📄 হিংসার বশবর্তী হয়ে আমল করা গোনাহ
যেমন হিংসা। আপনার মনে কারো বিরুদ্ধে হিংসা জাগলো। তার সম্পর্কে কোনো ভালো খবর আসায় অন্তরে চিন্তা জাগলো যে, এ এতো উন্নতি করছে কেন? তার টাকা-পয়সা এতো বাড়ছে কেন? তার ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? তার এতো নাম-যশ কেন? মানুষ তাকে এতো মান্য করে কেন? ইত্যাদি। অন্তরে এ ধরনের চিন্তা জাগ্রত হওয়া গোনাহ নয়। কেননা এ চিন্তা ও কল্পনা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে চলে আসে। গোনাহ তখন হবে, যখন এই চিন্তার বশবর্তী হয়ে আপনি ঐ লোকের সাথে কোনো মন্দ ব্যবহার করবেন। উদাহরণস্বরূপ আপনার মনে চিন্তা জাগলো, অমুক লোক আমার চেয়ে অনেক উন্নতি লাভ করছে- ব্যাপারটি পীড়াদায়ক! এক্ষণে আপনি ভাবলেন যে, তার কুৎসা গাইবো, মানুষের সম্মুখে তার দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করবো, তার গীবত করবো। এ সব কাজ করার দ্বারা হিংসা গোনাহে পরিণত হবে। শুধু অন্তরে খেয়াল উদ্রেকের দ্বারা গোনাহ হবে না।
📄 হিংসার দু'টি চিকিৎসা
অবশ্য 'হিংসা' সম্পর্কে ইমাম গাযালী রহ. বলেন, যে লোকের অন্তরে অপরের ব্যাপারে অকল্যাণের চিন্তা জাগবে, তাকে তৎক্ষণাৎ দুটি কাজ করতে হবে। নতুবা হিংসার ফলশ্রুতিতে গোনাহে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রথমতঃ মনে মনে ভাববে, আমার এ চিন্তা খুবই খারাপ। আল্লাহর কাছে দু'আ করে বলবে- হে আল্লাহ! আমার অন্তর থেকে এ চিন্তা দূর করে দিন। দ্বিতীয়তঃ যার ব্যাপারে মনে এই মন্দ চিন্তা জাগবে তার কল্যাণের জন্যে দু'আ করবে। উদাহরণস্বরূপ আপনার অন্তরে এ ব্যাপারে দুঃখ হচ্ছে যে, অমুক লোক আমার চেয়ে উন্নতি লাভ করছে কেন? তার জন্যে দু'আ করবেন- হে আল্লাহ! তাকে আরো উন্নতি দান করুন। এমন করতে আপনার অন্তরে প্রচন্ড কষ্ট হবে। অন্তরে এ চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্য তার চিকিৎসা করা। যদি কারো ধন-দৌলতের কারণে মনে হিংসা আসে, তখন তার উদ্দেশ্য এই দু'আ করবেন- হে আল্লাহ! তার ধন-সম্পদ আরো বাড়িয়ে দিন। যদি কারো পদমর্যদা সম্পর্কে মনে হিংসা আসে, তাহলে এই দু'আ করবেন- হে আল্লাহ! তার পদমর্যদা আরো বাড়িয়ে দিন। উত্তরোত্তর উন্নতি দান করুন। সুতরাং যে কারণে হিংসার উদ্রেক হবে তা বৃদ্ধির জন্যে দু'আ করবেন। হিংসা এলে এ দুটি কাজ করবেন, নয়তো হিংসা কোনো না কোনো সময় মানুষকে ধ্বংস করে ছাড়বে।
মোটকথা, যতো মন্দ চরিত্র আছে, সবগুলোর মূলনীতি হযরত থানভী রহ এ মালফুযে বর্ণনা করেছেন যে, 'শুধুমাত্র প্রকৃতিগত চাহিদার কারণে পাকড়াও করা হবে না। বরং চাহিদামাফিক কাজ করলে পাকড়াও করা হবে। আর তাও তখন, যখন ইচ্ছাকৃতভাবে চাহিদা পূরণ করবে।'
📄 প্রকৃতিগত অনীহায় পরাভূত হয়ে মুখ থেকে বেরোনো বাক্যসমূহ
এরপর হযরত থানভী রহ. একটি পরিত্রাণধর্মী কথা এই বলেছেন যে, যদি প্রকৃতিগত অনীহায় পরাভূত হয়ে কোনো অসমীচীন কথা মুখ থেকে বেরিয়ে যায় এবং পরে এর জন্যে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয় তাহলে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দিবেন। অর্থাৎ, যদি রাগ নিয়ন্ত্রণে এসে যায় এবং কোনো আল্লাহওয়ালার সংসর্গের কারণে এবং তার ঘষা-মাজার পরিণতিতে প্রকৃতিতে এ ধরনের ভারসাম্য পয়দা হতে থাকে এবং সেই সাথে রাগও সংবরণ হতে থাকে, কিন্তু এরপরও অনেক সময় রাগ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায়। যেমন কোনো কাজে অসন্তুষ্টি সৃষ্টি হলো এবং রাগ চরম আকার ধারণ করার দরুণ মুখ থেকে অসমীচীন কোনো কথা বের হয়ে গেলো। এমনটি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এর দ্বারা এরূপ মনে করবে না যে, এটা অসম্ভব ও অসংশোধনযোগ্য কাজ। এমনটি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে মাফ চাইবে, কিন্তু একথা ভাববে না যে, আমার রাগ সংশোধনযোগ্য নয়। বরং রাগ সংশোধনের চিন্তা-চেষ্টা করতে থাকবে।
📄 জনৈক সাহাবীকে রাগ না করার নসীহত
হাদীস শরীফে এসেছে, জনৈক সাহাবী রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে এসে আরয করলেন- হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সংক্ষিপ্ত কিছু নসীহত করুন। একে তো নসীহতের কথা বললেন, তা আবার সংক্ষিপ্তও। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে খারাপ মনে করলেন না যে, নসীহতের কথা বলে আবার এর পেছনে শর্ত জুড়ে দেওয়া কেন? তিনি অসন্তোষও প্রকাশ করলেন না, বরং তিনি এই সাহাবীর আরজ পুরা করলেন। এতে জানা গেলো যে, কেউ যদি সংক্ষিপ্ত নসীহত চায়, তাহলে তাকে সংক্ষেপেই নসীহত করতে হবে। কেননা তার হাতে সময় কমও থাকতে পারে। তারও আশা সামান্য সময়ে কিছু দ্বীন শিখবে। সুতরাং তার চাহিদা ঐভাবেই পূরণ করতে হবে যেভাবে সে কামনা করেছে। আর দ্বীনি আলোচনা সংক্ষেপেও হওয়া সম্ভব। মোটকথা, ঐ সাহাবীর আর্জি মোতাবেক হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, لَا تَغْضَبْ 'রাগ করো না' এর দ্বারা বুঝা গেলো, রাগ এমন একটি বিষয়, যার গুরুত্ব তার কাছে এতো বেশি যে, সংক্ষিপ্ত নসীহতের সময় এ বিষয়টিকেই বেছে নিয়েছেন।