📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 প্রত্যেক বিষয়কেই মাপকাঠিতে ওজন করো

📄 প্রত্যেক বিষয়কেই মাপকাঠিতে ওজন করো


মানুষ প্রত্যেক কাজেই লক্ষ রাখবে যে, আমার এ কাজ দ্বারা অন্য কেউ কষ্ট পাচ্ছে না তো। এ বিষয়টি লক্ষ রাখলে মুআশারাতের যাবতীয় বিধান মানা এবং বান্দার সব হক আদায় করা হয়ে যাবে। কিন্তু এটা কীভাবে বোঝা যাবে যে, আমার দ্বারা অন্যে কষ্ট পাচ্ছে কি না, وَأَحِبُّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ হাদীস তার মাপকাঠি। অর্থাৎ, অন্যের জন্যে তাই পছন্দ করো যা নিজের জন্যে পছন্দ করো। প্রত্যেক বিষয়কে এ মাপকাঠিতে ওজন করে দেখো, তাহলে অন্যে কষ্ট পাচ্ছে কি না, জানতে পারবে? যদি অন্যে কষ্ট পায়, তাহলে তা ত্যাগ করো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 খাওয়ার পরে পান খাওয়া

📄 খাওয়ার পরে পান খাওয়া


হযরত থানভী রহ. বলতেন যে, আমাদের এখানে তো এ জাতীয় হাসাওউফ রয়েছে। যদি মুরাকাবা-মুজাহাদার তাসাওউফ চাও তাহলে অন্যত্র চলে যাও। আমাদের এখানে তো এ তারবিয়াতই দেওয়া হয় যে, এক মানুষ যেন অন্য মানুষের জন্যে কষ্টের কারণ না হয়।
আমি এ ঘটনা আপনাদেরকে এর আগেও শুনিয়েছি যে, আমার ভাই জনাব মুহাম্মাদ যাকী কাইফী মরহুম- আল্লাহ তা'আলা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, আমীন- তিনি শিশু বয়সে হযরত ওয়ালেদ ছাহেবের সঙ্গে হযরত থানভী রহ.-এর খেদমতে যাতায়াত করতেন। হযরত শিশুদেরকে খুব আদর করতেন। কারণ, এটা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। হযরত ওয়ালেদ ছাহেব রহ. প্রতি বছর রমাযান মাস থানা ভবনে পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটাতেন। শিশুদের ব্যাপারে কোনো নিয়ম-কানুন ছিলো না। বড়ো বড়ো মানুষ খানকার মধ্যে অবস্থানকালে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতেন যে, কোনো কাজ যেন হযরতের মেজাজের খেলাফ না হয়। কিন্তু শিশুরা স্বাধীনভাবে হযরতের নিকট চলে যেতো। হযরতের নিয়ম এই ছিলো যে, খানা খাওয়ার পর চুন, সুপারি ও খর ছাড়া পান পাতা চাবাতেন। কারণ, পান হজমের কাজ দেয়। এতে কোনো ক্ষতি নেই। আমার বড়ো ভাই জনাব যাকী কাইফী মরহুমের উপর খানা খাওয়ার পর ঘর থেকে পান আনার দায়িত্ব ছিলো। এ কারণে হযরত তার নাম দিয়েছিলেন 'পানী'।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 পাঠকের যেন কষ্ট না হয়

📄 পাঠকের যেন কষ্ট না হয়


ভাই ছাহেব মরহুম যখন লিখতে শিখলেন, তখন হযরত ওয়ালেদ ছাহেব বললেন যে, তুমি প্রথম চিঠি হযরত থানভী রহ.-কে লিখো। ওয়ালেদ ছাহেব তার দ্বারা চিঠি লিখিয়ে হযরতের খেদমতে পাঠিয়ে দিলেন। হযরত থানভী রহ. তার উত্তরে ইলমের একটি অধ্যায় উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। উত্তরে হযরত বলেন, 'তোমার চিঠি পেলাম। মন খুব আনন্দিত হলো যে, তুমি লিখতে শিখেছো। এখন তুমি নিজের লেখাকে আরো ভালো করার চেষ্টা করো। আর নিয়ত এই করো যে, পাঠকের যেন কষ্ট না হয়। দেখো! আমি তোমাকে এখন থেকেই সূফী বানাচ্ছি।'
যেই শিশু মাত্র লেখা শিখছে, বলাবাহুল্য যে, সে আঁকা-বাঁকা লিখবে। সে সময় শিশুটিকে বলা হচ্ছে যে, হাতের লেখা ঠিক করো, যাতে পাঠকের কষ্ট না হয়। সাথে এ কথাও বলছেন যে, দেখো! আমি এখন থেকেই তোমাকে সূফী বানাচ্ছি! কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে যে, হাতের লেখা ঠিক হওয়ার সঙ্গে সূফীর কী সম্পর্ক? কারণ, আমাদের মাথায় বদ্ধমূল যে, যে ব্যক্তি যতো বেশি এলোমেলো, সে ততো বড়ো সূফী! যে যতো বেশি ময়লা ও অপরিষ্কার, সে ততো বড়ো সূফী! যার কোনো কাজেরই শৃঙ্খলা নেই, সে হলো বড়ো সূফী!

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মাখলুকের খেদমত করা ছাড়া তাসাওউফ লাভ হয় না

📄 মাখলুকের খেদমত করা ছাড়া তাসাওউফ লাভ হয় না


এই উত্তরের মাধ্যমে হযরত থানভী রহ. এ কথা বলে দিয়েছেন যে, মূলত সূফী সে-ই, যে প্রত্যেক কাজে আল্লাহকে খুশি করার নিয়ত করে। আর আল্লাহকে খুশি করার পদ্ধতি এই যে, আল্লাহর বান্দাদেরকে কষ্ট থেকে বাঁচাবে। তাদেরকে আরাম পৌছাবে। এজন্যে হযরত থানভী রহ. বলেন যে, দেখো! আমি তোমাকে এখন থেকেই সুফী বানাচ্ছি। আজকাল মানুষ খানকার মধ্যে অবস্থান, সাধনা, মুজাহাদা, মুরাকাবা, কাশ্ফ ও কারামতের নাম দিয়েছে তাসাওউফ। কিন্তু হযরত থানভী রহ. এ হাকীকত খুলে দিয়েছেন যে, এর নাম তাসাওউফ নয়।
ز تسبیح و سجاده و دلق نیست طریقت بجز خدمت خلق نیست
অর্থাৎ, শুধু তাসবীহ পাঠ করা, জায়নামাযের উপর বসে থাকা আর মোটা কাপড় পরিধান করার নাম তাসাওউফ নয়। বরং মানুষের খেদমত করা ছাড়া তাসাওউফ লাভ হতে পারে না। যাই হোক, আসল কথা এই যে, আমার দ্বারা অন্য কেউ যেন সামান্যও কষ্ট না পায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00