📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 উভয়ের মধ্যে আপোস করিয়ে দাও

📄 উভয়ের মধ্যে আপোস করিয়ে দাও


পবিত্র আয়াত যেই মূলনীতি বর্ণনা করেছে তা এই যে, মানুষ দেখবে জালেম কে, আর মাজলুম কে। জালেম যদি তার জুলুম থেকে ফিরে না আসে তাহলে তোমার উপর ফরয তার সঙ্গে লড়াই করা। যতোক্ষণ না সে আল্লাহর হুকুমের দিকে ফিরে আসে। এরপর বলেন, যদি সে আল্লাহর হুকুমের দিকে ফিরে আসে অর্থাৎ, তোমার কথা শোনে এবং জুলুম ছেড়ে দেয়, তাহলে এমতাবস্থায় এই দুই দলের মধ্যে আপোস করিয়ে দাও। জালেম অস্ত্র সমর্পন করলো এবং জুলুম থেকে ফিরে এলো, কিন্তু উভয় দলের অন্তরের মধ্যে এখনো ক্লেদ রয়েছে। এই ক্লেদ দূর করার জন্যে ইনসাফের সাথে উভয়ের মধ্যে আপোস করিয়ে দাও। এ কারণে যে, দুই দলের মধ্যে যখন বিবাদ হয় এবং উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রত হয়, তখন মোটের উপর একদল হকের উপর এবং অপরদল অন্যায়ের উপর থাকলেও লড়াইয়ের সময় উভয়ের পক্ষ থেকে কিছু না কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে থাকে। প্রসিদ্ধ প্রবাদ আছে যে, একহাতে তালি বাজে না। মাজলুম ব্যক্তির পক্ষ থেকেও কোনো না কোনো ভুল অবশ্যই হয়েছে, যে কারণে লড়াইয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাই জালেম যখন তার জুলুম থেকে ফিরে এলো, এবার প্রত্যেক দলকে ন্যায়সঙ্গতভাবে তার ভুল বুঝানোর চেষ্টা করো যে, তোমার এই অবস্থান ঠিক ছিলো, কিন্তু অমুক কথাটি ভুল ছিলো। আগামীতে তা থেকে বিরত থাকবে। এজন্যে সম্মুখে আল্লাহ তা'আলা বলেন, আপোস করার ক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গতভাবে কাজ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা ন্যায়বিচারকারীদেরকে পছন্দ করেন। প্রথম আয়াতে এই মূলনীতি বর্ণনা করেছেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি ঈমানের উপর

📄 ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি ঈমানের উপর


এরপর পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তা'আলা এরচে' বড়ো মূলনীতি বর্ণনা করেছেন,
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ 'সব ঈমানদার পরস্পরে ভাই ভাই।'
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান রাখে, আল্লাহর কিতাবের উপর এবং আখেরাতের উপর ঈমান রাখে, সে-ই তোমার ভাই। এর মাধ্যমে এই মূলনীতি বলেছেন যে, ইসলামে যেই ভ্রাতৃত্ব রয়েছে, তা মূলত ঈমান ও আকীদার ভিত্তিতে। বর্ণ, বংশ, দেশ ও গোত্রের ভিত্তিতে নয়। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্বে ঘোষণা করেন যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের থেকে জাহেলিয়াতের অহমিকা, গর্ব ও অহংকারের সমস্ত উপকরণ বিলুপ্ত করে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন,
لَا فَضْلَ لِعَرَبِي عَلَى عَجَمِي وَلَا لِأَبْيَضَ عَلَى أَسْوَدَ إِلَّا بِالتَّقْوَى 'কোনো আরবের কোনো আজমের উপর কোনো প্রকারের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোনো সাদার কোনো কালোর উপর শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কারো ফযীলত থাকলে তা কেবল তাকওয়ার ভিত্তিতে রয়েছে।"
যে মুত্তাকী সে শ্রেষ্ঠ, সে একটি সাধারণ গোত্রের লোক হলেও। যে মুত্তাকী নয়, বাহ্যিকভাবে তার খুব শান-শওকত দেখা গেলেও সে অন্যদের তুলনায় নিকৃষ্ট।

টিকাঃ
৫. মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২৩৯১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মুসলমানকে নিঃস্বভাবে ছেড়ে দিবে না

📄 মুসলমানকে নিঃস্বভাবে ছেড়ে দিবে না


হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মূলনীতি যেমন বলেছেন যে, সমস্ত মুসলমান ভাই ভাই, তেমনি তার ফলাফলও নিজেই বলেছেন যে,
الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يُسَلِّمُهُ 'প্রত্যেক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। তাই এক মুসলমান অন্য মুসলমানের উপর জুলুম করবে না এবং তাকে নিঃস্ব অবস্থায় ছেড়ে দিবে না।'
তার উপর জুলুম অত্যাচার হতে থাকলে তাকে জালেমের দয়ার উপর ছেড়ে দেওয়া মুসলমানের কাজ নয়। বরং তোমার উপর ফরয তার সঙ্গ দেওয়া, তাকে সাহায্য করা। এটা কেবল নৈতিক নির্দেশনা নয়, বরং তোমার ধর্মীয় দায়িত্ব যে, তোমার সাধ্য মতো জুলুম থেকে রক্ষা করবে।

টিকাঃ
৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৬২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬৫০, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১৩৪৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৪৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৫১০৩

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ধনী সমাজের অবস্থা

📄 ধনী সমাজের অবস্থা


আজ আমাদের সমাজে এই দৃশ্য দেখা যায় যে, যারা গরীব কিসিমের লোক, তারা তো একে অপরের সাহায্যের জন্যে প্রস্তুত হয়, কিন্তু ধনী সমাজের মধ্যে কারো এর পরোয়াই নেই যে, আমার প্রতিবেশীর কি অবস্থা হচ্ছে? তার উপর দিয়ে কি পরিস্থিতি অতিবাহিত হচ্ছে? বরং প্রত্যেকে নিজের অবস্থা নিয়ে ব্যস্ত। একবার আমি নিজে এই দৃশ্য দেখেছি যে, একটি কার এক ব্যক্তিকে ধাক্কা মারে। লোকটি সড়কের উপর পড়ে যায়। গাড়িওয়ালা তাকে আঘাত করে চলে যায়। সে এ কথা চিন্তা করে না যে, আমার দ্বারা সীমালঙ্ঘন হয়েছে, তাই আমার কর্তব্য, তাকে কিছু চিকিৎসা বাবৎ সাহায্য করা। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন যে, একজন মুমিনের এ কাজ নয় যে, সে অন্য মুমিনকে নিঃস্ব অবস্থায় ছেড়ে চলে যাবে, বরং যেখানে সুযোগ আছে এবং যতোটুকু সাধ্য আছে, অন্য মুমিনকে সাহায্য করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00