📄 মাখলুকের খেদমত করা ছাড়া তাসাওউফ লাভ হয় না
এই উত্তরের মাধ্যমে হযরত থানভী রহ. এ কথা বলে দিয়েছেন যে, মূলত সূফী সে-ই, যে প্রত্যেক কাজে আল্লাহকে খুশি করার নিয়ত করে। আর আল্লাহকে খুশি করার পদ্ধতি এই যে, আল্লাহর বান্দাদেরকে কষ্ট থেকে বাঁচাবে। তাদেরকে আরাম পৌছাবে। এজন্যে হযরত থানভী রহ. বলেন যে, দেখো! আমি তোমাকে এখন থেকেই সুফী বানাচ্ছি। আজকাল মানুষ খানকার মধ্যে অবস্থান, সাধনা, মুজাহাদা, মুরাকাবা, কাশ্ফ ও কারামতের নাম দিয়েছে তাসাওউফ। কিন্তু হযরত থানভী রহ. এ হাকীকত খুলে দিয়েছেন যে, এর নাম তাসাওউফ নয়।
ز تسبیح و سجاده و دلق نیست طریقت بجز خدمت خلق نیست
অর্থাৎ, শুধু তাসবীহ পাঠ করা, জায়নামাযের উপর বসে থাকা আর মোটা কাপড় পরিধান করার নাম তাসাওউফ নয়। বরং মানুষের খেদমত করা ছাড়া তাসাওউফ লাভ হতে পারে না। যাই হোক, আসল কথা এই যে, আমার দ্বারা অন্য কেউ যেন সামান্যও কষ্ট না পায়।
📄 আমার সাথে যদি এমন আচরণ হতো, তাহলে?
এর মাপকাঠি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলেছেন যে, যখনই কারো সঙ্গে আচরণ করবে, তখনই তাকে নিজের জায়গায় এবং নিজেকে তার জায়গায় খাড়া করবে এবং দেখবে যে, আমার সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হতো তাহলে আমার কেমন অবস্থা হতো। আমি এতে খুশি হতাম, না বেজার হতাম। এর দ্বারা আমি আরাম পেতাম, না কষ্ট পেতাম। এ কথা চিন্তা করো। এ আচরণ দ্বারা যদি তোমার কষ্ট হতো তাহলে তুমি অন্যের সঙ্গে এমন আচরণ কোরো না। আমরা যে দুই রকমের মাপ বানিয়ে নিয়েছি, নিজেদের জন্যে এক রকম আর অন্যদের জন্যে অন্য রকম, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীস দ্বারা সে পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। মাপ এক রকম হওয়া উচিত। নিজের জন্যে যেই মাপ, অন্যের জন্যেও একই মাপ।
📄 দায়িত্বের পরোয়া নেই, অধিকার আদায়ের চিন্তা আগে
এক ব্যক্তি কোথাও চাকুরী করে বা শ্রমিকের কাজ করে। তার এ হাদীস তো খুব মনে আছে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শ্রমিকের ঘام শুকানোর পূর্বে তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করো। এ হাদীস তো খুব স্মরণ আছে, কিন্তু এ বিষয়ে চিন্তা নেই যে, ঘام আদৌও বের হলো কি না। যেই কাজের জন্যে তাকে চাকর রেখেছে, তা সে সঠিকভাবে সম্পাদন করেছে কিনা- এ বিষয়ে কোনো চিন্তা-ফিকির নেই। আজকাল বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সারা দুনিয়ায় এ ধরনের সংগঠন রয়েছে। যেমন, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ সংগঠন, চাকুরীজীবিদের অধিকার সংগঠন, নারী-অধিকার সংগঠন ইত্যাদি। এর ফল এই হয়েছে যে, প্রত্যেকে নিজের অধিকার আদায়ের দাবি করছে যে, আমার অধিকার আমাকে পেতে হবে, কিন্তু আমার দায়িত্বে অন্যের যে হক আছে, তার প্রতি কোনো লক্ষ নেই। শ্রমিক বলছে যে, আমার পুরো পারিশ্রমিক পেতে হবে, কিন্তু আমার দায়িত্বে যে আট ঘণ্টা ডিউটি রয়েছে, তার পুরা সময় শ্রমের পিছনে দিচ্ছি, নাকি সেখানে ফাঁকি দিচ্ছি- এদিকে মোটেই ভ্রুক্ষেপ নেই। অফিসে বিলম্বে যাচ্ছে। বিলম্বে গিয়েও নিজের দায়িত্ব পালন করছে না। অফিসে টাইমে নিজের ব্যক্তিগত কাজ করছে। এসব কেন হচ্ছে? এ কারণে যে, যা কিছু নিজের জন্যে পছন্দ করছে তা অন্যের জন্যে পছন্দ করছে না। নিজের জন্যে এক মাপকাঠি, আর অন্যের জন্যে অন্য মাপকাঠি। এখন যদি তাকে বলা হয় যে, যেহেতু তুমি পুরো সময় দাওনি, এজন্যে তোমার বেতন কাটা হবে, তাহলে এর বিরুদ্ধে লড়াই-ঝগড়া ও সভা-সমাবেশ শুরু হয়ে যাবে যে, কর্মচারীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে।
📄 চাকুরীর ক্ষেত্রে কর্মপদ্ধতি
এসব এজন্যে হচ্ছে যে, নিজের জন্যে এক মাপকাঠি, আর অন্যের জন্যে ভিন্ন মাপকাঠি। নিজের দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না। শুধু নিজের অধিকারের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে। এ শুধু সরকারি চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে নয়, বরং যেসব আলেম মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন, বা মাদরাসায় চাকুরীরত আছেন, তাদের মধ্য থেকে খুব কম মানুষের অন্তরে একথা জাগে যে, আমার এ বেতন হালাল হচ্ছে কি না? আমাদের দারুল উলূম করাচীতে নিয়ম রয়েছে যে, সমস্ত ওস্তাদ ও কর্মচারী তাদের আগমন ও বর্হিগমনের সময় লিখে রাখেন। শ্রেণিকক্ষে যেতে বেশি বিলম্ব হলে তার বেতন আপনাআপনি কাটা যায়।