📄 নবীগণের কর্মপদ্ধতি
আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব বলতেন যে, যারা দাওয়াত ও তাবলীগ করে এবং 'আমর বিল মা'রূফ' ও 'নাহি আনিল মুনকার' করে তাদের কাজ হলো নিজের কাজের মধ্যে লেগে থাকা। মানুষ না মানার কারণে ছেড়ে বসে থাকবে না। হতাশ হয়ে, অসন্তুষ্ট হয়ে বা ক্রোধান্বিত হয়ে বসে যাবে না যে, আমি তো অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু তারা আমার কথা মানেনি, এজন্যে আমি আর বলবো না- এমন করবে না। বরং চিন্তা করবে যে, আমি এ কাজ কার জন্যে করেছিলাম। আল্লাহকে রাজি করার জন্যে করেছিলাম। আগামীতেও যতোবার করবো আল্লাহকে রাজি করার জন্যে করবো এবং প্রতিবার আমি বলার সওয়াব লাভ করবো। এজন্যে আমার উদ্দেশ্য তো লাভ হলো। অন্যে মানছে কি মানছে না, তার সাথে আমার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। এটা আল্লাহর ব্যাপার যে, তিনি কাকে হেদায়েত দান করবেন, আর কাকে দান করবেন না।
📄 পরিবেশ সংশোধনের উত্তম পদ্ধতি
বাস্তবতা এই যে, একজন মুমিন যখন ইখলাসের সাথে কথা বলে, বার বার বলে এবং সাথে আল্লাহ তা'আলার কাছে দু'আও করে যে, হে আল্লাহ! আমার অমুক ভাই গোনাহে লিপ্ত, আপনি তাকে হেদায়েت দান করুন। তাকে সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত করুন। যখন এই দুই কাজ করে তখন সাধারণত আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই হেদায়েত দান করেন। আমরা যদি এ কাজ করতে থাকি তাহলে এর বরকতে পুরো পরিবেশ আপনাআপনি শুধরে যাবে। আমার ওয়ালেদ মাজেদ বলতেন, এটা সয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা যে, এক মুমিন অন্য মুমিনকে এসব শর্ত ও আদবের সাথে যদি তার ভুল ধরতে থাকে তাহলে এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা সংশোধন করে দেন।
📄 সারকথা
যাই হোক, এ হাদীসে যে বলা হয়েছে, এক মুমিন অন্য মুমিনের জন্যে আয়না স্বরূপ, এর দ্বারা এই শিক্ষা লাভ হয় যে, মুমিনের কাজ বার বার বলা। না মানলে ব্যথিত হওয়া, কষ্ট পাওয়া বা হার মেনে বসে যাওয়া মুমিনের কাজ নয়। বাস্তবতা এই যে, একজন মুমিন যখন ইখলাসের সাথে কথা বলে এবং বার বার বলে তখন একদিন না একদিন তার কথা ফলপ্রসূ হয়। তাই তুমি আয়না হয়ে কাজ করো এবং যখন অন্য কেউ আয়না হয়ে কাজ করে এবং তোমাকে তোমার কোনো ভুলের কথা বলে দেয় তখন তুমি ব্যথিত হয়ো না এবং অসন্তুষ্ট হয়ো না। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এসব বিষয়ের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।