📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 শতো মানুষ হত্যাকারী ব্যক্তির কাহিনী

📄 শতো মানুষ হত্যাকারী ব্যক্তির কাহিনী


এ সম্পর্কে হযরত থানভী রহ. বিখ্যাত একটি ঘটনাকে দলিলস্বরূপ পেশ করেন, যা হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। ঘটনাটি এই যে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জনৈক উম্মত একশ' মানুষ হত্যা করে। ৯৯ জনকে হত্যা করার পর তার মনে অনুশোচনা জাগে। আল্লাহর ভয়ে লজ্জিত হয়। বলে- হায় আল্লাহ! আমি এ কি করেছি! একজন মানুষকে হত্যা করা গোটা মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল। মানব হত্যার সাজা কুরআনুল কারীমে যে আঙ্গিকে বর্ণনা করা হয়েছে, অন্য কোনোও সাজা এভাবে বর্ণনা করা হয়নি। ইরশাদ হচ্ছে,
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَلِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَابًا عَظِيمًا
'যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে তার পরিণতি জাহান্নাম। অনন্তকাল সে ওখানে থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তার প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে মারাত্মক আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন। '৪ কুফর ও মানবহত্যা ছাড়া এমন শব্দ আর কোনোও শাস্তির বেলায় প্রয়োগ করা হয়নি।

টিকাঃ
৪. নিসা : ৯৩

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 শতক পুরা করলো

📄 শতক পুরা করলো


মোটকথা, ৯৯জন লোক হত্যার পর তার চিন্তা হলো এখন আমি কী করবো। সুতরাং সে জনৈক খ্রিস্টান পাদ্রীর কাছে গেলো। বললো, আমি ৯৯ জন মানুষ হত্যা করেছি। আমার নাজাতের কোনো রাস্তা থাকলে বলুন। পাদ্রী বললেন, তোমার নাজাতের কোনো পথ নেই। কেননা, একজন লোককে হত্যা করাই মহাপাপ, আর সেখানে তুমি ৯৯ জনকে হত্যা করেছ। কাজেই নাজাতের কোনোও পথ নেই। জাহান্নাম অবধারিত তোমার। লোকটা রেগে গেলো। ভাবলো, এলাম নাজাতের পথ খুঁজতে, আর সে কি-না বলছে পথ নেই। নাজাতের পথ যখন নেই, তখন আর শতক পুরা করতে অসুবিধে কী? সুতরাং সে পাদ্রীকেও হত্যা করলো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 রহমত ও আযাবের ফেরেশতার ঝগড়া

📄 রহমত ও আযাবের ফেরেশতার ঝগড়া


পথে আরেক পাদ্রীর কাছে গেলো। বললো, আমি একশ লোক হত্যা করেছি, নাজাতের পথ বাতলে দিন। ওই পাদ্রী বললো, তুমি তওবা করো, ক্ষমা চাও। আরেকটি কাজ করো, অমুক জনপদে বহু নেককার লোক আছেন, সেখানে গিয়ে বসবাস করো। পাদ্রীর আশা, লোকটা জনপদের নেককার লোকদের সংসর্গে থাকলে তার অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে এবং কৃত গোনাহের প্রায়ান্চিত্বের চেষ্টা করবে। লোকটা পাদ্রীর কথামতো ঐ জনপদের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
পথিমধ্যে লোকটার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো এবং সে মরে গেলো। হাদীস শরীফে এসেছে, এ ব্যাপারে রহমত ও আযাবের ফেরেশতাদের মাঝে ঝগড়া হলো। আযাবের ফেরেশতাগণ বললেন, এ লোক একশ মানুষের হত্যাকারী। অতএব সে আমাদের অধীন, তাকে আমরা জাহান্নামে নিয়ে যাবো। রহমতের ফেরেশতারা বললেন, লোকটা তওবা করে নেককার হওয়ার জন্যে চলছিলো। সুতরাং সে আমাদের অধীন, তাকে আমরা জান্নাতে নিয়ে যাবো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 আল্লাহ তা'আলার ফয়সালা

📄 আল্লাহ তা'আলার ফয়সালা


উভয় দল ঝগড়ায় লিপ্ত হলে আল্লাহ তা'আলা সিদ্ধান্ত দিলেন, যেখান থেকে এই লোক চলা শুরু করেছিলো এবং যে জনপদে যাচ্ছিলো এর মধ্যেকার দূরত্ব পরিমাপ করো। আর দেখো, যে বসতি থেকে রওয়ানা করেছিলো তা কাছে, নাকি যে বসতির দিকে যাচ্ছিলো তা কাছে? যে বসতির নিকটবর্তী সে অনুযায়ী কাজ করো।
সুতরাং উভয় বসতির দূরত্ব পরিমাপ করা হলো। দেখা গেলো, যে বসতির দিকে সে যাচ্ছিলো সেটা নিকটবর্তী। যে গন্তব্যের উদ্দেশ্য সে যাচ্ছিলো সে দিকে অর্ধেকের চেয়ে এক গজ বেশি অতিক্রম করেছিলো। আল্লাহ তা'আলার হুকুমে রহমতের ফেরেশতাগণ তাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00