📄 'বান্দার হক' এবং 'আল্লাহর কিছু হক' শুধু তওবা দ্বারা মাফ হয় না
তিনি আরো বলেন, কিন্তু 'আ'মালে সালেহা' বা 'তওবা' দ্বারা 'অন্যের হক' মাফ হয় না। 'অন্যের হক' দ্বারা উদ্দেশ্য 'বান্দার হক' আর 'আল্লাহর এমন কিছু হক' যা পুরা করা সম্ভব। যেমন কোনো সুস্থ ব্যক্তির নামায ছুটে গেলো। এ নামায কাযা করা সম্ভব। সুতরাং নামায মাফ হবে না। কিংবা যাকাত ওয়াজিব হয়েছে অথচ যাকাত আদায় করা হয়নি, তাহলে যাকাত মাফ হবে না। হজ্ব ওয়াজিব হয়েছিলো, আদায় করা হয়নি, তা মাফ হবে না। রোযা ওয়াজিব হয়েছিলো, আদায় করা হয়নি- তাও মাফ হবে না। মোটকথা, আল্লাহ তা'আলার যে সব হক পুরা করা সম্ভব তা তওবা দ্বারা মাফ হবে না। আর বান্দার হক বান্দা ক্ষমা করা ছাড়া কিংবা হক পুরা করা ছাড়া মাফ হবে না।
📄 অতীতের আদায়যোগ্য সব হক আদায় শুরু করে দাও
হযরত থানভী রহ. বলেন, মানুষ তওবা করার পর যদি মনে করে যে, ব্যস, আমার উদ্দেশ্য লাভ হয়েছে, আমাকে আর কিছু করতে হবে না- এটা হবে নিছক ভুল ধারণা ও আত্মপ্রবঞ্চনা। তওবা করার পর বরং দেখতে হবে আমার জিম্মায় আল্লাহর কিংবা বান্দার কী কী হক রয়েছে। তওবা করার পর সে সমস্ত হক পরিশোধ করতে আরম্ভ করো। যার পদ্ধতি তওবার বয়ান শুরু করতে গিয়ে আরয করেছিলাম যে, একটা খাতা বানাবে, ওই খাতায় লেখবে- আমার জিম্মায় অমুকের অমুকের পাওনা আছে। এ পরিমাণ নামায অনাদায়ী আছে। এ পরিমাণ রোযা ও যাকাত অনাদায়ী আছে। অমুকে এতো ঋণ পাবে। আজ থেকে আমি সে সব পরিশোধ করতে আরম্ভ করেছি। সমপূর্ণ পরিশোধ করার পূর্বেই যদি আমি মারা যাই তাহলে আমার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে ওই ইবাদতের ফিদ্ইয়া ও ঋণ আদায় করে দিতে হবে।
📄 সব হক মেটানোর পূর্বেই মৃত্যু এসে গেলে
যদি এ লোক নামায আদায় শুরু করে দেয়, রোযা-যাকাত আদায় শুরু করে দেয়, মানুষের প্রাপ্য অধিকারসমূহ শোধ করতে থাকে, তার সম্পর্কে থানভী রহ. বলেন, এই প্রচেষ্টাকালীন লোকটা যদি মারা যায়, অর্থাৎ, সব ইবাদতের কাযা আদায় করা এবং সব হক পরিশোধ করার পূর্বেই যদি লোকটা মারা যায়, তাহলে আল্লাহর রহমতের উপর আশা রেখে বলা যায়- তিনি একে মাফ করে দেবেন। মাফ করার পদ্ধতি এই হবে যে, যে সব লোকের অধিকার তার জিম্মায় ছিলো ওই সব বান্দাকে বলে দেবেন যে, ও আমার বান্দা। ওর দায়িত্বে থাকা হকসমূহ আদায় করা শুরু করেছিলো। চেষ্টার কোনো কমতি করেনি, কিন্তু ওর হায়াত ফুরিয়ে গিয়েছিলো, যদ্দরুন সব হক আদায় করতে পারেনি। তবে যেহেতু নিষ্ঠার সাথে আদায় শুরু করেছিলো এজন্যে আরো বড়ো অনুদান দিয়ে তোমাদের রাজী-খুশি করে দিচ্ছি। সুতরাং তাকে তোমরা মাফ করে দাও।
📄 বান্দার হক মাফ করানোর উপায়
হযরত থানভী রহ. তাঁর মালফুযে সংক্ষেপে এ কথাগুলো বলেছেন। আরেকটি ওয়াজে তিনি একথা বিস্তারিত আকারে বর্ণনা করেছেন। সেখানে আছে- হক আদায় করা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট থেকে মাফ করিয়ে নেওয়া ছাড়া বান্দার হক আদায়ের কোনো উপায় নেই। এর দরুণ অনেক সময় মানুষের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয় যে, আমার কাছে এতো এতো মানুষ পাওনাদার আছে। আজ থেকেও যদি এই পাওনা মেটানো শুরু করি, তাহলেও সারা জীবনে তা মেটানো সম্ভব নয়। অন্তরে যখন এ ধরনের হতাশা একবার সৃষ্টি হয়ে যায়, তখন সামান্য কিছু যা মেটানো সম্ভব হতো, তা থেকেও মানুষ নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকে।