📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 হাজরে আসওয়াদে ধাক্ষাধাক্কি

📄 হাজরে আসওয়াদে ধাক্ষাধাক্কি


হাজরে আসওয়াদে গিয়ে দেখুন কি হচ্ছে? সকল আলেম ও ফকীহ এ মাসআলা লিখে গিয়েছেন যে, হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা অনেক বড়ো ফযীলতের কাজ। কাউকে কষ্ট দেওয়া ছাড়া যদি চুম্বন করা সম্ভব হয় তাহলে দাও, অন্যথায় চুম্বন করা কোনো জরুরী নয়। ফরয-ওয়াজিব নয়। কিন্তু আজকাল সেখানে ধাক্কা-ধাক্কি হচ্ছে। অন্যকে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। ফযীলত লাভের জন্যে গোনাহ করা হচ্ছে। এসব কেন হচ্ছে? এজন্যে যে, আজকাল এগুলোকে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয় না যে, অন্যকে কষ্ট দেওয়া গোনাহের কাজ এবং হারাম। যাই হোক, আমরা সকলে মিলে যদি এক কাজের জন্যে যাই তাহলে আমরা সকলে পরস্পরের জন্যে اَلصَّاحِبُ بِالْجَنْبِ। তখন প্রত্যেকের অপরের উপর হক রয়েছে। যদি লাইন বানিয়ে নেই তাহলে সবাই সুযোগ লাভ করবে, কিন্তু এদিকে কারো মনোযোগই নেই।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 একটি সোনালী বাণী

📄 একটি সোনালী বাণী


আমার ওয়ালেদ মাজেদ রহ. একটি সোনালী কথা বলতেন, যা অন্তরে অঙ্কন করে নেওয়ার মতো। তিনি বলতেন যে, বাতিলের মধ্যে উন্নতির কোনো যোগ্যতাই নেই। কুরআনে কারীম বলে-
إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا 'নিশ্চয়ই বাতিল বিলুপ্ত হবেই।" বাতিল তো বিলুপ্ত হওয়ার জন্যে এবং অবদমিত হওয়ার জন্যে এসেছে। তা কখনোই মাথা উঁচু করতে পারে না। কোনো বাতেল সম্প্রদায়কে যদি তোমরা দেখো যে, তারা দুনিয়াতে মাথা উঁচু করছে, উন্নতি করছে, তাহলে বুঝবে যে, তার সঙ্গে কোনো হক জিনিস যুক্ত হয়েছে। ঐ হক জিনিস তাকে উঁচু করছে। অন্যথায় বাতিলের মধ্যে উঁচু হওয়ার যোগ্যতা নেই। আজ আমরা আমেরিকা, বৃটিশ ও পশ্চিমা শক্তিসমূহকে যতো গাল-মন্দ করি, তাদের উপর যতো অভিশম্পাত করি, কিন্তু তাদের উন্নতি তাদের অশ্লীলতা ও নগ্নতার কারণে নয়, তাদের গলদ আকীদার কারণে নয়, বরং তাদের উন্নতি হচ্ছে ঐ সব গুণের কারণে, যেগুলো মূলত ইসলামের শিক্ষা দেওয়া গুণ। তারা ঐসব গুণ গ্রহণ করেছে। যেমন পরিশ্রম, কষ্ট-সাধনা, সাধুতা, ব্যবসায় আমাতনদারী, মানুষের হকের প্রতি লক্ষ রাখা- এসব বিষয় তাদেরকে দুনিয়াতে উন্নত করেছে। আখেরাতে তো তাদের কোনো অংশ নেই। তবে দুনিয়াতে আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেকের সঙ্গে এই আচরণ করেন যে, যে ব্যক্তি যেমন উপকরণ অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি দুনিয়াতে তেমন ফল লাভ করবে।

টিকাঃ
৫. বানী ইসরাঈল : ৮১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 ইসলামের মধ্যে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করো

📄 ইসলামের মধ্যে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করো


মূলত আমরা দ্বীনকে বিভিন্ন ঘরে বিভক্ত করে দিয়েছি। এক জাতি এক ঘরকে নিয়েছে এবং তাকে দ্বীন মনে করছে। এ ঘরের বাইরের জিনিস তার নিকট দ্বীন নয়। অথচ কুরআনে কারীম বলে যে-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السَّلْمِ كَافَّةً
'হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হও।”
এমন নয় যে, রমাযানুল মোবারকে তো খুব নফল নামায পড়বো, ই'তিকাফও করবো, রাত্রি জাগরণও করবো, তিলাওয়াতও করবো, যেই রমাযান শেষ হলো, মসজিদ থেকে বের হলাম, সেই কষাই হয়ে যাবো। মানুষের সঙ্গে মুআমালায় ও মুআশারায় খিয়ানত করতে আরম্ভ করবো। আজকের পৃথিবী অন্যায়-অপকর্মে ভরা। এর পরিণতিতে আমাদের উপর আযাব আসবে না তো কি আসবে? আল্লাহ তা'আলা হেফাজত করুন। আমীন। মোটকথা, এ হাদীস শরীফে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু হুরায়রা রাযি.-কে বলছেন যে, যদি তুমি মুসলমান হতে চাও তাহলে তুমি নিজে এসব বিষয়ে শোনো এবং অন্যদের পর্যন্ত পৌছাও। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এসব বিষয়ের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন, আমীন।

টিকাঃ
৬. বাকারাহ: ২০৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00