📄 মাদরাসার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হওয়ার অপপ্রচার
আজকাল প্রোপাগাণ্ডা একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয়েছে। জামার্নির এজন রাজনীতিবিদ দার্শনিক ছিলেন। তিনি এই দর্শন পেশ করেছিলেন যে, মিথ্যাকে এতো তীব্রভাবে প্রচার করতে থাকো, যেন দুনিয়া তা সত্য মনে করতে আরম্ভ করে। আজ দুনিয়াতে সমস্ত প্রোপাগাণ্ডার উৎকর্ষতা এই দর্শনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। যার উপর যা ইচ্ছা অপবাদ লাগিয়ে তার সম্পর্কে প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ পৃথিবীতে এ প্রোপাগাণ্ডা আরম্ভ হয়েছে যে, মাদরাসাগুলো সন্ত্রাসী তৈরী করে। মাদরাসাতে ছাত্রদেরকে সন্ত্রাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখান থেকে সন্ত্রাসী বের হয়। এই প্রোপাগাণ্ডা তিন বছর হলো আরম্ভ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নয়, বরং সরকারের দায়িত্বশীলগণ প্রকাশ্যে বলছে যে, মাদরাসাগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। মাদরাসাকর্তৃপক্ষ তাদেরকে একাধিকবার বলেছে যে, আল্লাহর ওয়াস্তে মাদরাসার ভিতরে এসে দেখুন। আপনাদের নিকট অস্ত্র উদঘাটনের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি রয়েছে, সন্ত্রাস উদঘাটনের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপকরণ রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে দেখুন- কোনো মাদরাসার মধ্যে সন্ত্রাসের কোনো কিছু পান কি না। কোনো মাদরাসার মধ্যে এর অস্তিত্ব পাওয়া গেলে আমাদের পক্ষ থেকে সাধারণ অনুমতি রয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আমরাও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে আপনাদের সহযোগিতা করবো। কিন্তু এই অপপ্রচার চালিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মাদরাসাগুলো সন্ত্রাসী তৈরী করে। এই অপপ্রচারের ভিত্তিতে সমস্ত দ্বীনি মাদরাসা- যেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালাম শিক্ষা দেওয়া হয়- তাদেরকে সন্ত্রাসী সাব্যস্ত করা এবং পশ্চিমাদের প্রোপাগাণ্ডাকে বিস্তৃত করা কি করে ইনসাফ ও সাধুতার কথা হতে পারে?
📄 মাদরাসাসমূহ পরিদর্শন করুন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও অপরাধপ্রবণ লোক ঢুকে পড়ে। ইউনির্ভাসিটি ও কলেজসমূহে কি অপরাধী নেই? এমতাবস্থায় ঐ সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একথা বলা হয় না যে, সব ইউনির্ভাসিটি সন্ত্রাসী, সব কলেজ অপরাধী। 'মিথ্যাকে এতো তীব্রভাবে প্রচার করো, যেন দুনিয়ার মানুষ তা সত্য মনে করতে আরম্ভ করে'- এই মূলনীতির ভিত্তিতে পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে যেহেতু অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তাই আজ দ্বীনি মাদরাসা এবং সন্ত্রাসকে এভাবে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে যে, একটি অপরটির সমার্থক হয়ে গিয়েছে। কুরআনে কারীম বলে যে, এমন যেন না হয় যে, অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো জাতির অহেতুক ক্ষতি করলে। তাহলে পরবর্তীতে তোমাদের লজ্জিত হতে হবে। এজন্যে প্রথমে যাচাই করো। যাচাইয়ের সমস্ত উপকরণ ও যন্ত্রপাতি তোমাদের রয়েছে। এসে দেখো। মাদরাসার বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপকারী তারা, যারা আজ পর্যন্ত মাদরাসার চেহারা দেখেনি। এসে দেখেনি যে, সেখানে কি হচ্ছে? সেখানে কী পড়ানো হচ্ছে? কীভাবে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে? অথচ মাদরাসার বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা চালু আছে, যা বন্ধ করার কোনো নাম নেই।
📄 মিথ্যা কল্পনার ভিত্তিতে অপবাদ দেওয়া
লন্ডনের লোকেরা বলেছে- এখানে যে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে তাতে এমন এক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে, যে সেখানের মাদরাসায় কিছুদিন অবস্থান করেছিলো। আরে ভাই! সে ব্যক্তি সেখানেই বড়ো হয়েছে, সেখানেই বৃটেনের কোনো মাদরাসাতে নয়, বরং মডার্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করেছে। একথা যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, সে কয়েক দিনের জন্যে পাকিস্তান এসেছিলো। পাকিস্তান আসার দ্বারাই কি এটা আবশ্যক হয়ে যায় যে, সে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই শিক্ষা লাভ করেছে এবং সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রশিক্ষণ লাভ করেছে। এর ভিত্তিতে কাল্পনিকভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করে তার ভিত্তিতে রাজ-হুকুম জারী করা হয়েছে যে, যতো বিদেশী ছাত্র মাদরাসায় পড়ে তাদেরকে দেশ থেকে বিদায় করে দেওয়া হোক।
📄 প্রথমে সংবাদ যাচাই করুন
আমার ভাইগণ! এটা আমাদের সমাজের এমন একটা সমস্যা যে, জনসাধারণ হোক বা সরকার, রাজনৈতিক পার্টি হোক বা ধর্মীয় দল, সবাই এর মধ্যে আক্রান্ত যে, কানে কোনো উড়ো কথা পড়লেই তা কেবল বিশ্বাসই করে না, বরং তা প্রচার করে এবং তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর ফলে সীমাহীন জুলুম-অত্যাচার করা হয়েছে। অথচ কুরআনে কারীম এ আয়াতে এই পয়গাম দিয়েছে যে, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের নিকট কোনো দায়িত্বহীন ব্যক্তি কোনো খবর নিয়ে এলে প্রথমে তা যাচাই করো। এমন যেন না হয় যে, অজ্ঞতাবশত তোমরা মানুষের ক্ষতি করলে। ফলে তোমাদেরকে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হতে হলো। আমরা যদি কুরআনে কারীমের এই হুকুম মোতাবেক চলি এবং জীবনের প্রত্যেক শাখায় একে ব্যবহার করি, তাহলে নিশ্চয়ই আমাদের সমাজের নব্বই শতাংশ বিবাদ মিটে যাবে।
আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় আমাদেরকে কুরআনে কারীমের এ হেদায়েতকে বোঝার এবং সে অনুপাতে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।