📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আল্লাহ তা'আলার ফয়সালা

📄 আল্লাহ তা'আলার ফয়সালা


উভয় দল ঝগড়ায় লিপ্ত হলে আল্লাহ তা'আলা সিদ্ধান্ত দিলেন, যেখান থেকে এই লোক চলা শুরু করেছিলো এবং যে জনপদে যাচ্ছিলো এর মধ্যেকার দূরত্ব পরিমাপ করো। আর দেখো, যে বসতি থেকে রওয়ানা করেছিলো তা কাছে, নাকি যে বসতির দিকে যাচ্ছিলো তা কাছে? যে বসতির নিকটবর্তী সে অনুযায়ী কাজ করো।
সুতরাং উভয় বসতির দূরত্ব পরিমাপ করা হলো। দেখা গেলো, যে বসতির দিকে সে যাচ্ছিলো সেটা নিকটবর্তী। যে গন্তব্যের উদ্দেশ্য সে যাচ্ছিলো সে দিকে অর্ধেকের চেয়ে এক গজ বেশি অতিক্রম করেছিলো। আল্লাহ তা'আলার হুকুমে রহমতের ফেরেশতাগণ তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এ ঘটনা দ্বারা হযরত থানভী রহ.-এর দলিল উপস্থাপন

📄 এ ঘটনা দ্বারা হযরত থানভী রহ.-এর দলিল উপস্থাপন


হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী রহ. উপরোক্ত ঘটনা দলিলস্বরূপ পেশ করে বলেন, ঐ লোক যে একশ মানুষকে হত্যা করেছিলো, তা ছিলো বান্দার হক। যেহেতু সে বান্দার হক আদায়ের জন্যে পরিপক্ক ইরাদা করেছিলো সেজন্যে আল্লাহ তা'আলা তার তওবা কবুল করেন এবং ক্ষমা করে দেন। পক্ষান্তরে যাদেরকে হত্যা করেছিলো কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে সন্তুষ্ট করে দিবেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 পরিমাপ করার কী দরকার ছিলো?

📄 পরিমাপ করার কী দরকার ছিলো?


উক্ত ঘটনায় আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, উভয় দিক থেকে রাস্তা পরিমাপ করে দেখো কোন বসতি অধিক নিকটবর্তী। এর দ্বারা প্রশ্ন হয় যে, আল্লাহ তা'আলার যখন ক্ষমা করার ইচ্ছাই ছিলো তখন পরিমাপ করার কী দরকার ছিলো? ঐ লোকের মৃত্যু যদি এক-দুই গজ পূর্বে হতো, তাহলেও তো সে তওবার ইচ্ছা করে ছিলো এবং চেষ্টা শুরু করে দিয়েছিলো। সুতরাং পরিমাপ করানো এবং দূর ও নিকটের মানদন্ডে ফয়সালা করার কী প্রয়োজন ছিলো? প্রশ্নটি আমার মনে বহুদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছিলো এবং আমি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফিরছিলাম।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 'বান্দার হক' শোধ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ শর্ত

📄 'বান্দার হক' শোধ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ শর্ত


পরবর্তীতে আল্লাহ পাক আমার অন্তরে এই উত্তর ঢেলে দেন যে, পরিমাপ করানোর উদ্দেশ্য এই নয় যে, তার পর ফয়সালা করা হবে, বরং ক্ষমার ফয়সালা তো আগেই করা হয়েছে। তার প্রতি দয়ার ফয়সালা পূর্বেই হয়েছে। কিন্তু মানুষকে একথা বলার জন্যে পরিমাপ করানো হয় যে, ক্ষমার ফয়সালা তখন হবে, যখন মানুষ আত্ম-সংশোধন ও পরিবর্তনের জন্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এমনটি নয় যে, কেউ আত্মসংশোধন ও পরিবর্তনের দায়সারা পদক্ষেপ নিয়ে অলসতা করতে থাকলো। তাহলে ক্ষমার ব্যাপার আসবে না। সুতরাং উক্ত ঘটনা দ্বারা বলা হচ্ছে, ইসলাহের সংকল্প নিয়ে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পথ অতিক্রম করতে হবে। তবেই কেবল আল্লাহর রহমত আসবে। এমন নয় যে, কারো ওয়ায- নসীহত শুনে ওই নসীহতের উপর আমল করার ইচ্ছা করলো, কিন্তু বাস্তবে কিছুই করলো না। এ ধরনের সংকল্পের কোনো মূল্য নেই। সুতরাং বান্দাদেরকে একথা বুঝানোর জন্যে আল্লাহ তা'আলা হুকুম করেছেন যে, জমিনটি পরিমাপ করো এবং দেখো সে সন্তোষজনক পরিমাণ রাস্তা অতিক্রম করেছে কি না? পরিমাপ করার পর জানা গেলো সে সন্তোষজনক পরিমাণ রাস্তা অতিক্রম করেছে। এরপরই তার ক্ষমার সিন্ধান্ত দেওয়া হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00