📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হযরত ওয়ালীদ ইবনে উকবা রাযি.-এর ফিরে যাওয়া

📄 হযরত ওয়ালীদ ইবনে উকবা রাযি.-এর ফিরে যাওয়া


অপরদিকে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্ধারিত তারিখে হযরত ওলীদ ইবনে উকবা রাযি.-কে নিজের দূত বানিয়ে যাকাত উসূল করার জন্যে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু হযরত ওলীদ ইবনে উকবা রাযি. পথের মধ্যে চিন্তা করেন যে, ঐ গোত্রের লোকদের সঙ্গে আমার পুরাতন শত্রুতা রয়েছে, তারা আবার আমাকে হত্যা করে না ফেলে। যেহেতু তারা স্বাগত জানানোর জন্যে জনপদের বাইরেও চলে এসেছিলো, এজন্যে হযরত ওলীদ ইবনে উকবার রাযি.-এর আরো দৃঢ় বিশ্বাস হয় যে, এসব লোক হয়তো পুরাতন শত্রুতার কারণে আমাকে হত্যা করতে এসেছে। সুতরাং তিনি রাস্তা থেকেই ফিরে আসেন এবং হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন যে, তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে এবং আমাকে হত্যা করার ইচ্ছা করেছে, এজন্যে আমি ফিরে চলে এসেছি।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 যাচাই করার ফলে বাস্তবতা প্রকাশ পায়

📄 যাচাই করার ফলে বাস্তবতা প্রকাশ পায়


হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা শুনে রাগান্বিত হন এবং মুজাহিদদের একটি বাহিনী হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ রাযি.-এর নেতৃত্বে পাঠিয়ে দেন। এদিকে মুজাহিদবাহিনী যাত্রা করে, ওদিকে হযরত হারেস ইবনে যাররার রাযি. নিজের সঙ্গীদের নিয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। যখন তারা মুখোমুখি হন, তখন হযরত হারেস রাযি. জিজ্ঞাসা করেন যে, আপনারা আমাদের উপর আক্রমণ করার জন্যে কেন এসেছেন? কারণ, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিলো যে, আপনাদের মধ্য থেকে কোনো একজন যাকাত উসূল করার জন্যে আসবে। সৈন্যবাহিনীর লোকেরা উত্তর দিলো যে, যাকাত উসূল করার জন্যে এক ব্যক্তি এসেছিলো, কিন্তু আপনারা তার উপর আক্রমণ করার জন্যে সৈন্যসমাবেশ ঘটান। বণু মুস্তালিকের লোকেরা উত্তর দেয় যে, আমাদের নিকট কোনো লোক আসেনি এবং আমরা সৈন্যসমাবেশও ঘটাইনি। বরং হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দূতকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে আমরা প্রতিদিন বাইরে এসে একত্রিত হতাম। তখন বাস্তবতা সামনে চলে আসে এবং হযরত খালেদ বিন ওলীদ রাযি. ফিরে এসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুরো ঘটনা শুনান যে, এই ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। ফলে এ পরিস্থিতির অবসান ঘটে। এক্ষেত্রে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়।২

টিকাঃ
২. তাফসীরে ইবনে কাসীর খন্ডঃ ৪, পৃঃ ২৬৫-২৬৬

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 শোনা কথার উপর বিশ্বাস করা উচিত নয়

📄 শোনা কথার উপর বিশ্বাস করা উচিত নয়


এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কাছে কোনো দায়িত্বহীন ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসলে প্রথমে তা যাচাই করবে। যাচাই করা ছাড়া ঐ সংবাদের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। এ ঘটনায় যতো ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে তার কারণ এই হতে পারে যে, হযরত ওলীদ ইবনে উকবা রাযি.-কে কেউ এসে হয়তো বলেছে যে, এরা তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্যে একত্রিত হয়েছে। এর ফলে তিনি রাস্তা থেকেই ফিরে এসেছেন। এ প্রসঙ্গে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। যার মধ্যে সবসময়ের জন্যে মুসলমানদেরকে হেদায়েত দেওয়া হয় যে, একটি কথা শুনে তার উপর বিশ্বাস করে সামনে চালিয়ে দেওয়া এবং তার ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হারাম।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ভিত্তিহীন প্রচার হারাম

📄 ভিত্তিহীন প্রচার হারাম


একে বর্তমানের পরিভাষায় ভিত্তিহীন প্রচার বলে। আফসোস যে, আমাদের সমাজে এ মন্দ চরিত্র এতো মারাত্মকভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে, আল্লাহ হেফাজত করুন! কোনো কথা সামনে প্রচার করতে ও বর্ণনা করতে কোনো প্রকার সতর্কতা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রশ্নই নেই। কোনো উড়ো কথা কানে এলো অবিলম্বে তা সামনে চালিয়ে দিলো। বিশেষ করে যদি কারো সাথে বিরোধিতা থাকে, কারো সাথে শত্রুতা থাকে, কারো সাথে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংঘর্ষ থাকে, বা ব্যক্তিগত বিরোধ থাকে, আর তার সম্পর্কে সামান্য কোনো কথাও কানে পড়ে তাহলে তাই বিশ্বাস করে মানুষের মধ্যে ছড়াতে আরম্ভ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00