📄 আজ দুনিয়া উপার্জনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে
আমাদের মধ্যে আজ যেই মসিবত এসেছে যে, অন্যে পাক চাই না পাক, আমাকে পেতে হবে। বরং অন্যেরটা ছিনিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করতে হবে। অন্যেরটা লুট করতে হবে। এই আপদ এসেছে দুনিয়া অর্জনের প্রতিযোগিতার কারণে। উপরের ঘটনায় লক্ষ করুন! দোকানের প্রতিবেশীর প্রতি লক্ষ করা হচ্ছে, তার সঙ্গে সদাচরণ করা হচ্ছে। যে মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকবে, যার অন্তরে আল্লাহর রাসূলের আযমত ও মহব্বত থাকবে, কেবল সেই এমন আচরণ করতে পারবে। অন্যে তা করতে পারবে না। কারণ, ব্যবসায়ী তো বলবে যে, আমি লাভের জন্যে এখানে বসেছি। নিজের মাল বিক্রির জন্যে এখানে বসেছি। অন্যের দোকানের মাল বিক্রির জন্যে বসিনি। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান রাখে এবং আল্লাহর রাসূলের এই বাণীর উপর ঈমান রাখে যে, নিজের প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করো তাহলে তুমি মুসলমান হয়ে যাবে, সে ব্যক্তি নিজের প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করতে পারবে, অন্যে পারবে না।
📄 উপমহাদেশে ইসলামের সূচনা কীভাবে হয়েছে
আমরা যদি আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাস দেখি, তাহলে দেখতে পাবো যে, এ অঞ্চলে ইসলামের যে আলো এসেছে, আল্লাহ তা'আলা এখানে ইসলামের যে নূর ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা মূলত হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর উপর আমলের ফল। শুরুতে কোনো ইসলামী সেনাবাহিনী এ অঞ্চল জয় করার জন্যে আসেনি। এমন কোনো তাবলীগ জামাতও এখানে আসেনি, যারা তাবলীগ করে মানুষকে মুসলমান বানিয়েছে। বরং এখানে সর্ব প্রথম মালাবার অঞ্চলে কতিপয় তাবেঈ- কোনো কোনো বর্ণনা দ্বারা জানা যায়- কিছু সাহাবীও মালাবারের উপকূলে অবতরণ করেন। সেখানে তারা ব্যবসা আরম্ভ করেন। সেই ব্যবসায় তারা যে সততা, আমানতদারী, দিয়ানতদারী ও মানব-প্রেমের প্রমাণ দেন, তার ফলে মানুষের মন তাদের দিকে আকৃষ্ট হতে থাকে। মানুষের মাথায় এ কথা আসে যে, যেই দ্বীন তাদেরকে এ শিক্ষা দিয়েছে, তা আমাদেরও গ্রহণ করা উচিত। সুতরাং সেই ব্যবসায়ীদেরকে দেখে মানুষ মুসলমান হয়ে যায়। এভাবে সর্বপ্রথম মালাবারে ইসলাম আসে। তারপর মালাবার থেকে পুরো উপমহাদেশে ইসলাম বিস্তার লাভ করে। তাই হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বলছেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করো তাহলে তুমি মুসলমান হয়ে যাবে, এর অর্থ হলো, তোমার মুসলমান হওয়ার একটি নিদর্শন দুনিয়ার সামনে আসবে। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার তাওফীক দান করবেন।
📄 দেয়ালের উপর শাহতীর রাখার অনুমতি
মোটকথা, তোমার দেয়ালের সঙ্গে যাদের দেয়াল মিলিত আছে, তারা হলো প্রথম প্রকারের প্রতিবেশী। দ্বিতীয় প্রকারের প্রতিবেশী তারা, যারা একটু দূরে আছে, তারপরেও নিকটে। এই উভয় প্রকারের প্রতিবেশীর হক রয়েছে।
এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমার প্রতিবেশী যদি তোমার দেয়ালের উপর তার শাহতীর রাখতে চায় তাহলে তাকে নিষেধ করবে না। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. এই হাদীস মানুষদেরকে শুনাচ্ছিলেন। হাদীস শুনে মানুষ খুব বিস্মিত হলো যে, দেয়াল আমার, আমার মালিকানাধীন, এমতাবস্থায় এটা কি আমার উপর ফরয যে, তার উপর প্রতিবেশীর শাহতীর রাখতে আমি নিষেধ করবো না? তাদের বিস্ময় দেখে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, আল্লাহর কসম! এটা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী। তোমাদের যতোই খারাপ লাগুক না কেন আমি তো এ বাণীকে তোমাদের কাঁধের মাঝে নিক্ষেপ করে ছাড়বো।
উদ্দেশ্য হলো আমি তোমাদেরকে এ বাণী শোনাবোই। অথচ নিজের দেয়ালের উপর প্রতিবেশীর শাহতীর রাখার অনুমতি দেওয়া ফরয ও ওয়াজিব নয়, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্বুদ্ধ করেছেন যে, তুমি যদি মুসলমান হয়ে থাকো তাহলে তোমাকে এ কাজ করতে হবে।
টিকাঃ
৪ সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২২৮৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩০১৯, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১২৭৩, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১৫০
📄 প্রতিবেশীর হকের মধ্যে অমুসলিমও অন্তর্ভুক্ত
আরেকটি বিষয় বুঝুন যে, প্রতিবেশীর হকের ক্ষেত্রে মুসলিম ও অমুসলিম সকলে সমান। অর্থাৎ, প্রতিবেশী হওয়ার দিক থেকে সকলে সমান। আপনার যদি কোনো অমুসলিম প্রতিবেশী থাকে, তাহলে তার সঙ্গে সদাচরণ করা আপনার দায়িত্বে। কতক সময় এই ভুল বুঝাবুঝি হয় যে, সে তো কাফের। তার সঙ্গে কেন সদাচরণ করবো? এ কথা ঠিক নয়। কারণ, প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে তার সঙ্গে সদাচরণ করা আপনার জন্যে সওয়াব ও পুরস্কারের কারণ। প্রতিবেশী হওয়ার ভিত্তিতে আপনি যদি তার সঙ্গে সদাচরণ করেন, তাকে হাদিয়া-তোহফা দেন, তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন, তাহলে এসব কিছু আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির কারণ হবে। আর হতে পারে আপনার সদাচরণের ফলে আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরে ঈমান ঢেলে দিবেন। কতো অমুসলিমকে মুসলমানদের প্রতিবেশী হওয়ার ফলে আল্লাহ তা'আলা ঈমানের তাওফীক দান করেছেন। তাই প্রতিবেশী মুসলমান হোক বা অমুসলিম, গরিব হোক বা ধনী, নেককার হোক বা বদকার, তারা বদকারীর কারণে প্রতিবেশী হওয়ার হক থেকে বঞ্চিত হবে না। হ্যাঁ, সুযোগ মতো উপযুক্ত সময়ে তাকে নেক কাজের শিক্ষা দিন।