📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 শোনা কথা প্রচার করা মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত

📄 শোনা কথা প্রচার করা মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত


মোটকথা, কারো সম্পর্কে যাচাই করা ছাড়া কোনো কথা বলা এতো বড়ো রোগ, যার দ্বারা পুরো সমাজে বিকৃতি ও বিপর্যয় ঘটে। শত্রুতার সৃষ্টি হয়, ঝগড়া বিবাদ হয়। এজন্যে কুরআনে কারীম বলছে যে, যখনই তুমি কোনো সংবাদ পাবে প্রথমে তা যাচাই করবে। একহাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ 'মানুষের মিথ্যুক হওয়ার জন্যে এটাই যথেষ্ট যে, যা সে শোনে তাই বর্ণনা করতে আরম্ভ করে।'
এজন্যে যে ব্যক্তি যাচাই না করে সব শোনা কথাই বলে বেড়ায়, সেও মিথুক। তারও মিথ্যা বলার গোনাহ হবে। তাই যাচাই না করে কোনো কথা বর্ণনা করবে না।

টিকাঃ
৩. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৪০

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 প্রথমে যাচাই করো তারপর মুখ দিয়ে বের করো

📄 প্রথমে যাচাই করো তারপর মুখ দিয়ে বের করো


আফসোস যে, আজ আমাদের সমাজ এই গোনাহে নিমজ্জিত। কোনো ব্যক্তির কথা বর্ণনা করতে কোনো প্রকার সতর্কতা নেই। বরং নিজের পক্ষ থেকে তার মধ্যে লবণ-মরিচ লাগিয়ে আরো বাড়িয়ে বর্ণনা করা হয়। দ্বিতীয় ব্যক্তি শুনে সে নিজের পক্ষ থেকে আরো কিছু যোগ করে বর্ণনা করে। বিষয়টি ছিলো সামান্য, কিন্তু বিস্তৃত হতে হতে তা বিরাট হয়ে যায়। পরিণতিতে শত্রুতা, বিরোধ, ঝগড়া-বিবাদ, খুন-খারাবি ও ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়য়ে পড়ে। মোটকথা, কুরআনে কারীম আমাদেরকে এই সবক দিচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে যেই জিব দিয়েছেন, তা এ জন্যে দেননি যে, এর দ্বারা মিথ্যা কথা ছড়াবে। এজন্যে দেননি যে, এর দ্বারা তোমরা মানুষের উপরে মিথ্যা দোষারোপ করবে। বরং কোনো বিষয় পরিপূর্ণরূপে যাচাই না করে মুখ দিয়ে তা বের না করা তোমাদের জন্যে ফরয। আফসোস! আজ আমরা আল্লাহ তা'আলার এই হুকুম ভুলে গিয়েছি। এর ফলে আমরা বিভিন্ন ধরনের মসিবতের শিকার হচ্ছি। আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় আমাদেরকে এ গোনাহ থেকে বাঁচার তাওফীক দান করুন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 উড়ো কথায় কান দিবেন না

📄 উড়ো কথায় কান দিবেন না


মানুষের কানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা পড়তে থাকে। একজন এসে এক খবর দেয়, আরেকজন এসে আরেক খবর শুনায়, আরেকজন আরেক কথা বলে। মানুষ যদি সবগুলো কথাকে সত্য মনে করে সে অনুপাতে পদক্ষেপ নিতে আরম্ভ করে, তাহলে ফেৎনা ছাড়া আর কিছুই লাভ হবে না। সুতরাং আরেক সময় এমন হয়েছিলো যে, মুনাফিকরা বিভিন্ন প্রকারের উড়ো কথা ছড়াতো। সরলমনা মুসলমানগণ তাদের কথা সত্য মনে করে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন। এ প্রসঙ্গে কুরআন শরীফে আরেকটি আয়াত নাযিল হয়। তাতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَ إِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ
'আর যখন তাদের কাছে কোনো সংবাদ পৌঁছে নিরাপত্তা বা ভীতিকর, তখন তারা তা (যাচাই না করে) ছড়াতে আরম্ভ করে। যদি তারা এ সংবাদকে রাসূলের নিকট বা দায়িত্বশীলদের নিকট নিয়ে যেতো তাহলে তাদের মধ্যে যাচাইকারীগণ তার বাস্তবতা জানতে পারতো।'৪
অর্থাৎ, মুনাফিকদের কাজ এই যে, সামান্য কোনো উড়ো কথা কানে পড়তেই- নিরাপত্তার অবস্থায় হোক বা যুদ্ধের অবস্থায়- তা প্রচার করতে আরম্ভ করে। নিজেদের পক্ষ থেকে তার মধ্যে লবণ-মরিচ লাগিয়ে ছড়িয়ে দেয়, ফলে ফেতনা বিস্তার লাভ করে। মুসলমানদেরকে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের কোনো সংবাদ তোমাদের নিকট পৌঁছলে তার উপর নির্ভর না করে আল্লাহর রাসূলকে এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে বলো যে, এ খবর ছড়াচ্ছে। এর মধ্যে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা তা যাচাই করুন এবং যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। নিজেদের পক্ষ থেকে এর উপর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। এটা একটা বিরাট হেদায়েত। কুরআনে কারীম যা দান করেছে।

টিকাঃ
৪. নিসা: ৮৩

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 যার থেকে কষ্ট পেয়েছেন, তাকে জিজ্ঞাসা করুন

📄 যার থেকে কষ্ট পেয়েছেন, তাকে জিজ্ঞাসা করুন


আফসোস এই যে, আমাদের সমাজে এই হেদায়েতকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রকারের ফেৎনা ছড়িয়ে পড়ছে। ঝগড়া-বিবাদ চলছে, শত্রুতা হচ্ছে, হিংসা-বিদ্বেষ হচ্ছে, একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, এসব কিছুর ভিত্তি উড়ো কথা। পরিবার বা ঘনিষ্ঠ জনদের মধ্যে থেকে কেউ বললো যে, তোমার ব্যাপারে অমুক একথা বলছিলো। এখন আপনি তার কথা শুনে বিশ্বাস করলেন যে, আচ্ছা অমুক ব্যক্তি আমার ব্যাপারে একথা বলেছে! এখন এর ভিত্তিতে অন্তরে তার প্রতি শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। অথচ একজন মুসলমানের কাজ এই যে, যদি কোনো ভাইয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগের কোনো কথা পৌছে তাহলে সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসা করবে। আমি শুনেছি যে, 'আপনি আমার সম্পর্কে একথা বলেছেন। তা ঠিক কি না? তখন সঠিক বিষয় সামনে চলে আসবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00