📄 গোনাহে সগীরা মাফ করার পদ্ধতি
এই মালফূযে হযরত থানভী রহ. প্রথমে একথা বর্ণনা করেন যে, আ'মালে সালেহা অর্থাৎ, সৎকর্ম দ্বারা গোনাহ মাফ হয় এবং তওবা দ্বারাও মাফ হয়। উভয়ের মধ্যে পার্থক্যে এই যে, নেক আমল দ্বারা শুধু গোনাহে সগীরা মাফ হয়, আর তওবা দ্বারা গোনাহে কবীরাও মাফ হয়। গোনাহে সগীরা আল্লাহ তা'আলা নেক কাজের বদৌলতে এমনিতেই মাফ করে থাকেন। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে যে, মানুষ যখন ওযু করে এবং হাত ধোয়, তখন হাত দ্বারা কৃত গোনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়। চেহারা ধোয়ার দ্বারা চোখ দ্বারা কৃত গোনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়। পা ধোয়ার দ্বারা চলাফেরার সময় হওয়া গোনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়। অবশ্য উক্ত হাদীসে বর্ণিত গোনাহ দ্বারা গোনাহে সগীরা উদ্দেশ্য, যা আল্লাহ পাক এভাবে মাফ করে থাকেন।
টিকাঃ
* ইসলাহী মাজালিস, খন্ডঃ ৬, পৃঃ ৫২-৭০, যোহরের নামাযের পর, রমাযানুম মোবারক, জামে মসজিদ দারুল উলূম, করাচী
১. আনফাসে ঈসাঃ ১৯৮ পৃষ্ঠা
📄 ইবাদত দ্বারা গোনাহে সগীরা মাফ হয়ে যায়
হাদীস শরীফে এসেছে, মানুষ যখন নামায পড়ার জন্যে মসজিদে যায় তখন প্রতিটি কদমে আল্লাহ পাক গোনাহ মাফ করে দেন। এর দ্বারাও উদ্দেশ্য সগীরা গোনাহ। এভাবে নামায পড়ার দ্বারাও সগীরা গোনাহ মাফ হয়ে যায়।
একবার জনৈক সাহাবী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে আরয করেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! মারাত্মক ভুল করে ফেলিছি। পরে একটি গোনাহে সগীরার কথা বর্ণনা করে বললেন, আমার থেকে গোনাহটি হয়ে গিয়েছে।
তিনি ইরশাদ করলেন, ঐ গোনাহের পরে তুমি কী আমার সাথে মসজিদে নামায পড়োনি?
তিনি আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নামায তো পড়েছি। ইরশাদ হলো, ব্যস, নামায পড়ার দ্বারা তোমার ঐ গোনাহ মাফ হয়ে গিয়েছে। পরে তিনি কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন, ২
إِنَّ الْحَسَنَتِ يُذْهِبْنَ السَّيَأْتِ 'নেক কাজ বদ কাজকে খতম করে দেয়।'
মানুষ নেককাজ করামাত্রই তার গোনাহে সগীরা মাফ হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলার রহমতের ব্যবস্থাপনা এমনই যে, গোনাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষমা হতে থাকে। তবে এগুলো সবই সগীরা গোনাহের বেলায় প্রযোজ্য।
টিকাঃ
২. সহীহ বুখারীঃ হাদীসঃ ৪৯৫, সহীহ মুসলিমঃ হাদীসঃ ৪৯৬৩, সুনানে তিরমিযীঃ হাদীসঃ ৩০৩৭, সুনানে ইবনে মাজাহঃ হাদীসঃ ১৩৮৮
৩. হুদঃ ১১৪
📄 গোনাহে কবীরার জন্য তওবা জরুরী
কবীরা গোনাহ তওবা ছাড়া মাফ হয় না। তবে আল্লাহ পাক স্বীয় করুণা বলে তওবা ব্যতিরেকে যদি কাউকে মাফ করে দেন, সেটা রুখবে কে? কিন্তু নিয়ম ও পদ্ধতি এই যে, গোনাহে কবীরা তওবা ছাড়া মাফ হয় না। উক্ত বাণীতে হযরত থানভী রহ. যে বলেছেন, 'আ'মালে সালেহা' বা 'তওবা' দ্বারা গোনাহ মাফ হয়ে যায়- এর মর্ম এই যে, আ'মালে সালেহা দ্বারা সগীরা গোনাহ, আর তওবা দ্বারা কবীরা গোনাহ মাফ হয়ে যায়।
📄 'বান্দার হক' এবং 'আল্লাহর কিছু হক' শুধু তওবা দ্বারা মাফ হয় না
তিনি আরো বলেন, কিন্তু 'আ'মালে সালেহা' বা 'তওবা' দ্বারা 'অন্যের হক' মাফ হয় না। 'অন্যের হক' দ্বারা উদ্দেশ্য 'বান্দার হক' আর 'আল্লাহর এমন কিছু হক' যা পুরা করা সম্ভব। যেমন কোনো সুস্থ ব্যক্তির নামায ছুটে গেলো। এ নামায কাযা করা সম্ভব। সুতরাং নামায মাফ হবে না। কিংবা যাকাত ওয়াজিব হয়েছে অথচ যাকাত আদায় করা হয়নি, তাহলে যাকাত মাফ হবে না। হজ্ব ওয়াজিব হয়েছিলো, আদায় করা হয়নি, তা মাফ হবে না। রোযা ওয়াজিব হয়েছিলো, আদায় করা হয়নি- তাও মাফ হবে না। মোটকথা, আল্লাহ তা'আলার যে সব হক পুরা করা সম্ভব তা তওবা দ্বারা মাফ হবে না। আর বান্দার হক বান্দা ক্ষমা করা ছাড়া কিংবা হক পুরা করা ছাড়া মাফ হবে না।