📄 মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে মন্দ বলো না
'হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা রাযি. বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মৃত লোকদের দোষ চর্চা করো না। কারণ, তাদের দোষ চর্চা করার দ্বারা জীবিতদের কষ্ট হয়।' হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত অপর এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
اذْكُرُوا مَحَاسِنَ مَوْتَاكُمْ وَكُفُّوا عَنْ مَسَاوِيهِمْ 'নিজেদের মৃত ব্যক্তিদের গুণ আলোচনা করো এবং তাদের দোষ চর্চা থেকে বিরত থাকো।"
এ উভয় হাদীসের বিষয়বস্তু প্রায় এক রকম যে, কারো মৃত্যু হয়ে গেলে এবং তার সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে তার ভালো বিষয়সমূহ আলোচনা করবে। খারাপভাবে তার আলোচনা করবে না। বাহ্যিকভাবে তার আমল খারাপ থাকলেও তার গুণ চর্চা করো, তার দোষ চর্চা করো না।
এখানে প্রশ্ন জাগে যে, এই হুকুম তো জীবিতদের ক্ষেত্রেও যে, জীবিতদের পশ্চাতে তাদের দোষ চর্চা করা জায়েয নেই। জীবিতদেরও গুণ চর্চা করা উচিত, তাদের দোষ চর্চা করলে গীবত হবে। আর গীবত হারাম। তাহলে এসব হাদীসে বিশেষভাবে মৃতদের কথা কেন বলা হয়েছে যে, মৃতদের দোষ আলোচনা করো না। এর উত্তর এই যে, যদিও জীবিত মানুষের গীবত হারাম কিন্তু মৃত মানুষের গীবত দ্বিগুন হারাম। এর হারাম হওয়ার মাত্রা অনেক বেশি। এই বেশির হওয়ার একাধিক কারণ রয়েছে।
টিকাঃ
* ইসলাহী খুতুবাত, খন্ডঃ ১০, পৃঃ ১০৮-১১৪, আসরের নামাযের পর, বাইতুল মুকাররম জামে মসজিদ, করাচী
১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৯০৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭৪৯৯
২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৯৪০, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৫৪
📄 মৃত ব্যক্তির নিকট মাফ চাওয়া যায় না
একটি কারণ এই যে, কোনো ব্যক্তি জীবিত মানুষের গীবত করলে আশা রয়েছে যে, তার সঙ্গে কখনো সাক্ষাত হলে এ ব্যক্তি মাফ চাইবে এবং সে মাফ করে দিবে। এভাবে গীবত করার গোনাহ শেষ হয়ে যাবে। কারণ, গীবত হলো বান্দার হকের অন্তর্গত। আর বান্দার হকের নিয়ম হলো, হকদার মাফ করে দিলে মাফ হয়ে যায়। কিন্তু যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে গিয়েছে তার নিকট মাফ চাওয়ার কোনো পথ নেই। সে তো আল্লাহর নিকট চলে গিয়েছে। এ কারণে ঐ গোনাহ আর মাফ হওয়ার কোনো পথ নেই। ফলে এটি দ্বিগুন গোনাহ হলো।
📄 আল্লাহর ফয়সালার উপর আপত্তি
মৃত ব্যক্তির গীবত নিষিদ্ধ হওয়ার দ্বিতীয় কারণ এই যে, এখন তো সে আল্লাহর কাছে চলে গিয়েছে। তুমি তার যেই দোষ চর্চা করছো, হতে পারে আল্লাহ তা'আলা তার ঐ দোষ মাফ করে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তো মাফ করে দিয়েছেন, আর তুমি তার দোষ চর্চায় লিপ্ত। যার অর্থ এই দাঁড়ায় যে, আল্লাহ তা'আলার ফয়সালার উপর তোমার আপত্তি যে, হে আল্লাহ! আপনি তো এই বান্দাকে মাফ করে দিয়েছেন, কিন্তু আমি মাফ করছি না। সে তো অনেক খারাপ ছিলো। আসতাগফিরুল্লাহ। এটা তো আরো অনেক বড়ো গোনাহ হলো।
📄 জীবিত ও মৃতের মধ্যে পার্থক্য
তৃতীয় কারণ এই যে, জীবিত মানুষের গীবত কোনো কোনো সময় জায়েয হয়। যেমন, একজন মানুষের অভ্যাস খারাপ। ফলে অন্য মানুষ তার ধোঁকায় পড়ার বা তার দ্বারা কষ্ট পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন যদি তার সম্পর্কে কাউকে বলা হয় যে, দেখো এর ব্যাপারে সাবধান থাকবে। এর কিন্তু এই অভ্যাস রয়েছে। এ গীবত জায়েয। কারণ, এর উদ্দেশ্য অন্যকে ক্ষতি থেকে বাঁচানো। কিন্তু যে মানুষের মৃত্যু হয়েছে সে এখন অন্য কাউকে কষ্ট দিতে পারবে না এবং ধোঁকাও দিতে পারবে না। একারণে তার গীবত কখনোই বৈধ হতে পারে না। এজন্যে বিশেষভাবে বলেছেন যে, মৃত ব্যক্তির দোষ চর্চা করো না। তার নিন্দা আলোচনা করো না।