📄 অল্প সময়ে সঙ্গী
প্রতিবেশীর তৃতীয় প্রকার হলো- الصَّاحِبُ بِالْجَنْبِ। অর্থাৎ, অল্প সময়ের সঙ্গী। যেমন বাসে, জাহাজে, রেলগাড়িতে আপনার পার্শ্ববর্তী সীটে উপবিষ্ট ব্যক্তি الصَّاحِبُ بِالْجَنْبِ । কোনো মজলিসে, মসজিদে, শ্রেণিকক্ষে, সভা-সমাবেশে আপনার পাশে উপবেসনকারী ব্যক্তি الصَّاحِبُ بِالْجُنُب । আমরা নিজেদের উপরে জরিপ চালিয়ে দেখি যে, ইসলামী শিক্ষা থেকে আমরা কতো দূরে চলে গিয়েছি। রেলগাড়ি এবং জাহাজে সফর করার সময় সর্বত্র আপনি স্বার্থপরতার ঝোঁক দেখতে পাবেন। আমি ভালো জায়গা পাই, অন্যে পাক চাই না পাক। আমার আরাম মিলুক, অন্যের মিলুক বা না মিলুক। এই মেজাজ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কুরআনে কারীম বলে যে, যে ব্যক্তি الصَّاحِبُ بِالْجَنْبِ, সে তোমার সঙ্গী। যদিও অল্প সময়ের সঙ্গী। ঐ সাথীরও তোমার উপর হক রয়েছে।
📄 পশ্চিমাদের একটি ভালো গুণ
আমরা পশ্চিমাদেরকে খুব গাল-মন্দ করে থাকি এবং তারা এর উপযুক্তও। কিন্তু তাদের মধ্যে এমন কিছু গুণ রয়েছে, যা তারা মুসলমানদের মতো বাস্তবায়ন করেছে। এ দুনিয়া আমলের জায়গা। উপকরণের ভিত্তিতে চলে। যে ব্যক্তি কোনো উপকরণ অবলম্বন করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে দুনিয়াতে তার ভালো ফল দান করবেন। পশ্চিমাদের একটি মেজাজ হলো, কোনো এক কাজের জন্যে তিন ব্যক্তি কোথাও একত্রিত হলে সাথে সাথে তারা সারিবদ্ধ হয়ে যাবে। যেমন টিকিট ক্রয় করতে হলে, বাস, রেল বা জাহাজে আরোহণ করতে হলে লাইন ধরে আরোহণ করবে। তিন ব্যক্তি একত্রিত হলে নিজেরাই লাইন বানিয়ে নিবে। একে অপরের আগে যাওয়ার চেষ্টা করবে না। এটা সেখানকার সাধারণ নিয়ম। এরই ফল যে, এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কখনো ঝগড়া হয় না। ধাক্কা-ধাক্কি হয় না। ঠেলা-গুতা হয় না। সব কাজ আরামে হয়ে যায়। পুরো জাতির এই মেজাজ হয়ে গিয়েছে।
📄 আমাদের স্বার্থপরতার ঘটনা
আমি আমার নিজের ঘটনা বলছি। একবার আমাকে পি.আই.এ.-এর বিমানে নিউইয়র্ক থেকে করাচী আসতে হয়। যে পর্যন্ত শ্বেতাঙ্গদের নিয়ন্ত্রণ ছিলো, সে পর্যন্ত তো সব জায়গায় লাইন ছিলো। লাইন ধরে সব কাজ হয়ে যেতো। কিন্তু যখন বাসের মধ্যে বসার সময় এলো- তা যেহেতু আমাদের পাকিস্তানী ভাইদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো, বৃষ্টি হচ্ছিলো, বিমান বিলম্ব হয়েছিলো, এজন্যে বাস যোগে হোটেলে যেতে হবে- তখন বাসে ওঠার জন্যে এমন ধাক্কা-ধাক্কি হয় যে, আল্লাহ রক্ষা করুন! দুর্বল মানুষের তো বাসে উঠার প্রশ্নই আসে না! প্রত্যেকেই চাচ্ছিলো যে, অন্যদেরকে পিছে হটিয়ে আমি আগে বাসে আরোহণ করবো। আমি মনে মনে বললাম, তারা ছিলো কাফের, আর এরা মাশাআল্লাহ মুসলমান। এটা হলো স্বার্থপরতা যে, আমি আগে জায়গা পাই। আমি আরোহণ করি। আমার কাজ হোক। আমি সামনে অগ্রসর হই। অন্যদরকে পিছে ফেলে দেই। এসব এজন্যে হচ্ছে যে, আমরা এগুলোকে দ্বীন থেকে বের করে দিয়েছি। আমরা মনে করি যে, দ্বীন শুধু নফল পড়া ও তাসবীহ পাঠ করার নাম।
📄 মুসাফাহা করার একটি ঘটনা
দেখুন! মুসাফাহা করা কোনো ফরয ওয়াজিব নয়। বেশির চে' বেশি সুন্নাত। এই মুসাফাহা করার জন্যে কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া, ক্ষতি করা, ধাক্কা দেওয়া হারাম। হারাম কাজ করে আমরা সুন্নাতের উপর আমল করতে চাই। একবার সীমান্ত প্রদেশের এক এলাকায় আমার যাওয়া হয়। সেখানকার মসজিদে সমাবেশ হয়। আমার বয়ান হয়। ঐ মসজিদের দরজা ছিলো ছোট। উভয় দিকে জানালা ছিলো। বারান্দাও ছিলো। আঙ্গিনাও ছিলো। মানুষ অনেক দূর থেকে বয়ান শুনতে এসেছিলো। মসজিদের হল, বারান্দা ও আঙ্গিনা সব মানুষ দিয়ে পরিপূর্ণ ছিলো। যখন বয়ান শেষ হলো এবং মুসাফাহার পালা এলো- আপনাদেরকে আমি সত্য বলছি- বারান্দা ও আঙ্গিনার মানুষ জানালা দিয়ে ভিতরে আসার চেষ্টা করছিলো। এর ফলে মসজিদের জানালা ভেঙ্গে যায়। তাদের উদ্দেশ্য কেবল এই ছিলো যে, মুসাফাহা করার সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়। মাথায় এ কথা তো বদ্ধমূল ছিলো যে, মুসাফাহা করা সুন্নাত। মুসাফাহা করার ফযীলত মন-মগজে বসা ছিলো। কিন্তু এ কথা মাথায় ছিলো না যে, মসজিদের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কি করা এবং অন্যদেরকে কষ্ট দেওয়া হারাম। আসল কথা এই যে, আমাদের জাতির সঠিক তারবিয়াত হয়নি। এর ফলে এই বিপর্যয় ছড়িয়ে আছে।