📄 প্রকৃতিগত অনীহায় পরাভূত হয়ে মুখ থেকে বেরোনো বাক্যসমূহ
এরপর হযরত থানভী রহ. একটি পরিত্রাণধর্মী কথা এই বলেছেন যে, যদি প্রকৃতিগত অনীহায় পরাভূত হয়ে কোনো অসমীচীন কথা মুখ থেকে বেরিয়ে যায় এবং পরে এর জন্যে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয় তাহলে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দিবেন। অর্থাৎ, যদি রাগ নিয়ন্ত্রণে এসে যায় এবং কোনো আল্লাহওয়ালার সংসর্গের কারণে এবং তার ঘষা-মাজার পরিণতিতে প্রকৃতিতে এ ধরনের ভারসাম্য পয়দা হতে থাকে এবং সেই সাথে রাগও সংবরণ হতে থাকে, কিন্তু এরপরও অনেক সময় রাগ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায়। যেমন কোনো কাজে অসন্তুষ্টি সৃষ্টি হলো এবং রাগ চরম আকার ধারণ করার দরুণ মুখ থেকে অসমীচীন কোনো কথা বের হয়ে গেলো। এমনটি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এর দ্বারা এরূপ মনে করবে না যে, এটা অসম্ভব ও অসংশোধনযোগ্য কাজ। এমনটি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে মাফ চাইবে, কিন্তু একথা ভাববে না যে, আমার রাগ সংশোধনযোগ্য নয়। বরং রাগ সংশোধনের চিন্তা-চেষ্টা করতে থাকবে।
📄 জনৈক সাহাবীকে রাগ না করার নসীহত
হাদীস শরীফে এসেছে, জনৈক সাহাবী রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে এসে আরয করলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সংক্ষিপ্ত কিছু নসীহত করুন। একে তো নসীহতের কথা বললেন, তা আবার সংক্ষিপ্তও। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে খারাপ মনে করলেন না যে, নসীহতের কথা বলে আবার এর পেছনে শর্ত জুড়ে দেওয়া কেন? তিনি অসন্তোষও প্রকাশ করলেন না, বরং তিনি এই সাহাবীর আরজ পুরা করলেন। এতে জানা গেলো যে, কেউ যদি সংক্ষিপ্ত নসীহত চায়, তাহলে তাকে সংক্ষেপেই নসীহত করতে হবে। কেননা তার হাতে সময় কমও থাকতে পারে। তারও আশা সামান্য সময়ে কিছু দ্বীন শিখবে। সুতরাং তার চাহিদা ঐভাবেই পূরণ করতে হবে যেভাবে সে কামনা করেছে। আর দ্বীনি আলোচনা সংক্ষেপেও হওয়া সম্ভব। মোটকথা, ঐ সাহাবীর আর্জি মোতাবেক হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, لَا تَغْضَبْ 'রাগ করো না' এর দ্বারা বুঝা গেলো, রাগ এমন একটি বিষয়, যার গুরুত্ব তার কাছে এতো বেশি যে, সংক্ষিপ্ত নসীহতের সময় এ বিষয়টিকেই বেছে নিয়েছেন।
📄 শুরু থেকেই একেবারে রাগ পরিহার করো
আমাদের হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ.-এর তরীকায় রাগ ঐ সমস্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোর চিকিৎসা সবার আগে করা হতো। যখন কোনো লোক কোনো শাইখের নিকট ইসলাহের উদ্দেশ্য যায়, তখন শুরুতেই তাকে বলা হয় যে, তুমি মোটেই রাগ করবে না। এমনকি যেখানে রাগ প্রকাশ বৈধ সেখানেও না। আর যেখানে রাগ বৈধ নয়, সেখানে তো প্রশ্নই আসে না। যেখানে রাগ করার অধিকার আছে, ওখানেও রাগ করো না। যাতে তোমার স্বভাবের মধ্যে ভারসাম্য চলে আসে।
তবে এতদসত্ত্বেও যদি কখনও অনিচ্ছাকৃত মুখ থেকে কারো বিরুদ্ধে অসমীচীন কোনো কথা কথা বের হয়ে পড়ে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে। ওজর পেশ করবে। বলবে, ভাই! আমার মুখ থেকে এ কথা বেরিয়ে গেছে। ভুল করে ফেলেছি। মাফ করে দাও। এমনটা করলে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতের জন্যে রাস্তা খুলে যাবে।
📄 ক্ষমা চাইতে শরম করতে নেই
ক্ষমা চাওয়ায় লাঞ্ছনা নেই। কিছু লোক মনে করে, জীবন যায় যাক, নাক কাটা না যায়। মাথা যেন কোথাও নীচু না হয়। এ চিন্তা খুবই খারাপ। কারণ, এর ভিত্তি অহংকার। অতএব এমন পরিস্থিতি আসলে ক্ষমা চেয়ে নেবে। ক্ষমা চাইলে কী হয়? দুনিয়ায় ক্ষমা চাইলে আখেরাতে পার পেয়ে যাবে। খোদা না করুন, এখানে মাফ করিয়ে নিতে না পারলে আখেরাতে মারাত্মক পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া লাগতে পারে। আল্লাহ তা'আলা আমাকে, আপনাকে ও সকলকে এ কথাগুলোর ওপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।