📄 যার থেকে কষ্ট পেয়েছেন, তাকে জিজ্ঞাসা করুন
আফসোস এই যে, আমাদের সমাজে এই হেদায়েতকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রকারের ফেৎনা ছড়িয়ে পড়ছে। ঝগড়া-বিবাদ চলছে, শত্রুতা হচ্ছে, হিংসা-বিদ্বেষ হচ্ছে, একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, এসব কিছুর ভিত্তি উড়ো কথা। পরিবার বা ঘনিষ্ঠ জনদের মধ্যে থেকে কেউ বললো যে, তোমার ব্যাপারে অমুক একথা বলছিলো। এখন আপনি তার কথা শুনে বিশ্বাস করলেন যে, আচ্ছা অমুক ব্যক্তি আমার ব্যাপারে একথা বলেছে! এখন এর ভিত্তিতে অন্তরে তার প্রতি শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। অথচ একজন মুসলমানের কাজ এই যে, যদি কোনো ভাইয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগের কোনো কথা পৌছে তাহলে সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসা করবে। আমি শুনেছি যে, 'আপনি আমার সম্পর্কে একথা বলেছেন। তা ঠিক কি না? তখন সঠিক বিষয় সামনে চলে আসবে।
📄 কথাকে বাড়িয়ে বলা
আজকাল অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে, মানুষ একজনের কথা অন্যজন পর্যন্ত পৌছানোর ক্ষেত্রে মোটেই সতর্কতা অবলম্বন করে না। সামান্য বিষয়কে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বর্ণনা করে। নিজের পক্ষ থেকে তার মধ্যে যুক্ত করে। আমি একটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছি। এক ব্যক্তি আমার কাছে মাসআলা জিজ্ঞাসা করে যে, টেপ রেকর্ডারে কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত শুনলে সওয়াব হবে কি না? আমি জওয়াব দেই- যেহেতু কুরআনে কারীমের শব্দ পাঠ করা হচ্ছে তাই তা শুনলেও আল্লাহর রহমতে সওয়াব লাভ হবে, ইনশাআল্লাহ। তবে সরাসরি পড়লে ও শুনলে অধিক সওয়াব লাভ হবে। এখন সে গিয়ে অন্য কাউকে বলেছে, দ্বিতীয়জন তৃতীয়জনকে বলেছে, তৃতীয়জন ব্যক্তি চতুর্থজনকে বলেছে, ব্যাপার এতো দূর গড়ায় যে, একদিন আমার কাছে একজনের চিঠি আসে। তাতে সে লিখেছে- এখানে আমাদের মহল্লায় এক ব্যক্তি বয়ানের মধ্যে বলছিলো যে, মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উসমানী ছাহেব একথা বলেছেন যে, টেপ রেকর্ডারে তিলাওয়াত শোনা এমন, যেমন টেপ রেকর্ডারে গান শোনা। এখন আপনারা অনুমান করুন যে, কথাটি কি ছিলো? আর হতে হতে কতো দূর পৌছিয়েছে। তারপর প্রকাশ্য বক্তব্যে আমার দিকে সম্পৃক্ত করে বলা হচ্ছে যে, আমি একথা বলেছি। আমি উত্তরে লিখলাম যে, আমার ফেরেশতারাও জানে না যে, আমি একথা বলেছি।
📄 মাপা কথা মুখ দিয়ে বের করবে
মোটকথা, কথা বর্ণনার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সতর্কতা নেই। অথচ মুসলমানের কাজ হলো, যে কথা তার মুখ দিয়ে বের হবে তা পাল্লায় মাপা হতে হবে। এক শব্দ বেশিও নয়, এক শব্দ কমও নয়। বিশেষ করে আপনি যদি অন্যের কথা বর্ণনা করেন, সে ক্ষেত্রে আরো অধিক সতর্কতার প্রয়োজন। কারণ, আপনি তার মধ্যে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বৃদ্ধি করলে অন্যের উপর অপবাদ দেওয়া হবে, তাতে দ্বিগুন গোনাহ হবে।
📄 হযরত মুহাদ্দিসীনে কেরামের সতর্কতা
কুরআনে কারীম বলছে যে, যখন তুমি কোনো ব্যক্তির থেকে কোনো কথা শুনলে আর অবস্থা এই যে, মানুষ কথা বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে না, তাহলে এমতাবস্থায় আরো অধিক সতর্কতা প্রয়োজন। যা শুনলে তাই বলবে না। হযরাতে মুহাদ্দিসীনে কেরাম- যাঁরা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ সংরক্ষণ করে আমাদের পর্যন্ত পৌছিয়েছেন- তাঁরা হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে এ পরিমাণ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন যে, শব্দের মধ্যে সামান্যও হেরফের হলে তা বর্ণনা করতেন না। বরং বলতেন যে, এতোটুকু কথা আমার স্মরণ আছে, আর এতোটুকু স্মরণ নেই। অথচ অর্থ একই। কিন্তু তারপরেও বলতেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শব্দ বলেছেন, বা এই শব্দ বলেছেন।