📄 উড়ো কথায় কান দিবেন না
মানুষের কানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা পড়তে থাকে। একজন এসে এক খবর দেয়, আরেকজন এসে আরেক খবর শুনায়, আরেকজন আরেক কথা বলে। মানুষ যদি সবগুলো কথাকে সত্য মনে করে সে অনুপাতে পদক্ষেপ নিতে আরম্ভ করে, তাহলে ফেৎনা ছাড়া আর কিছুই লাভ হবে না। সুতরাং আরেক সময় এমন হয়েছিলো যে, মুনাফিকরা বিভিন্ন প্রকারের উড়ো কথা ছড়াতো। সরলমনা মুসলমানগণ তাদের কথা সত্য মনে করে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন। এ প্রসঙ্গে কুরআন শরীফে আরেকটি আয়াত নাযিল হয়। তাতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَ إِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ
'আর যখন তাদের কাছে কোনো সংবাদ পৌঁছে নিরাপত্তা বা ভীতিকর, তখন তারা তা (যাচাই না করে) ছড়াতে আরম্ভ করে। যদি তারা এ সংবাদকে রাসূলের নিকট বা দায়িত্বশীলদের নিকট নিয়ে যেতো তাহলে তাদের মধ্যে যাচাইকারীগণ তার বাস্তবতা জানতে পারতো।'৪
অর্থাৎ, মুনাফিকদের কাজ এই যে, সামান্য কোনো উড়ো কথা কানে পড়তেই- নিরাপত্তার অবস্থায় হোক বা যুদ্ধের অবস্থায়- তা প্রচার করতে আরম্ভ করে। নিজেদের পক্ষ থেকে তার মধ্যে লবণ-মরিচ লাগিয়ে ছড়িয়ে দেয়, ফলে ফেতনা বিস্তার লাভ করে। মুসলমানদেরকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের কোনো সংবাদ তোমাদের নিকট পৌঁছলে তার উপর নির্ভর না করে আল্লাহর রাসূলকে এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে বলো যে, এ খবর ছড়াচ্ছে। এর মধ্যে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা তা যাচাই করুন এবং যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। নিজেদের পক্ষ থেকে এর উপর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। এটা একটা বিরাট হেদায়েত। কুরআনে কারীম যা দান করেছে।
টিকাঃ
৪. নিসা: ৮৩
📄 যার থেকে কষ্ট পেয়েছেন, তাকে জিজ্ঞাসা করুন
আফসোস এই যে, আমাদের সমাজে এই হেদায়েতকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রকারের ফেৎনা ছড়িয়ে পড়ছে। ঝগড়া-বিবাদ চলছে, শত্রুতা হচ্ছে, হিংসা-বিদ্বেষ হচ্ছে, একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, এসব কিছুর ভিত্তি উড়ো কথা। পরিবার বা ঘনিষ্ঠ জনদের মধ্যে থেকে কেউ বললো যে, তোমার ব্যাপারে অমুক একথা বলছিলো। এখন আপনি তার কথা শুনে বিশ্বাস করলেন যে, আচ্ছা অমুক ব্যক্তি আমার ব্যাপারে একথা বলেছে! এখন এর ভিত্তিতে অন্তরে তার প্রতি শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। অথচ একজন মুসলমানের কাজ এই যে, যদি কোনো ভাইয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগের কোনো কথা পৌছে তাহলে সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসা করবে। আমি শুনেছি যে, 'আপনি আমার সম্পর্কে একথা বলেছেন। তা ঠিক কি না? তখন সঠিক বিষয় সামনে চলে আসবে।
📄 কথাকে বাড়িয়ে বলা
আজকাল অবস্থা এই দাঁড়িয়েছে যে, মানুষ একজনের কথা অন্যজন পর্যন্ত পৌছানোর ক্ষেত্রে মোটেই সতর্কতা অবলম্বন করে না। সামান্য বিষয়কে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বর্ণনা করে। নিজের পক্ষ থেকে তার মধ্যে যুক্ত করে। আমি একটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছি। এক ব্যক্তি আমার কাছে মাসআলা জিজ্ঞাসা করে যে, টেপ রেকর্ডারে কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত শুনলে সওয়াব হবে কি না? আমি জওয়াব দেই- যেহেতু কুরআনে কারীমের শব্দ পাঠ করা হচ্ছে তাই তা শুনলেও আল্লাহর রহমতে সওয়াব লাভ হবে, ইনশাআল্লাহ। তবে সরাসরি পড়লে ও শুনলে অধিক সওয়াব লাভ হবে। এখন সে গিয়ে অন্য কাউকে বলেছে, দ্বিতীয়জন তৃতীয়জনকে বলেছে, তৃতীয়জন ব্যক্তি চতুর্থজনকে বলেছে, ব্যাপার এতো দূর গড়ায় যে, একদিন আমার কাছে একজনের চিঠি আসে। তাতে সে লিখেছে- এখানে আমাদের মহল্লায় এক ব্যক্তি বয়ানের মধ্যে বলছিলো যে, মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উসমানী ছাহেব একথা বলেছেন যে, টেপ রেকর্ডারে তিলাওয়াত শোনা এমন, যেমন টেপ রেকর্ডারে গান শোনা। এখন আপনারা অনুমান করুন যে, কথাটি কি ছিলো? আর হতে হতে কতো দূর পৌছিয়েছে। তারপর প্রকাশ্য বক্তব্যে আমার দিকে সম্পৃক্ত করে বলা হচ্ছে যে, আমি একথা বলেছি। আমি উত্তরে লিখলাম যে, আমার ফেরেশতারাও জানে না যে, আমি একথা বলেছি।
📄 মাপা কথা মুখ দিয়ে বের করবে
মোটকথা, কথা বর্ণনার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সতর্কতা নেই। অথচ মুসলমানের কাজ হলো, যে কথা তার মুখ দিয়ে বের হবে তা পাল্লায় মাপা হতে হবে। এক শব্দ বেশিও নয়, এক শব্দ কমও নয়। বিশেষ করে আপনি যদি অন্যের কথা বর্ণনা করেন, সে ক্ষেত্রে আরো অধিক সতর্কতার প্রয়োজন। কারণ, আপনি তার মধ্যে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বৃদ্ধি করলে অন্যের উপর অপবাদ দেওয়া হবে, তাতে দ্বিগুন গোনাহ হবে।