📄 পরিমাপ করার কী দরকার ছিলো?
উক্ত ঘটনায় আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, উভয় দিক থেকে রাস্তা পরিমাপ করে দেখো কোন বসতি অধিক নিকটবর্তী। এর দ্বারা প্রশ্ন হয় যে, আল্লাহ তা'আলার যখন ক্ষমা করার ইচ্ছাই ছিলো তখন পরিমাপ করার কী দরকার ছিলো? ঐ লোকের মৃত্যু যদি এক-দুই গজ পূর্বে হতো, তাহলেও তো সে তওবার ইচ্ছা করে ছিলো এবং চেষ্টা শুরু করে দিয়েছিলো। সুতরাং পরিমাপ করানো এবং দূর ও নিকটের মানদন্ডে ফয়সালা করার কী প্রয়োজন ছিলো? প্রশ্নটি আমার মনে বহুদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছিলো এবং আমি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরছিলাম।
📄 'বান্দার হক' শোধ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ শর্ত
পরবর্তীতে আল্লাহ পাক আমার অন্তরে এই উত্তর ঢেলে দেন যে, পরিমাপ করানোর উদ্দেশ্য এই নয় যে, তার পর ফয়সালা করা হবে, বরং ক্ষমার ফয়সালা তো আগেই করা হয়েছে। তার প্রতি দয়ার ফয়সালা পূর্বেই হয়েছে। কিন্তু মানুষকে একথা বলার জন্যে পরিমাপ করানো হয় যে, ক্ষমার ফয়সালা তখন হবে, যখন মানুষ আত্ম-সংশোধন ও পরিবর্তনের জন্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এমনটি নয় যে, কেউ আত্মসংশোধন ও পরিবর্তনের দায়সারা পদক্ষেপ নিয়ে অলসতা করতে থাকলো। তাহলে ক্ষমার ব্যাপার আসবে না। সুতরাং উক্ত ঘটনা দ্বারা বলা হচ্ছে, ইসলাহের সংকল্প নিয়ে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পথ অতিক্রম করতে হবে। তবেই কেবল আল্লাহর রহমত আসবে। এমন নয় যে, কারো ওয়ায- নসীহত শুনে ওই নসীহতের উপর আমল করার ইচ্ছা করলো, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করলো না। এ ধরনের সংকল্পের কোনো মূল্য নেই। সুতরাং বান্দাদেরকে একথা বুঝানোর জন্যে আল্লাহ তা'আলা হুকুম করেছেন যে, জমিনটি পরিমাপ করো এবং দেখো সে সন্তোষজনক পরিমাণ রাস্তা অতিক্রম করেছে কি না? পরিমাপ করার পর জানা গেলো সে সন্তোষজনক পরিমাণ রাস্তা অতিক্রম করেছে। এরপরই তার ক্ষমার সিন্ধান্ত দেওয়া হয়।
📄 সার সংক্ষেপ
সারকথা হলো, নেক আমলকে আল্লাহ তা'আলা সগীরা গোনাহ ক্ষমার রাস্তা সাব্যস্ত করেছেন। যে সমস্ত কবীরা গোনাহের সম্পর্ক আল্লাহর হকের সাথে এবং যার ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়, এর ক্ষমা পেতে তওবা করতে হবে। আর যে কবীরা গোনাহের সম্পর্ক বান্দার হকের সাথে, কিংবা যার সম্পর্ক আল্লাহর এমন হকের সঙ্গে যার ক্ষতিপূরণ সম্ভব, তা থেকে দায়মুক্তির জন্যে গুরুত্ব সহকারে দায়মুক্তির পদক্ষেপ শুরু করে দিবে। এর পাশাপাশি এই অসীয়তও করবে যে, আমি যদি মানুষের হকসমূহের সব শোধ না করতে পারি তাহলে আমার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করে দিবে। এতোটুকু করলে বান্দা তার করণীয় সবটুকু করলো। এরপর আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করে বলা যায়, তিনি সকল বাধা দূর করে দিবেন।
📄 গোনাহের চাহিদা গোনাহ নয়
অপর এক মালফুযে হযরত থানভী রহ. বলেন, ‘প্রকৃতিগত চাহিদার কারণে পাকড়াও করা হবে না, তবে সে অনুপাতে কাজ করলে পাকড়াও করা হবে। তাও ওই সময় যখন ইচ্ছাকৃতভাবে সে অনুপাতে কাজ করবে। আর স্বভাবগত অসহিষ্ণুতায় পরাভূত হয়ে যদি কোনো সময় অসমীচীন কোনো কথা মুখ ফুটে বেরিয়ে যায় এবং পরে এর জন্যে ক্ষমা চায়, তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দেন।" এ মালফূযে হযরত থানভী রহ. অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মূলনীতি বয়ান করেছেন। যার সংক্ষিপ্তসার এই যে, গোনাহের বহিঃপ্রকাশ হয় প্রকৃতিগত চাহিদা অথবা মানুষের ভিতর যে মন্দ চরিত্র আছে তাই মানুষকে গোনাহের প্রতি উৎসাহিত করে। কিছু লোক এরূপ মনে করে যে, গোনাহের ইচ্ছা ও চাহিদা অন্তরে সৃষ্টি হওয়াই গোনাহ। হযরত থানভী রহ. এই ভুল ধারণার অপনোদনপূর্বক বলছেন, অন্তরে চাহিদা বা ইচ্ছা জাগার দ্বারা গোনাহ হয় না, যতোক্ষণ না মানুষ সে চাহিদা অনুপাতে কাজ করে।
টিকাঃ
৫. আনফাসে ঈসা ঃ পৃষ্ঠা ১৯৮