📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 যে রোগ বলে দেয় তার প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়

📄 যে রোগ বলে দেয় তার প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়


তবে রোগ বলার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। কেউ আপনার দোষের কথা এবং আপনার খারাবীর কথা উত্তম পদ্ধতিতে বললো, আর কেউ খারাপভাবে বললো। কেউ যদি আপনার দোষের কথা এমন পদ্ধতিতে বলে, যেভাবে বলা সমীচীন নয়, তারপরও সে আপনাকে আপনার একটি রোগ সম্পর্কে অবগত করলো। এজন্যে তার প্রতি আপনার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। আরবী ভাষার একটি কবিতার অর্থ এই- আমার প্রতি সবচে' বড়ো কৃপাশীল সেই, যে আমাকে দোষের হাদিয়া দেয়। যে বলে দেয় আমার মধ্যে কী দোষ রয়েছে?'
আর যে ব্যক্তি প্রশংসা করছে- তুমি এমন, তুমি তেমন। যে ব্যক্তি উপরে তুলে ধরছে, যার ফলে অন্তরে অহংকার ও গর্ব সৃষ্টি হচ্ছে, বাহ্যিকভাবে দেখতে তো এটা ভালো মনে হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে সে ক্ষতি করছে। যে ব্যক্তি আপনার দোষ বলছে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হোন। মোটকথা, এ হাদীস একদিকে তো এ কথা বলছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি তোমাকে তোমার দোষ বলে তাহলে তার প্রতি অসন্তুষ্ট না হয়ে তার এ বলাকে গণীমত মনে করো। যেমন আয়নার বলাকে গণীমত মনে করে থাকো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 যে ভুল করে তার সহমর্মী হও

📄 যে ভুল করে তার সহমর্মী হও


একজন মুমিন যখন অন্য মুমিনের দোষ বলে দেয়, তখন সে তার প্রতি সহমর্মী হয় যে, এ বেচারা এই ভুলের মধ্যে রয়েছে। কোনো মানুষ অসুস্থ হলে সহমর্মিতার উপযুক্ত হয়, ক্রোধের পাত্র হয় না। কেউ অসুস্থ ব্যক্তির উপরে ক্রোধান্বিত হয়ে বলে না যে, তুমি অসুস্থ হলে কেন? বরং তার প্রতি সহমর্মী হয় এবং তাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেয়। তেমনিভাবে একজন মুমিন ভুলের মধ্যে বা গোনাহের মধ্যে লিপ্ত হলে সে সহমর্মিতার উপযুক্ত, সে ক্রোধের পাত্র নয়। তাকে স্নেহের সাথে এবং নম্রতার সাথে বলো যে, তোমার মধ্যে এই দোষ রয়েছে, যাতে সে সংশোধন করে নেয়। তার উপর রাগ করো না, তাকে তিরস্কার করো না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 যে ভুল ধরে দিবে সে তিরস্কার করবে না

📄 যে ভুল ধরে দিবে সে তিরস্কার করবে না


এ হাদীসে দ্বিতীয় শিক্ষা রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্যে, যে ভুল ধরে দেয়। হাদীসে যে ভুল ধরে দেয় তাকে আয়নার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আয়নার কাজ এই যে, কোনো ব্যক্তি তার সামনে এসে দাঁড়ালে সে বলে যে, তোমার চেহারায় এতো বড়ো দাগ লেগে আছে। একথা বলার ক্ষেত্রে সে কম-বেশি করে না এবং ঐ ব্যক্তিকে তিরস্কারও করে না যে, এই দাগ কোথেকে লাগিয়েছো, বরং শুধু দাগের কথা বলে দেয়। এমনিভাবে যে মুমিন ভুল ধরে দিবে, সে আয়নার মতো শুধু ততোটুকু ভুলের কথা বলবে, যতোটুকু তার মধ্যে বাস্তবেই বিদ্যমান রয়েছে। বাড়িয়ে বলবে না, অতিরঞ্জন করবে না। এমনিভাবে শুধু তাকে বলবে যে, তোমার মধ্যে এই দোষ রয়েছে। কিন্তু এই দোষের কারণে তাকে তিরস্কার করা বা মানুষের সামনে তাকে লাঞ্ছিত করা, এটা ঈমানদারের কাজ নয়। কারণ, ঈমানদার তো আয়নার মতো। এজন্যে ততোটুকু ভুলের কথাই বলবে, যতোটুকু তার মধ্যে রয়েছে। তাকে তিরস্কার করবে না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 যে ভুল করে তাকে লাঞ্ছিত করো না

📄 যে ভুল করে তাকে লাঞ্ছিত করো না


আজকাল আমরা এ বিষয়ে লক্ষই করি না যে, অন্য মুমিনকে তার ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা আমার একটি দায়িত্ব। একজন মুসলমান ভুল পদ্ধতিতে নামায পড়ছে এবং তোমার জানা আছে যে, এ পদ্ধতি ভুল, তখন তাকে তার ভুল সম্পর্কে বলে দেওয়া তোমার উপর ফরয। কারণ, এটাও 'আমর বিল মা'রূফ' ও 'নাহি আনিল মুনকার'-এর অন্তর্ভুক্ত। আর এটা সব মুসলমানের উপর ফরয। আজকাল কারো এ কথার অনুভূতিই জাগে না যে, তার ভুল ধরে দেই, বরং মনে করে যে, ভুল পড়ছে পড়ুক। আর যদি কারো ভুল ধরার অনুভূতি হয়ও তাহলে তার এতো তীব্র অনুভূতি হয় যে, সে নিজেকে আল্লাহর সৈন্য মনে করে। অন্যের ভুল যখন সে ধরে দেয়, তখন ধমকাতে আরম্ভ করে। মানুষের সামনে তাকে লজ্জিত করতে আরম্ভ করে। অথচ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, তুমি হলে আয়না। তুমি ধমক দিবে না, তিরস্কার করবে না, তাকে লাঞ্ছিত করবে না। বরং এমন পদ্ধতিতে বলবে, যেন তার অন্তরে কথা গেঁথে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00