📄 যাচাই করার ফলে বাস্তবতা প্রকাশ পায়
হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা শুনে রাগান্বিত হন এবং মুজাহিদদের একটি বাহিনী হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ রাযি.-এর নেতৃত্বে পাঠিয়ে দেন। এদিকে মুজাহিদবাহিনী যাত্রা করে, ওদিকে হযরত হারেস ইবনে যাররার রাযি. নিজের সঙ্গীদের নিয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। যখন তারা মুখোমুখি হন, তখন হযরত হারেস রাযি. জিজ্ঞাসা করেন যে, আপনারা আমাদের উপর আক্রমণ করার জন্যে কেন এসেছেন? কারণ, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিলো যে, আপনাদের মধ্য থেকে কোনো একজন যাকাত উসূল করার জন্যে আসবে। সৈন্যবাহিনীর লোকেরা উত্তর দিলো যে, যাকাত উসূল করার জন্যে এক ব্যক্তি এসেছিলো, কিন্তু আপনারা তার উপর আক্রমণ করার জন্যে সৈন্যসমাবেশ ঘটান। বণু মুস্তালিকের লোকেরা উত্তর দেয় যে, আমাদের নিকট কোনো লোক আসেনি এবং আমরা সৈন্যসমাবেশও ঘটাইনি। বরং হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দূতকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে আমরা প্রতিদিন বাইরে এসে একত্রিত হতাম। তখন বাস্তবতা সামনে চলে আসে এবং হযরত খালেদ বিন ওলীদ রাযি. ফিরে এসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুরো ঘটনা শুনান যে, এই ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। ফলে এ পরিস্থিতির অবসান ঘটে। এক্ষেত্রে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়।২
টিকাঃ
২. তাফসীরে ইবনে কাসীর খন্ডঃ ৪, পৃঃ ২৬৫-২৬৬
📄 শোনা কথার উপর বিশ্বাস করা উচিত নয়
এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কাছে কোনো দায়িত্বহীন ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসলে প্রথমে তা যাচাই করবে। যাচাই করা ছাড়া ঐ সংবাদের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। এ ঘটনায় যতো ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে তার কারণ এই হতে পারে যে, হযরত ওলীদ ইবনে উকবা রাযি.-কে কেউ এসে হয়তো বলেছে যে, এরা তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্যে একত্রিত হয়েছে। এর ফলে তিনি রাস্তা থেকেই ফিরে এসেছেন। এ প্রসঙ্গে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। যার মধ্যে সবসময়ের জন্যে মুসলমানদেরকে হেদায়েত দেওয়া হয় যে, একটি কথা শুনে তার উপর বিশ্বাস করে সামনে চালিয়ে দেওয়া এবং তার ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হারাম।
📄 ভিত্তিহীন প্রচার হারাম
একে বর্তমানের পরিভাষায় ভিত্তিহীন প্রচার বলে। আফসোস যে, আমাদের সমাজে এ মন্দ চরিত্র এতো মারাত্মকভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে, আল্লাহ হেফাজত করুন! কোনো কথা সামনে প্রচার করতে ও বর্ণনা করতে কোনো প্রকার সতর্কতা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রশ্নই নেই। কোনো উড়ো কথা কানে এলো অবিলম্বে তা সামনে চালিয়ে দিলো। বিশেষ করে যদি কারো সাথে বিরোধিতা থাকে, কারো সাথে শত্রুতা থাকে, কারো সাথে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংঘর্ষ থাকে, বা ব্যক্তিগত বিরোধ থাকে, আর তার সম্পর্কে সামান্য কোনো কথাও কানে পড়ে তাহলে তাই বিশ্বাস করে মানুষের মধ্যে ছড়াতে আরম্ভ করে।
📄 বর্তমানের রাজনীতি
বর্তমানের নোংরা রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ভিত্তিহীন কথা বানানো এবং বিনা যাচাইয়ে তা প্রচার করা আজকাল ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, যাচাই ছাড়া এই অপবাদ চাপিয়ে দিলো যে, অমুক ব্যক্তি এতো লক্ষ টাকা নিয়ে নিজের নীতি-আদর্শকে বিক্রি করে দিয়েছে। মনে রাখবেন! কোনো ব্যক্তি যতো খারাপই হোক না কেন, তার উপর মিথ্যা দোষ চাপিয়ে দেওয়ার কোনো বৈধতা নেই। শরীয়তের দৃষ্টিতে এমন করা হারাম।