📄 হযরত মুহাদ্দিসীনে কেরামের সতর্কতা
কুরআনে কারীম বলছে যে, যখন তুমি কোনো ব্যক্তির থেকে কোনো কথা শুনলে আর অবস্থা এই যে, মানুষ কথা বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে না, তাহলে এমতাবস্থায় আরো অধিক সতর্কতা প্রয়োজন। যা শুনলে তাই বলবে না। হযরাতে মুহাদ্দিসীনে কেরাম- যাঁরা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ সংরক্ষণ করে আমাদের পর্যন্ত পৌছিয়েছেন- তাঁরা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে এ পরিমাণ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন যে, শব্দের মধ্যে সামান্যও হেরফের হলে তা বর্ণনা করতেন না। বরং বলতেন যে, এতোটুকু কথা আমার স্মরণ আছে, আর এতোটুকু স্মরণ নেই। অথচ অর্থ একই। কিন্তু তারপরেও বলতেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শব্দ বলেছেন, বা এই শব্দ বলেছেন।
📄 এক মুহাদ্দিসের ঘটনা
আপনারা শুনে থাকবেন যে, মুহাদ্দিসগণ যখন কোনো হাদীস বর্ণনা করেন তখন বলেন, حَدَّثَنَا فُلَانٌ অর্থাৎ, আমাকে অমুক এ হাদীস শুনিয়েছে। একবার এক মুহাদ্দিস যখন হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন حَدَّثَنَا فُلَانٌ এর পরিবর্তে ওর্মত বলছিলেন। লোকেরা বললো যে, হযরত এ এর তো কোনো অর্থ নেই। আপনি حَدَّثَنَا فُلَانٌ কেন বলছেন না? তিনি উত্তর দিলেন- আমি যখন ওস্তাদের দরসে পৌছি, তখন আমি তাঁর মুখ থেকে ওর্মত এ শব্দ শুনেছিলাম। প্রথমের শব্দ শুনতে পাইনি। এজন্যে আমি এ শব্দ দিয়ে হাদীস শুনাচ্ছি। অথচ এটা সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে, ওস্তাদ حَدَّثَنَا فُلَانٌ-ই বলেছিলেন, শুধু حَدَّثَنَا ও বলেননি। কিন্তু যেহেতু নিজের কানে শুধু ও শুনেছিলেন, ওর্মত শুনেননি, এজন্যে বর্ণনা করার সময় حَدَّثَنَا فُلَانٌ বলতেন না। যাতে মিথ্যা হয়ে না যায়। যতোটুকু শুনেছি, ততোটুকুই বর্ণনা করবো। এমন সতর্কতার সাথে মুহাদ্দিসীনে কেরাম হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ আমাদের পর্যন্ত পৌছিয়েছেন।
📄 হাদীসের বিষয়ে আমাদের অবস্থা
আজ আমাদের অবস্থা এই যে, শুধু সাধারণ কথা-বার্তায় নয়, বরং হাদীস বর্ণনা করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না। হাদীসের শব্দ ছিলো কিছু, আর মানুষ বর্ণনা করে যে, আমি শুনেছি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন বলেছেন। অথচ এ হাদীসের কোথাও অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। যাচাই না করে বর্ণনা করে।
📄 সরকারের উপর অপবাদ দেওয়া
আজ রাজনৈতিক পার্টির মধ্যে এবং ধর্মীয় দলাদলির মধ্যে এ বিষয় ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, একে অপরের উপর অপবাদ দিতে কোনো প্রকার ডর-ভয় অনুভব করে না। সামান্য কিছু শুনেই তা বর্ণনা করে দেয়। সরকারের প্রতি অসন্তুষ্টি রয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে ভিতরে ক্ষোভ রয়েছে, এজন্যে তার বিরুদ্ধে যে সংবাদ পায় তাই ছড়িয়ে দেয়। এটা যাচাই করার প্রয়োজন বোধ করে না যে, কথাটা ঠিক না অঠিক।
মনে রাখবেন সরকারের মধ্যে হাজার দোষ থাকুক, কিন্তু একথার অর্থ এই নয় যে, আপনি তার উপর অপবাদ দিতে শুরু করবেন। আফসোস এই যে, একই আচরণ আজ সরকার জনসাধারণের সঙ্গে করছে। সরকারের বড়ো মাপের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, যিনি পুরো দেশের দায়িত্বশীল, তিনি মানুষের উপর অপবাদ দিতে কোনো প্রকার দ্বীধা-সংকোচ করেন না।