীভাবে দেও যে, সে মরদূদ ছিলো। এধরনের শব্দ তার ব্যাপারে ব্যবহার করা কোনোভাবেই জায়েয নেই। তবে সে যেসব গোমরাহী ছড়িয়েছে, তার খন্ডন করো যে, তার এসব আকীদা গোমরাহসূলভ। এসব আকীদার কারণে কেউ ধোঁকা খাবেন না।
📄 ভালো আলোচনার দ্বারা মৃত ব্যক্তির উপকার
হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ ইরশাদটি অত্যন্ত স্মরণীয় যে, মৃত ব্যক্তিদের গুণ আলোচনা করো এবং তাদের দোষ চর্চা থেকে বিরত থাকো। এ হাদীসে শুধু দোষ চর্চা থেকে বিরত থাকতে বলেননি, বরং সাথে তার গুণ আলোচনাও করতে বলেছেন। তার ভালো দিকসমূহ আলোচনা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। আমি কতক বুযুর্গ থেকে এর হিকমত এই শুনেছি যে, যখন কোনো মুসলমান কোনো মৃত ব্যক্তির গুণ আলোচনা করে তখন তা ঐ মৃত ব্যক্তির পক্ষে একটি সাক্ষী হয় এবং সেই সাক্ষীর ভিত্তিতে কতক সময় আল্লাহ তা'আলা তার উপর অনুগ্রহ করেন যে, আমার নেক বান্দাগণ তোমার ব্যাপারে ভালো হওয়ার সাক্ষ্য দিচ্ছে, তাই আমি তোমাকে মাফ করে দিলাম। ভালো গুণ আলোচনা করা মৃত ব্যক্তির জন্যে উপকারী। তোমার সাক্ষ্যের ফলে যেহেতু তার উপকার হলো তাই এর ফলে আল্লাহ তা'আলা তোমাকেও মাফ করে দেওয়া অসম্ভব নয়। হয়তো তিনি বলবেন যে, তুমি আমার এক বান্দার উপকার করেছো এজন্যে আমিও তোমার উপকার করলাম, তোমাকেও মাফ করে দিলাম। এজন্যে বলেছেন যে, শুধু এতোটুকু নয় যে, মৃত ব্যক্তির দোষ চর্চা করবে না, বরং তার গুণ আলোচনা করবে, তাহলে ইনশাআল্লাহ তারও উপকার হবে এবং তোমাদেরও উপকার হবে।