📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মুসলমানকে হত্যা করার শাস্তি

📄 মুসলমানকে হত্যা করার শাস্তি


আজ আমরা অভ্যাসগত কিছু ইবাদতের নাম দিয়েছি দ্বীন। কিন্তু দ্বীনের বিস্তৃত যেই শিক্ষা কুরআনে কারীম আমাদেরকে দান করে, আমরা তা থেকে কেবল গাফেলই নই, বরং তাকে দ্বীনের অংশ বলে স্বীকার করতেও প্রস্তুত নই। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خٰلِدًا فِیْهَا 'যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে জেনে-শুনে হত্যা করবে তার শাস্তি জাহান্নাম, তার মধ্যে সে চিরদিন অবস্থান করবে।'৭ অন্যত্র ইরশাদ করেন, مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا 'যদি কোনো ব্যক্তি কোনো একজন মানুষকে কাউকে হত্যা করা বা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করা ব্যতীত হত্যা করে, তাহলে ঐ ব্যক্তি এমন, যেমন কি না সে সমস্ত মানুষকে হত্যা করেছে।'৮ যেই দ্বীনের মধ্যে এমন সব হেদায়েত রয়েছে, সেই দ্বীনের অনুসারী হয়ে একে অপরকে হত্যা করার কাজে জড়িত। এতো বড়ো আপদ আজ আমাদের উপর চেপে বসেছে! আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় আমাদেরকে এ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন।

টিকাঃ
৭. নিসা: ৯৩
৮. মায়েদা: ৩২

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এসময় কাউকে সঙ্গ দিবে না

📄 এসময় কাউকে সঙ্গ দিবে না


এ সম্পর্কে শেষ কথা এই বলছি যে, কুরআনের আয়াতে যে হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, জালেমের পক্ষ অবলম্বন করবে না, বরং মাজলুমের পক্ষ অবলম্বন করবে এ হুকুম তখন, যখন একথা স্পষ্টভাবে জানা যাবে যে, এ ব্যক্তি ন্যায়ের উপর আছে এবং অপর ব্যক্তি আছে অন্যায়ের উপর। তখন ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিকে সঙ্গ দেওয়া ফরয। কিন্তু অনেক সময় এমন হয় যে, সেখানে হক পরিষ্কার হয় না। যেমন দুই দল পরস্পরে লড়ছে, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না যে, কে হকের উপর, আর কে বাতিলের উপর আছে? এমন অবস্থা সম্পর্কে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ইরশাদ করেছেন যে, এমন এক সময় আসবে, যখন দুই দল পরস্পরে লড়বে এবং উভয় দলকে মুসলমান বলা হবে এবং এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কঠিন হবে যে, কে হকের উপর আছে, আর কে বাতিলের উপর? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, এসব লোক অন্ধ পতাকার নিচে লড়বে। এমন সময়ের ব্যাপারে তিনি এ হেদায়েত দিয়েছেন যে,
فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا
তোমরা সেসময় সমস্ত দল থেকে পৃথক থাকবে। কাউকে সঙ্গ দিবে না। কাউকে সাহায্য করবে না। কারো বিরোধিতাও করবে না। বরং নীরব থেকে নিজের কাজ করতে থাকবে। কারণ, তোমরা যদি কাউকে সঙ্গ দাও, তখন এমন হতে পারে যে, কোনো মাজলুমের উপর তোমাদের পক্ষ থেকে জুলুম হয়ে গেলো। মোটকথা, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমতাবস্থায় পৃথক থাকার হুকুম দিয়েছেন এবং এমন অবস্থাকে ফেৎনা বলে আখ্যা দিয়েছেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ফেতনার সময় নিজের ঘরে বসে থাকো

📄 ফেতনার সময় নিজের ঘরে বসে থাকো


ফেৎনা এরই নাম যে, মানুষের কাছে হক স্পষ্ট হবে না। এটা জানা যাবে না যে, হকের উপর কে আছে, আর বাতিলের উপর কে আছে? যদি হক স্পষ্ট হয়ে যায় তাহলে তা ফেনা নয়। আর যদি হক স্পষ্ট না হয় তাহলে তা ফেৎনা। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফেৎনা থেকে পৃথক থাকার হুকুম দিয়েছেন। বরং এ পর্যন্ত বলেছেন যে, নিজের ঘরে চুপচাপ বসে থাকবে। বাইরে বের হয়ে বিবাদমান দলকে দেখবেও না। কারণ, ফেৎনা এমন জিনিস, তার দিকে তুমি যদি দেখো, তাহলে ফেৎনা তোমাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে। এজন্যে তা থেকে দূরে থাকো। আমাদের দেশে অনেক ঝগড়া, অনেক বিবাদ বিশেষ করে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এমন হয়ে থাকে যে, সাধারণত সেগুলোতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ এই যে, এ থেকে দূরে থাকবে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা নিজ দয়ায় আমাদের সকলকে এসব বিধান এবং শিক্ষার উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

টিকাঃ
৯. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৩৩৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৪৩৪, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৬৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00