📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 বংশ বা ভাষার ভিত্তিতে সঙ্গ দিও না

📄 বংশ বা ভাষার ভিত্তিতে সঙ্গ দিও না


এখানে হাদীস শরীফের আলোকে দুটি বিষয় বুঝে আসে। এক. কুরআনে কারীম পুরো বিষয়টির ভিত্তি রেখেছে এটা দেখার উপর যে, কে ন্যায়ের উপরে আছে, আর কে অন্যায়ের উপর। কে জালেম, আর কে মাজলুম? এ ভিত্তিতে কারো সঙ্গ দিও না যে, সে আমার দেশী, সে আমার ভাষাভাষি, বা সে আমার দলের লোক। এর ভিত্তিতে সঙ্গ দিও না। বরং সঙ্গ দেওয়া বা লড়াই করা উভয়টা এই ভিত্তির উপর হওয়া উচিত যে, কে জালেম, আর কে মাজলুম। জাহেলিয়াতের যুগ থেকে যেই চিন্তা মাথায় চলে আসছে- আফসোস এই যে, আজও তা মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান- তা হলো, যে ব্যক্তি আমার বংশের লোক, সে আমার লোক। যে আমার ভাষায় কথা বলে, সে আমার। যে কোনো মূল্যে আমাকে তাকে সঙ্গ দিতে হবে। এটা দেখবে না যে, সে জালেম, না মাজলুম। সে ন্যায়ের উপর আছে, না অন্যায়ের উপর। এটা জাহেলিয়াতের চিন্তাধারা। যার সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন- আজ আমি এ চিন্তা-ধারাকে আমার পায়ের নিচে পদদলিত করলাম। কিন্তু আফসোসের বিষয় এই যে, আজও আমাদের মধ্যে এ অবস্থা বিদ্যমান যে, মানুষ নিজের ভাষার ভিত্তিতে, নিজের বংশের ভিত্তিতে এবং নিজের দেশের ভিত্তিতে দল বানিয়ে নিয়েছে এবং মনে করছে যে, যে কোনো মূল্যে আমাকে এর সঙ্গ দিতে হবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এমন চুক্তির অনুমতি নেই

📄 এমন চুক্তির অনুমতি নেই


এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لَا حِلْفَ فِي الْإِسْلَامِ অর্থাৎ, জাহেলিয়াতের যুগে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হতো যে, যে কোনো মূল্যে আমি তোমাকে সঙ্গ দিবো, ইসলামে এ ধরনের চুক্তির কোনো সুযোগ নেই। একজন মুমিনের কাজ হলো, সে ন্যায় ও অন্যায় দেখবে এবং জালেম ও মাজলুমকে চিনবে। যদি তুমি দেখো যে, মুসলমান জুলুম করছে তাহলে এই জুলুম থেকে তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করা তোমার উপর ফরয।

টিকাঃ
৩. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৩০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৫৯৩, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৩৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৫৬৭

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 জালেমকে জুলুম থেকে বাধা দাও

📄 জালেমকে জুলুম থেকে বাধা দাও


একদিকে তো এই মূলনীতি বলেছেন যে, জালেমকে সঙ্গ দিও না, বরং মাজলুমের পক্ষ অবলম্বন করো। সেই জালেম তোমার বংশের হোক, তোমার দেশের হোক, বা তোমার ভাষাভাষি হোক। এই মূলনীতি বর্ণনার পর একদিন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিস্ময়কর এই বক্তব্য দিলেন যে,
انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا
'নিজের ভাইয়ের সাহায্য করো, সে যদি জালেম হয় তবুও সাহায্য করো, আর যদি মাজলুম হয় তবুও সাহায্য করো। সাহাবায়ে কেরাম এ কথা শুনে খুবই অবাক হলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন যে, হে আল্লাহর রাসূল! মাজলুমকে সাহায্য করা তো বুঝে আসে, আমরা মাজলুমকে সাহায্য করবো, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার অর্থ কি? হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, জালেমের সাহায্য এই যে, তাকে জুলুম থেকে প্রতিহত করবে।
যেহেতু সে জুলুম করার কারণে জাহান্নামের দিকে যাচ্ছে, নিজের আখেরাত বরবাদ করছে, আল্লাহ তা'আলার গযব মাথা পেতে নিচ্ছে, এখন তাকে সাহায্য করা এই যে, তাকে জুলুম থেকে বাধা দাও। তাকে বলো যে, তুমি যে পথে চলছো, তা জুলুমের পথ, দোযখের পথ, এথেকে বাঁচো। মানুষকে জাহান্নামে যাওয়া থেকে বাধা দেওয়া এবং আল্লাহর আযাব ও গযব থেকে বাঁচানো হলো প্রকৃত সাহায্য।

টিকাঃ
৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৬৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৬৮১, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২১৮১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১১৫১১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 উভয়ের মধ্যে আপোস করিয়ে দাও

📄 উভয়ের মধ্যে আপোস করিয়ে দাও


পবিত্র আয়াত যেই মূলনীতি বর্ণনা করেছে তা এই যে, মানুষ দেখবে জালেম কে, আর মাজলুম কে। জালেম যদি তার জুলুম থেকে ফিরে না আসে তাহলে তোমার উপর ফরয তার সঙ্গে লড়াই করা। যতোক্ষণ না সে আল্লাহর হুকুমের দিকে ফিরে আসে। এরপর বলেন, যদি সে আল্লাহর হুকুমের দিকে ফিরে আসে অর্থাৎ, তোমার কথা শোনে এবং জুলুম ছেড়ে দেয়, তাহলে এমতাবস্থায় এই দুই দলের মধ্যে আপোস করিয়ে দাও। জালেম অস্ত্র সমর্পন করলো এবং জুলুম থেকে ফিরে এলো, কিন্তু উভয় দলের অন্তরের মধ্যে এখনো ক্লেদ রয়েছে। এই ক্লেদ দূর করার জন্যে ইনসাফের সাথে উভয়ের মধ্যে আপোস করিয়ে দাও। এ কারণে যে, দুই দলের মধ্যে যখন বিবাদ হয় এবং উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রত হয়, তখন মোটের উপর একদল হকের উপর এবং অপরদল অন্যায়ের উপর থাকলেও লড়াইয়ের সময় উভয়ের পক্ষ থেকে কিছু না কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে থাকে। প্রসিদ্ধ প্রবাদ আছে যে, একহাতে তালি বাজে না। মাজলুম ব্যক্তির পক্ষ থেকেও কোনো না কোনো ভুল অবশ্যই হয়েছে, যে কারণে লড়াইয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাই জালেম যখন তার জুলুম থেকে ফিরে এলো, এবার প্রত্যেক দলকে ন্যায়সঙ্গতভাবে তার ভুল বুঝানোর চেষ্টা করো যে, তোমার এই অবস্থান ঠিক ছিলো, কিন্তু অমুক কথাটি ভুল ছিলো। আগামীতে তা থেকে বিরত থাকবে। এজন্যে সম্মুখে আল্লাহ তা'আলা বলেন, আপোস করার ক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গতভাবে কাজ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা ন্যায়বিচারকারীদেরকে পছন্দ করেন। প্রথম আয়াতে এই মূলনীতি বর্ণনা করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00