📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এক মুহাদ্দিসের ঘটনা

📄 এক মুহাদ্দিসের ঘটনা


আপনারা শুনে থাকবেন যে, মুহাদ্দিসগণ যখন কোনো হাদীস বর্ণনা করেন তখন বলেন, حَدَّثَنَا فُلَانٌ অর্থাৎ, আমাকে অমুক এ হাদীস শুনিয়েছে। একবার এক মুহাদ্দিস যখন হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন حَدَّثَنَا فُلَانٌ এর পরিবর্তে ওর্মত বলছিলেন। লোকেরা বললো যে, হযরত এ এর তো কোনো অর্থ নেই। আপনি حَدَّثَنَا فُلَانٌ কেন বলছেন না? তিনি উত্তর দিলেন- আমি যখন ওস্তাদের দরসে পৌছি, তখন আমি তাঁর মুখ থেকে ওর্মত এ শব্দ শুনেছিলাম। প্রথমের শব্দ শুনতে পাইনি। এজন্যে আমি এ শব্দ দিয়ে হাদীস শুনাচ্ছি। অথচ এটা সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে, ওস্তাদ حَدَّثَنَا فُلَانٌ-ই বলেছিলেন, শুধু حَدَّثَنَا ও বলেননি। কিন্তু যেহেতু নিজের কানে শুধু ও শুনেছিলেন, ওর্মত শুনেননি, এজন্যে বর্ণনা করার সময় حَدَّثَنَا فُلَانٌ বলতেন না। যাতে মিথ্যা হয়ে না যায়। যতোটুকু শুনেছি, ততোটুকুই বর্ণনা করবো। এমন সতর্কতার সাথে মুহাদ্দিসীনে কেরাম হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ আমাদের পর্যন্ত পৌছিয়েছেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হাদীসের বিষয়ে আমাদের অবস্থা

📄 হাদীসের বিষয়ে আমাদের অবস্থা


আজ আমাদের অবস্থা এই যে, শুধু সাধারণ কথা-বার্তায় নয়, বরং হাদীস বর্ণনা করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না। হাদীসের শব্দ ছিলো কিছু, আর মানুষ বর্ণনা করে যে, আমি শুনেছি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন বলেছেন। অথচ এ হাদীসের কোথাও অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। যাচাই না করে বর্ণনা করে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 সরকারের উপর অপবাদ দেওয়া

📄 সরকারের উপর অপবাদ দেওয়া


আজ রাজনৈতিক পার্টির মধ্যে এবং ধর্মীয় দলাদলির মধ্যে এ বিষয় ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, একে অপরের উপর অপবাদ দিতে কোনো প্রকার ডর-ভয় অনুভব করে না। সামান্য কিছু শুনেই তা বর্ণনা করে দেয়। সরকারের প্রতি অসন্তুষ্টি রয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে ভিতরে ক্ষোভ রয়েছে, এজন্যে তার বিরুদ্ধে যে সংবাদ পায় তাই ছড়িয়ে দেয়। এটা যাচাই করার প্রয়োজন বোধ করে না যে, কথাটা ঠিক না অঠিক।
মনে রাখবেন সরকারের মধ্যে হাজার দোষ থাকুক, কিন্তু একথার অর্থ এই নয় যে, আপনি তার উপর অপবাদ দিতে শুরু করবেন। আফসোস এই যে, একই আচরণ আজ সরকার জনসাধারণের সঙ্গে করছে। সরকারের বড়ো মাপের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যিনি পুরো দেশের দায়িত্বশীল, তিনি মানুষের উপর অপবাদ দিতে কোনো প্রকার দ্বীধা-সংকোচ করেন না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মাদরাসার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হওয়ার অপপ্রচার

📄 মাদরাসার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হওয়ার অপপ্রচার


আজকাল প্রোপাগাণ্ডা একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয়েছে। জামার্নির এজন রাজনীতিবিদ দার্শনিক ছিলেন। তিনি এই দর্শন পেশ করেছিলেন যে, মিথ্যাকে এতো তীব্রভাবে প্রচার করতে থাকো, যেন দুনিয়া তা সত্য মনে করতে আরম্ভ করে। আজ দুনিয়াতে সমস্ত প্রোপাগাণ্ডার উৎকর্ষতা এই দর্শনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। যার উপর যা ইচ্ছা অপবাদ লাগিয়ে তার সম্পর্কে প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ পৃথিবীতে এ প্রোপাগাণ্ডা আরম্ভ হয়েছে যে, মাদরাসাগুলো সন্ত্রাসী তৈরী করে। মাদরাসাতে ছাত্রদেরকে সন্ত্রাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখান থেকে সন্ত্রাসী বের হয়। এই প্রোপাগাণ্ডা তিন বছর হলো আরম্ভ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নয়, বরং সরকারের দায়িত্বশীলগণ প্রকাশ্যে বলছে যে, মাদরাসাগুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। মাদরাসাকর্তৃপক্ষ তাদেরকে একাধিকবার বলেছে যে, আল্লাহর ওয়াস্তে মাদরাসার ভিতরে এসে দেখুন। আপনাদের নিকট অস্ত্র উদঘাটনের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি রয়েছে, সন্ত্রাস উদঘাটনের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম উপকরণ রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করে দেখুন- কোনো মাদরাসার মধ্যে সন্ত্রাসের কোনো কিছু পান কি না। কোনো মাদরাসার মধ্যে এর অস্তিত্ব পাওয়া গেলে আমাদের পক্ষ থেকে সাধারণ অনুমতি রয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আমরাও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে আপনাদের সহযোগিতা করবো। কিন্তু এই অপপ্রচার চালিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মাদরাসাগুলো সন্ত্রাসী তৈরী করে। এই অপপ্রচারের ভিত্তিতে সমস্ত দ্বীনি মাদরাসা- যেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালাম শিক্ষা দেওয়া হয়- তাদেরকে সন্ত্রাসী সাব্যস্ত করা এবং পশ্চিমাদের প্রোপাগাণ্ডাকে বিস্তৃত করা কি করে ইনসাফ ও সাধুতার কথা হতে পারে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00