📄 শতক পুরা করলো
মোটকথা, ৯৯জন লোক হত্যার পর তার চিন্তা হলো এখন আমি কী করবো। সুতরাং সে জনৈক খ্রিস্টান পাদ্রীর কাছে গেলো। বললো, আমি ৯৯ জন মানুষ হত্যা করেছি। আমার নাজাতের কোনো রাস্তা থাকলে বলুন। পাদ্রী বললেন, তোমার নাজাতের কোনো পথ নেই। কেননা, একজন লোককে হত্যা করাই মহাপাপ, আর সেখানে তুমি ৯৯ জনকে হত্যা করেছ। কাজেই নাজাতের কোনোও পথ নেই। জাহান্নাম অবধারিত তোমার। লোকটা রেগে গেলো। ভাবলো, এলাম নাজাতের পথ খুঁজতে, আর সে কি-না বলছে পথ নেই। নাজাতের পথ যখন নেই, তখন আর শতক পুরা করতে অসুবিধে কী? সুতরাং সে পাদ্রীকেও হত্যা করলো।
📄 রহমত ও আযাবের ফেরেশতার ঝগড়া
পথে আরেক পাদ্রীর কাছে গেলো। বললো, আমি একশ লোক হত্যা করেছি, নাজাতের পথ বাতলে দিন। ওই পাদ্রী বললো, তুমি তওবা করো, ক্ষমা চাও। আরেকটি কাজ করো, অমুক জনপদে বহু নেককার লোক আছেন, সেখানে গিয়ে বসবাস করো। পাদ্রীর আশা, লোকটা জনপদের নেককার লোকদের সংসর্গে থাকলে তার অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং কৃত গোনাহের প্রায়ান্চিত্বের চেষ্টা করবে। লোকটা পাদ্রীর কথামতো ঐ জনপদের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
পথিমধ্যে লোকটার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো এবং সে মরে গেলো। হাদীস শরীফে এসেছে, এ ব্যাপারে রহমত ও আযাবের ফেরেশতাদের মাঝে ঝগড়া হলো। আযাবের ফেরেশতাগণ বললেন, এ লোক একশ মানুষের হত্যাকারী। অতএব সে আমাদের অধীন, তাকে আমরা জাহান্নামে নিয়ে যাবো। রহমতের ফেরেশতারা বললেন, লোকটা তওবা করে নেককার হওয়ার জন্যে চলছিলো। সুতরাং সে আমাদের অধীন, তাকে আমরা জান্নাতে নিয়ে যাবো।
📄 আল্লাহ তা'আলার ফয়সালা
উভয় দল ঝগড়ায় লিপ্ত হলে আল্লাহ তা'আলা সিদ্ধান্ত দিলেন, যেখান থেকে এই লোক চলা শুরু করেছিলো এবং যে জনপদে যাচ্ছিলো এর মধ্যেকার দূরত্ব পরিমাপ করো। আর দেখো, যে বসতি থেকে রওয়ানা করেছিলো তা কাছে, নাকি যে বসতির দিকে যাচ্ছিলো তা কাছে? যে বসতির নিকটবর্তী সে অনুযায়ী কাজ করো।
সুতরাং উভয় বসতির দূরত্ব পরিমাপ করা হলো। দেখা গেলো, যে বসতির দিকে সে যাচ্ছিলো সেটা নিকটবর্তী। যে গন্তব্যের উদ্দেশ্য সে যাচ্ছিলো সে দিকে অর্ধেকের চেয়ে এক গজ বেশি অতিক্রম করেছিলো। আল্লাহ তা'আলার হুকুমে রহমতের ফেরেশতাগণ তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
📄 এ ঘটনা দ্বারা হযরত থানভী রহ.-এর দলিল উপস্থাপন
হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী রহ. উপরোক্ত ঘটনা দলিলস্বরূপ পেশ করে বলেন, ঐ লোক যে একশ মানুষকে হত্যা করেছিলো, তা ছিলো বান্দার হক। যেহেতু সে বান্দার হক আদায়ের জন্যে পরিপক্ক ইরাদা করেছিলো সেজন্যে আল্লাহ তা'আলা তার তওবা কবুল করেন এবং ক্ষমা করে দেন। পক্ষান্তরে যাদেরকে হত্যা করেছিলো কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে সন্তুষ্ট করে দিবেন।