📄 স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক
এমনিভাবে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া। সেখানেও দুই ধরনের মাপেরই অধিক দখল রয়েছে। সেখানও এই হাদীসের উপর আমল করা জরুরী যে, তাদের জন্যেও তাই পছন্দ করো, যা নিজের জন্যে পছন্দ করো। তুমি যদি স্বামী হয়ে থাকো তাহলে লক্ষ করো যে, আমি স্ত্রীর নিকট থেকে কী ধরনের আচরণের আশা রাখি, তার কোন্ কাজ দ্বারা আমার কষ্ট হয় এবং তার কোন কাজ দ্বারা আমার আরাম হয়। তারপর তুমিও নিজের স্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ করো, যা তাকে আরাম দিবে, কষ্ট দিবে না। আর যদি তুমি স্ত্রী হয়ে থাকো, তাহলে দেখো যে, আমার স্বামীর কোন্ কাজ ও কোন্ আচরণ দ্বারা আমি কষ্ট পাই এবং কোন্ কাজ ও কোন্ আচরণ দ্বারা আরাম পাই। তারপর স্ত্রী তার স্বামীর সঙ্গে এমন আচরণ করবে, যা তাকে আরাম পৌঁছাবে।
📄 বৌ-শাশুড়ির ঝগড়ার কারণ
বৌ-শাশুড়ির ঝগড়া-বিবাদে আমাদের পুরো সমাজ ভরা। অসংখ্য পরিবার এই অশান্তির শিকার। এসব কেন হচ্ছে? কারণ, এই হাদীসের উপর আমল হচ্ছে না। যতোদিন পর্যন্ত শাশুড়ি সাহেবা বৌ ছিলেন, ততোদিন পর্যন্ত তিনি তার শাশুড়ির নিকট কেমন আচরণের প্রত্যাশা রাখতেন, আর এখন যখন নিজে শাশুড়ি হয়েছেন, তার বৌয়ের সঙ্গে কেমন আচরণ করছেন? এরা দুই ধরনের মাপ বানিয়ে রেখেছেন। নিজের জন্যে এক মাপ, আর অন্যের জন্যে আরেক মাপ। যদি এক মাপ হতো তাহলে সব ঝগড়া শেষ হয়ে যেতো।
📄 এ পদ্ধতিকে বিলুপ্ত করো
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ * الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُوْنَ . وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ
আক্ষেপ সে সব লোকের জন্যে, যারা নিজেদের অধিকার গ্রহণের সময় পুরোপুরি গ্রহণ করে, কোনো কমতি রাখে না, আর যখন অন্যকে দেওয়ার সময় হয় তখন কম দেয়।
যাই হোক, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীস দ্বারা এমন মাপকাঠি বলে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সামাজিক কর্মকান্ডের জরিপ চালিয়ে দেখতে পারি যে, আমাদের দ্বারা কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে। যেখানে যেখানে ভুল হচ্ছে তা ঠিক করে নাও। তাহলে আল্লাহ তা'আলা এর এমন বরকত দান করবেন যে, আমাদের দ্বীন-দুনিয়া ঠিক হয়ে যাবে।
টিকাঃ
২. মুতাফফিফীন: ১-৩
📄 আমার মাখলুককে ভালোবাসো
আমার শাইখ হযরত আরেফী রহ. বলতেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার সঙ্গে যদি তোমাদের ভালোবাসা থাকে তাহলে আমার মাখলুককে ভালোবাসো। তুমি আমাকে কি করে ভালোবাসবে? তুমি না আমাকে দেখেছো, না তোমার মধ্যে আমাকে দেখার শক্তি আছে। এজন্যে তুমি আমাকে কি করে মহব্বত করবে? আমাকে মহব্বত করার পদ্ধতি এই যে, আমার সৃষ্টিকে মহব্বত করো, আমার বান্দাদেরকে ভালোবাসো। হযরতের কথার সারকথা এই যে, আল্লাহ তা'আলা যখন কারো অন্তরে তাঁর মহব্বত দান করেন, তখন আল্লাহর সব সৃষ্টির সঙ্গে তার মহব্বত হয়ে যায়। তার অন্তরে কারো প্রতি বিদ্বেষ থাকে না। কারো প্রতি শত্রুতা থাকে না। কবি বলেন,
کفر است در طریقت ماکینه داشتن آئین ماست سینه چون آئینه داشتن
'তরিকতের মধ্যে কারো প্রতি বিদ্বেষ রাখা কুফরী, আমাদের আইন হলো, অন্তরকে আয়নার মতো স্বচ্ছ রাখা।' এখানে না কারো বিরুদ্ধে ক্রোধ রয়েছে, না হিংসা রয়েছে, না বিদ্বেষ রয়েছে, না শত্রুতা রয়েছে। বরং সর্বাবস্থায় অন্যের কল্যাণকামনা রয়েছে।