📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আমাদের কর্মপদ্ধতি

📄 আমাদের কর্মপদ্ধতি


আজ আমরা আমাদের সমাজে জরিপ চালিয়ে দেখলে এমন লোক খুব কম চোখে পড়বে, যে অন্যের ভুল দেখে তার কল্যাণ কামনা করে বলবে যে, তোমার এ বিষয়টি আমার পছন্দ হলো না বা এ কাজ শরীয়তবিরোধী। কিন্তু বিভিন্ন মজলিসের মধ্যে তার ভুলের আলোচনা করার লোক অসংখ্য দেখা যাবে। যার ফলে গীবতের গোনাহে লিপ্ত হচ্ছে। অপবাদের গোনাহে লিপ্ত হচ্ছে। মিথ্যা ও অতিরঞ্জনের গোনাহ হচ্ছে। একজন মুসলমানের দুর্নাম করার গোনাহ হচ্ছে। পক্ষান্তরে উত্তম পদ্ধতি এই ছিলো যে, নির্জনে তাকে বুঝিয়ে দিবে- তোমার মধ্যে এই দোষ রয়েছে তা দূর করো। তাই কোনো মুসলমান ভাইয়ের মধ্যে কোনো দোষ দেখলে অন্যদেরকে বলবে না, শুধু তাকে বলবে। এই শিক্ষাও الْمُؤْمِنُ مِرَاةُ الْمُؤْمِنِ হাদীস দ্বারা জানা যায়। ৪

টিকাঃ
৪. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৭২

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ভুল ধরে দিয়ে নিরাস হয়ে বসে পড়েনা

📄 ভুল ধরে দিয়ে নিরাস হয়ে বসে পড়েনা


এ হাদীস থেকে একটি শিক্ষা এই লাভ হয় যে, আয়নার কাজ হলো, যে ব্যক্তি তার সামনে এসে দাঁড়ায় আয়না তার দোষের কথা বলে দেয় যে, তোমার মধ্যে এই দোষ রয়েছে। দ্বিতীয়বার যদি ঐ ব্যক্তি আয়নার সামনে আসে তাহলে দ্বিতীয়বারও বলে দেয়। যখন তৃতীয়বার সামনে আসে তখন তৃতীয়বারও বলে। কিন্তু ঐ আয়না তোমার পিছনে লাগবে না যে, তোমার এই দোষ অবশ্যই দূর করো। ঐ ব্যক্তি যদি তার দোষ দূর না করে তাহলে আয়না রাগ হয়ে এবং ক্লান্ত হয়ে হার মেনে বসে যায় না। তুমি তোমার দোষ দূর করো না, তাই আর তোমাকে বলবো না। বরং ঐ ব্যক্তি যতোবার আয়নার সামনে আসবে আয়না ততোবারই তাকে বলবে যে, এই দোষ এখনো বিদ্যমান আছে। সে বলা ছাড়বে না এবং মনও খারাপ করবে না। দারোগা হয়ে বলবে না যে, এ ব্যক্তি যতোক্ষণ পর্যন্ত নিজের দোষ দূর না করবে ততোক্ষণ পর্যন্ত তার সাথে সম্পর্ক রাখবো না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এ কাজ কার জন্য করেছিলে

📄 এ কাজ কার জন্য করেছিলে


নবীগণের পদ্ধতিও এই যে, তারা মন খারাপ করে বা হার মেনে বসে যান না, বরং যখনই সুযোগ হয় নিজের কথা বলতে থাকেন। কিন্তু নিজেকে দারোগা মনে করেন না। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُصَيْطِرٍ
অর্থাৎ, আপনাকে দারোগা বানিয়ে পাঠানো হয়নি, বরং আপনার কাজ শুধু পৌছিঁয়ে দেওয়া। যে ভুল করে তাকে বলে দিন এবং সতর্ক করুন। এখন তার কাজ হলো আমল করা। যদি সে আমল না করে তাহলে দ্বিতীয়বার বলুন, তৃতীয়বার বলুন, কিন্তু হতাশ হয়ে বা অসন্তুষ্ট হয়ে বসে যাবেন না যে, এ ব্যক্তি তো মানেই না। তাকে আর কি বলবো? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু উম্মতের প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন এজন্যে কাফের ও মুশরিকরা যখন তাঁর কথা মানতো না তখন তাঁর খুব কষ্ট হতো। এ প্রসঙ্গে কুরআনে কারীমে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়, لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ
আপনি কি নিজের জানকে ধ্বংস করবেন এ বেদনায় যে, তারা ঈমান আনে না কেন?' এটা আপনার দায়িত্ব নয়। আপনার কাজ শুধু কথা পৌছিঁয়ে দেওয়া। মানা বা না মানার জিম্মাদারী আপনার নয়।

টিকাঃ
৫. গাশিয়া : ২২
৬. শুআ'রাঃ ৩

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 নবীগণের কর্মপদ্ধতি

📄 নবীগণের কর্মপদ্ধতি


আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব বলতেন যে, যারা দাওয়াত ও তাবলীগ করে এবং 'আমর বিল মা'রূফ' ও 'নাহি আনিল মুনকার' করে তাদের কাজ হলো নিজের কাজের মধ্যে লেগে থাকা। মানুষ না মানার কারণে ছেড়ে বসে থাকবে না। হতাশ হয়ে, অসন্তুষ্ট হয়ে বা ক্রোধান্বিত হয়ে বসে যাবে না যে, আমি তো অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু তারা আমার কথা মানেনি, এজন্যে আমি আর বলবো না- এমন করবে না। বরং চিন্তা করবে যে, আমি এ কাজ কার জন্যে করেছিলাম। আল্লাহকে রাজি করার জন্যে করেছিলাম। আগামীতেও যতোবার করবো আল্লাহকে রাজি করার জন্যে করবো এবং প্রতিবার আমি বলার সওয়াব লাভ করবো। এজন্যে আমার উদ্দেশ্য তো লাভ হলো। অন্যে মানছে কি মানছে না, তার সাথে আমার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। এটা আল্লাহর ব্যাপার যে, তিনি কাকে হেদায়েত দান করবেন, আর কাকে দান করবেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00