📄 গোনাহের চাহিদা গোনাহ নয়
অপর এক মালফুযে হযরত থানভী রহ. বলেন, ‘প্রকৃতিগত চাহিদার কারণে পাকড়াও করা হবে না, তবে সে অনুপাতে কাজ করলে পাকড়াও করা হবে। তাও ওই সময় যখন ইচ্ছাকৃতভাবে সে অনুপাতে কাজ করবে। আর স্বভাবগত অসহিষ্ণুতায় পরাভূত হয়ে যদি কোনো সময় অসমীচীন কোনো কথা মুখ ফুটে বেরিয়ে যায় এবং পরে এর জন্যে ক্ষমা চায়, তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দেন।" এ মালফূযে হযরত থানভী রহ. অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মূলনীতি বয়ান করেছেন। যার সংক্ষিপ্তসার এই যে, গোনাহের বহিঃপ্রকাশ হয় প্রকৃতিগত চাহিদা অথবা মানুষের ভিতর যে মন্দ চরিত্র আছে তাই মানুষকে গোনাহের প্রতি উৎসাহিত করে। কিছু লোক এরূপ মনে করে যে, গোনাহের ইচ্ছা ও চাহিদা অন্তরে সৃষ্টি হওয়াই গোনাহ। হযরত থানভী রহ. এই ভুল ধারণার অপনোদনপূর্বক বলছেন, অন্তরে চাহিদা বা ইচ্ছা জাগার দ্বারা গোনাহ হয় না, যতোক্ষণ না মানুষ সে চাহিদা অনুপাতে কাজ করে।
টিকাঃ
৫. আনফাসে ঈসা ঃ পৃষ্ঠা ১৯৮
📄 সবার আগে রাগের চিকিৎসা
যেমন রাগ করা খারাপ। এটি এমন একটি ব্যাপার তাসাওউফ ও তরীকতে সবার আগে এর চিকিৎসা করানো হয়। রাগ মানুষের ভিতরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। এজন্যে কোনো আল্লাহর বান্দা যখন ইসলাহের জন্যে কোনো শাইখের নিকট যায়, তখন সবার আগে তার রাগের ইসলাহ করা হয়, যাতে তার রাগ সংবরণ হয়ে যায়।
📄 রাগ ও জৈবিক চাহিদার উপর আমল করা গোনাহ
কিছু লোক মনে করে যে, অন্তরে রাগ সৃষ্টি হওয়াই গোনাহ। হযরত থানভী রহ. ইরশাদ করেন, অন্তরে রাগ সৃষ্টি হলেই গোনাহ হয় না, বরং গোনাহ তখনই হবে যখন সেই রাগের বশবর্তী হয়ে কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করবে। জৈবিকচাহিদার ব্যাপারটিও এমন। জৈবিক চাহিদা মনে উদ্রেক হওয়ায় গোনাহ হয় না। কিন্তু যদি জেনে-বুঝে মনে এ ধরনের চাহিদা সৃষ্টি করে কিংবা জেনে-বুঝে সে চাহিদা স্থিতিশীল রাখে বা এর বশবর্তী হয়ে শরীয়তবিরোধী কোনো কাজ করে, তবেই কেবল গোনাহ হবে। যেমন জৈবিক চাহিদার কল্পনা মনে আসায় নাজায়েয জায়গায় নজর দিলো, তাহলে গোনাহগার হবে। সকল বাতেনী রোগ ও মন্দ চরিত্রের ব্যাপার এমনই।
📄 হিংসার বশবর্তী হয়ে আমল করা গোনাহ
যেমন হিংসা। আপনার মনে কারো বিরুদ্ধে হিংসা জাগলো। তার সম্পর্কে কোনো ভালো খবর আসায় অন্তরে চিন্তা জাগলো যে, এ এতো উন্নতি করছে কেন? তার টাকা-পয়সা এতো বাড়ছে কেন? তার ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? তার এতো নাম-যশ কেন? মানুষ তাকে এতো মান্য করে কেন? ইত্যাদি। অন্তরে এ ধরনের চিন্তা জাগ্রত হওয়া গোনাহ নয়। কেননা এ চিন্তা ও কল্পনা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে চলে আসে। গোনাহ তখন হবে, যখন এই চিন্তার বশবর্তী হয়ে আপনি ঐ লোকের সাথে কোনো মন্দ ব্যবহার করবেন। উদাহরণস্বরূপ আপনার মনে চিন্তা জাগলো, অমুক লোক আমার চেয়ে অনেক উন্নতি লাভ করছে- ব্যাপারটি পীড়াদায়ক! এক্ষণে আপনি ভাবলেন যে, তার কুৎসা গাইবো, মানুষের সম্মুখে তার দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করবো, তার গীবত করবো। এ সব কাজ করার দ্বারা হিংসা গোনাহে পরিণত হবে। শুধু অন্তরে খেয়াল উদ্রেকের দ্বারা গোনাহ হবে না।