📄 সবার আগে রাগের চিকিৎসা
যেমন রাগ করা খারাপ। এটি এমন একটি ব্যাপার তাসাওউফ ও তরীকতে সবার আগে এর চিকিৎসা করানো হয়। রাগ মানুষের ভিতরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। এজন্যে কোনো আল্লাহর বান্দা যখন ইসলাহের জন্যে কোনো শাইখের নিকট যায়, তখন সবার আগে তার রাগের ইসলাহ করা হয়, যাতে তার রাগ সংবরণ হয়ে যায়।
📄 রাগ ও জৈবিক চাহিদার উপর আমল করা গোনাহ
কিছু লোক মনে করে যে, অন্তরে রাগ সৃষ্টি হওয়াই গোনাহ। হযরত থানভী রহ. ইরশাদ করেন, অন্তরে রাগ সৃষ্টি হলেই গোনাহ হয় না, বরং গোনাহ তখনই হবে যখন সেই রাগের বশবর্তী হয়ে কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করবে। জৈবিকচাহিদার ব্যাপারটিও এমন। জৈবিক চাহিদা মনে উদ্রেক হওয়ায় গোনাহ হয় না। কিন্তু যদি জেনে-বুঝে মনে এ ধরনের চাহিদা সৃষ্টি করে কিংবা জেনে-বুঝে সে চাহিদা স্থিতিশীল রাখে বা এর বশবর্তী হয়ে শরীয়তবিরোধী কোনো কাজ করে, তবেই কেবল গোনাহ হবে। যেমন জৈবিক চাহিদার কল্পনা মনে আসায় নাজায়েয জায়গায় নজর দিলো, তাহলে গোনাহগার হবে। সকল বাতেনী রোগ ও মন্দ চরিত্রের ব্যাপার এমনই।
📄 হিংসার বশবর্তী হয়ে আমল করা গোনাহ
যেমন হিংসা। আপনার মনে কারো বিরুদ্ধে হিংসা জাগলো। তার সম্পর্কে কোনো ভালো খবর আসায় অন্তরে চিন্তা জাগলো যে, এ এতো উন্নতি করছে কেন? তার টাকা-পয়সা এতো বাড়ছে কেন? তার ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? তার এতো নাম-যশ কেন? মানুষ তাকে এতো মান্য করে কেন? ইত্যাদি। অন্তরে এ ধরনের চিন্তা জাগ্রত হওয়া গোনাহ নয়। কেননা এ চিন্তা ও কল্পনা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে চলে আসে। গোনাহ তখন হবে, যখন এই চিন্তার বশবর্তী হয়ে আপনি ঐ লোকের সাথে কোনো মন্দ ব্যবহার করবেন। উদাহরণস্বরূপ আপনার মনে চিন্তা জাগলো, অমুক লোক আমার চেয়ে অনেক উন্নতি লাভ করছে- ব্যাপারটি পীড়াদায়ক! এক্ষণে আপনি ভাবলেন যে, তার কুৎসা গাইবো, মানুষের সম্মুখে তার দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করবো, তার গীবত করবো। এ সব কাজ করার দ্বারা হিংসা গোনাহে পরিণত হবে। শুধু অন্তরে খেয়াল উদ্রেকের দ্বারা গোনাহ হবে না।
📄 হিংসার দু'টি চিকিৎসা
অবশ্য 'হিংসা' সম্পর্কে ইমাম গাযালী রহ. বলেন, যে লোকের অন্তরে অপরের ব্যাপারে অকল্যাণের চিন্তা জাগবে, তাকে তৎক্ষণাৎ দুটি কাজ করতে হবে। নতুবা হিংসার ফলশ্রুতিতে গোনাহে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রথমতঃ মনে মনে ভাববে, আমার এ চিন্তা খুবই খারাপ। আল্লাহর কাছে দু'আ করে বলবে- হে আল্লাহ! আমার অন্তর থেকে এ চিন্তা দূর করে দিন। দ্বিতীয়তঃ যার ব্যাপারে মনে এই মন্দ চিন্তা জাগবে তার কল্যাণের জন্যে দু'আ করবে। উদাহরণস্বরূপ আপনার অন্তরে এ ব্যাপারে দুঃখ হচ্ছে যে, অমুক লোক আমার চেয়ে উন্নতি লাভ করছে কেন? তার জন্যে দু'আ করবেন- হে আল্লাহ! তাকে আরো উন্নতি দান করুন। এমন করতে আপনার অন্তরে প্রচন্ড কষ্ট হবে। অন্তরে এ চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্য তার চিকিৎসা করা। যদি কারো ধন-দৌলতের কারণে মনে হিংসা আসে, তখন তার উদ্দেশ্য এই দু'আ করবেন- হে আল্লাহ! তার ধন-সম্পদ আরো বাড়িয়ে দিন। যদি কারো পদমর্যদা সম্পর্কে মনে হিংসা আসে, তাহলে এই দু'আ করবেন- হে আল্লাহ! তার পদমর্যদা আরো বাড়িয়ে দিন। উত্তরোত্তর উন্নতি দান করুন। সুতরাং যে কারণে হিংসার উদ্রেক হবে তা বৃদ্ধির জন্যে দু'আ করবেন। হিংসা এলে এ দুটি কাজ করবেন, নয়তো হিংসা কোনো না কোনো সময় মানুষকে ধ্বংস করে ছাড়বে।
মোটকথা, যতো মন্দ চরিত্র আছে, সবগুলোর মূলনীতি হযরত থানভী রহ এ মালফুযে বর্ণনা করেছেন যে, 'শুধুমাত্র প্রকৃতিগত চাহিদার কারণে পাকড়াও করা হবে না। বরং চাহিদামাফিক কাজ করলে পাকড়াও করা হবে। আর তাও তখন, যখন ইচ্ছাকৃতভাবে চাহিদা পূরণ করবে।'