📄 সার সংক্ষেপ
সারকথা হলো, নেক আমলকে আল্লাহ তা'আলা সগীরা গোনাহ ক্ষমার রাস্তা সাব্যস্ত করেছেন। যে সমস্ত কবীরা গোনাহের সম্পর্ক আল্লাহর হকের সাথে এবং যার ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়, এর ক্ষমা পেতে তওবা করতে হবে। আর যে কবীরা গোনাহের সম্পর্ক বান্দার হকের সাথে, কিংবা যার সম্পর্ক আল্লাহর এমন হকের সঙ্গে যার ক্ষতিপূরণ সম্ভব, তা থেকে দায়মুক্তির জন্যে গুরুত্ব সহকারে দায়মুক্তির পদক্ষেপ শুরু করে দিবে। এর পাশাপাশি এই অসীয়তও করবে যে, আমি যদি মানুষের হকসমূহের সব শোধ না করতে পারি তাহলে আমার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করে দিবে। এতোটুকু করলে বান্দা তার করণীয় সবটুকু করলো। এরপর আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করে বলা যায়, তিনি সকল বাধা দূর করে দিবেন।
📄 গোনাহের চাহিদা গোনাহ নয়
অপর এক মালফুযে হযরত থানভী রহ. বলেন, ‘প্রকৃতিগত চাহিদার কারণে পাকড়াও করা হবে না, তবে সে অনুপাতে কাজ করলে পাকড়াও করা হবে। তাও ওই সময় যখন ইচ্ছাকৃতভাবে সে অনুপাতে কাজ করবে। আর স্বভাবগত অসহিষ্ণুতায় পরাভূত হয়ে যদি কোনো সময় অসমীচীন কোনো কথা মুখ ফুটে বেরিয়ে যায় এবং পরে এর জন্যে ক্ষমা চায়, তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দেন।" এ মালফূযে হযরত থানভী রহ. অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মূলনীতি বয়ান করেছেন। যার সংক্ষিপ্তসার এই যে, গোনাহের বহিঃপ্রকাশ হয় প্রকৃতিগত চাহিদা অথবা মানুষের ভিতর যে মন্দ চরিত্র আছে তাই মানুষকে গোনাহের প্রতি উৎসাহিত করে। কিছু লোক এরূপ মনে করে যে, গোনাহের ইচ্ছা ও চাহিদা অন্তরে সৃষ্টি হওয়াই গোনাহ। হযরত থানভী রহ. এই ভুল ধারণার অপনোদনপূর্বক বলছেন, অন্তরে চাহিদা বা ইচ্ছা জাগার দ্বারা গোনাহ হয় না, যতোক্ষণ না মানুষ সে চাহিদা অনুপাতে কাজ করে।
টিকাঃ
৫. আনফাসে ঈসা ঃ পৃষ্ঠা ১৯৮
📄 সবার আগে রাগের চিকিৎসা
যেমন রাগ করা খারাপ। এটি এমন একটি ব্যাপার তাসাওউফ ও তরীকতে সবার আগে এর চিকিৎসা করানো হয়। রাগ মানুষের ভিতরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। এজন্যে কোনো আল্লাহর বান্দা যখন ইসলাহের জন্যে কোনো শাইখের নিকট যায়, তখন সবার আগে তার রাগের ইসলাহ করা হয়, যাতে তার রাগ সংবরণ হয়ে যায়।
📄 রাগ ও জৈবিক চাহিদার উপর আমল করা গোনাহ
কিছু লোক মনে করে যে, অন্তরে রাগ সৃষ্টি হওয়াই গোনাহ। হযরত থানভী রহ. ইরশাদ করেন, অন্তরে রাগ সৃষ্টি হলেই গোনাহ হয় না, বরং গোনাহ তখনই হবে যখন সেই রাগের বশবর্তী হয়ে কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করবে। জৈবিকচাহিদার ব্যাপারটিও এমন। জৈবিক চাহিদা মনে উদ্রেক হওয়ায় গোনাহ হয় না। কিন্তু যদি জেনে-বুঝে মনে এ ধরনের চাহিদা সৃষ্টি করে কিংবা জেনে-বুঝে সে চাহিদা স্থিতিশীল রাখে বা এর বশবর্তী হয়ে শরীয়তবিরোধী কোনো কাজ করে, তবেই কেবল গোনাহ হবে। যেমন জৈবিক চাহিদার কল্পনা মনে আসায় নাজায়েয জায়গায় নজর দিলো, তাহলে গোনাহগার হবে। সকল বাতেনী রোগ ও মন্দ চরিত্রের ব্যাপার এমনই।