📄 তাবুক যুদ্ধের ঘটনা দ্বারা প্রশ্ন ও তার উত্তর
হযরত থানভী রহ.-এর এ কথাটি আমি একবার বয়ানের মধ্যে বলি। যেন এক ব্যক্তি বলে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও তাবুক যুদ্ধের সময় সমাবেশের মধ্যে চাঁদা সংগ্রহ করেছিলেন। তাবুক যুদ্ধের প্রয়োজন যখন দেখা দেয়, তখন তিনি দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন যে, এ সময় জিহাদের জন্যে রসদপত্রের তীব্র প্রয়োজন, যে ব্যক্তি এতে ব্যয় করবে সে এই সওয়াব পাবে। সুতরাং হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. এ ঘোষণা শুনে বাড়ির সব সম্পদ নিয়ে আসেন। এর দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মজমার মধ্যে চাঁদার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এর উত্তর এই যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, এখনই এবং এ জায়গাতেই চাঁদা দাও। বরং তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, এই পরিমাণ প্রয়োজন। প্রত্যেকে যার যার সুবিধা মতো যখন যে পরিমাণ ইচ্ছা চাঁদা দিবে। সুতরাং সাহাবায়ে কেরام পরবর্তীতে বিভিন্ন জিনিস এনে জমা দেন। এ ঘোষণা ছিলো না যে, এখন এবং এখানেই জমা করো।
দ্বিতীয় উত্তর এই যে, সাহাবায়ে কেরামের অবস্থাকে আমাদের অবস্থার সঙ্গে কি করে তুলনা করতে পারি? আল্লাহ তা'আলা সাহাবায়ে কেরামের মাখলাককে এমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ করে দিয়েছিলেন যে, তাদের মধ্যে কেউই এমন ছিলেন না যে, শুধু মানুষকে দেখানোর জন্যে চাঁদা দিবে। আল্লাহর জন্যে চাঁদা দেওয়ার থাকলে দিতেন, না দেওয়ার থাকলে না দিতেন। আমাদের সমাজের মানুষ চাপের মুখে পড়ে চক্ষুলজ্জার কারণে দিতে বাধ্য হয়। এজন্যে বর্তমানের অবস্থাকে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থার সাথে তুলনা করা যায় না। এজন্যে হযরত থানভী রহ. বলেন যে, সাধারণ মজমায় প্রচলিত নিয়মে চাঁদা সংগ্রহ করা জায়েয নয়। কারণ, এমন চাঁদার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত মনে দেওয়া পাওয়া যায় না।
📄 চাঁদা সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি
চাঁদা সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি এই যে, আপনি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন যে, এটি একটি প্রয়োজন এবং দ্বীনের সঠিক খাত। এখানে দান করলে সওয়াব হবে। এজন্যে যার যখন ইচ্ছা এ প্রয়োজন পূরণের জন্যে এবং সওয়াব অর্জনের জন্যে চাঁদা দিবেন। এসমস্ত বিধান এ হাদীস থেকেই বের হচ্ছে যে, কোনো ব্যক্তি অন্যের সম্পদ ও অন্যের সামানা বাস্তবেও নিবে না এবং ঠাট্টা করেও নিবে না।
📄 ধার নেওয়া জিনিস তাড়াতাড়ি ফেরত না দেওয়া
হাদীস শরীফে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাও ইরশাদ করেছেন,
وَإِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ عَصَا صَاحِبِهِ فَلْيَرْدُدْهَا عَلَيْهِ
তুমি যদি কোনো সময় অন্যের লাঠিও নিয়ে থাকো তাহলে তা ফিরিয়ে দাও।” অর্থাৎ, তুমি যদি কোনো জিনিস ব্যবহারের জন্যে ধার নিয়ে থাকো এবং সে খুশি মনে তোমাকে দিয়ে থাকে, খুশি মনে দিয়ে তো সে কোনো অপরাধ করেনি, এজন্যে প্রয়োজন পুরা হলে জিনিসটি তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দাও। এ ব্যাপারেও আমাদের অনেক ত্রুটি ও গাফলতি হয়ে থাকে। একটি জিনিস প্রয়োজনে কারো থেকে নিয়েছিলো, এখন তা বাড়িতে পড়ে আছে। ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তা নেই। আরে ভাই! তোমার প্রয়োজন যখন পুরা হয়ে গিয়েছে, এবার তা ফিরিয়ে দাও। হতে পারে, যার জিনিস তার ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিন্তু সে লজ্জা বোধ করছে যে, তার কাছে কীভাবে চাইবো। এখন তুমি ব্যবহার করলে তার খুশি মনের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করছো। এজন্যে এভাবে ব্যবহার করা তোমার জন্যে হারাম।
📄 কিতাব নিয়ে ফিরিয়ে না দেওয়া
এমনিভাবে আমাদের সমাজে মাসআলা বানিয়ে নেওয়া হয়েছে যে, কিতাব চুরি করা চুরির অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, অন্য কারো থেকে পড়ার জন্যে কিতাব নিলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিতাব পড়ার পর ঘরে পড়ে আছে, কিন্তু ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তা নেই। অথচ হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেন যে, তুমি যদি অন্যের কোনো জিনিস নিয়ে থাকো তাহলে তাকে তা ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করো। দ্রুত মালিকের কাছে পৌছিয়ে দাও।
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এসব বাণীর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন, আমীন।
টিকাঃ
১২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২০৮৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৫০, মুসনানে আহমাদ, হাদীস নং ১৭২৬১