📄 স্বতঃস্ফূর্ততা ছাড়া চাঁদা গ্রহণ করা
একইভাবে যে ভালো উদ্দেশ্যেই চাঁদা নেওয়া হোক না কেন, মাদরাসার জন্যে হোক, মসজিদের জন্যে হোক, জিহাদের জন্যে হোক বা তাবলীগের জন্যে- চাঁদা গ্রহণের সময় যদি কোনো ক্ষেত্রে সামান্য চাপও হয় তাহলে ঐ চাঁদা হারাম। এ বিষয়ে হযরত মাওলানা আশরাফ আলী ছাহেব রহ.-এর স্বতন্ত্র পুস্তক রয়েছে। তাতে তিনি বলেন যে, আজকাল চাঁদার যে পদ্ধতি রয়েছে- বড়ো বড়ো ব্যক্তিরা নিজেদের ব্যক্তিত্বের চাপ সৃষ্টি করে চাঁদা উসূল করে থাকে। কারণ, মাদরাসার সাধারণ কোনো দূতকে চাঁদার জন্যে পাঠানো হলে চাঁদা কম উসূল হবে। এজন্যে কোনো বড়ো ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে চাঁদার জন্যে পাঠানো হয়। যার ফল এই হয় যে, ঐ প্রভাবশালী ব্যক্তি কারো কাছে চাঁদার জন্যে গেলে সে চিন্তা করে যে, এতো বড়ো মানুষ আমার কাছে এসেছে এখন অল্প পয়সা কীভাবে দেই? সুতরাং সে বেশি পয়সা দেয়। হযরত থানভী রহ. বলেন, এটা মূলত ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা। আর ব্যক্তির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে যে চাঁদা উসূল করা হয়, তা স্বত্বঃস্ফূর্ত মনে দেওয়া হয় না। আর যা স্বত্বঃস্ফূর্ত মনে দেওয়া হয় না, তা হারাম এবং তা নিম্নোক্ত হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।
لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِي إِلَّا بِطِيبٍ نَفْسٍ مِنْهُ
📄 সাধারণ সমাবেশে চাঁদা উসূল করা
একইভাবে সাধারণ সমাবেশে চাঁদার ঘোষণা দিয়ে সেখানেই চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এবার যে সামর্থ্যবান ব্যক্তি ঐ সমাবেশে বসা আছে, সে চিন্তা করে যে, সবাই তো চাঁদা দিচ্ছে, আমি যদি না দেই তাহলে আমার নাক কাটা যাবে। আর যদি অল্প চাঁদা দেই তাহলেও অসম্মান হবে। এজন্যে আমার বেশি চাঁদা দেওয়া উচিত। এখন এই চাপে পড়ে সে বেশি চাঁদা দিলো।
মনে রাখবেন! এই চাপে পড়ে স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা ছাড়া যেই চাঁদা সে দিলো, তা لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِي إِلَّا بِطِيبٍ نَفْسٍ مِنْهُ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে।
এ কারণেই হযরত থানভী রহ.-এর মুরীদদের ব্যাপারে তাঁর সাধারণ নিয়ম এই ছিলো যে, তাদের জন্যে সাধারণ সমাবেশে চাঁদা সংগ্রহের অনুমতি ছিলো না। কারণ, এতে মানুষ লজ্জায় বা ভদ্রতার কারণে চাঁদা দিয়ে থাকে, যা জায়েয ও হালাল নয়।
টিকাঃ
১০. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩০১২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৭৪
১১. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩০১২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৭৪
📄 তাবুক যুদ্ধের ঘটনা দ্বারা প্রশ্ন ও তার উত্তর
হযরত থানভী রহ.-এর এ কথাটি আমি একবার বয়ানের মধ্যে বলি। যেন এক ব্যক্তি বলে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও তাবুক যুদ্ধের সময় সমাবেশের মধ্যে চাঁদা সংগ্রহ করেছিলেন। তাবুক যুদ্ধের প্রয়োজন যখন দেখা দেয়, তখন তিনি দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন যে, এ সময় জিহাদের জন্যে রসদপত্রের তীব্র প্রয়োজন, যে ব্যক্তি এতে ব্যয় করবে সে এই সওয়াব পাবে। সুতরাং হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. এ ঘোষণা শুনে বাড়ির সব সম্পদ নিয়ে আসেন। এর দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও মজমার মধ্যে চাঁদার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এর উত্তর এই যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, এখনই এবং এ জায়গাতেই চাঁদা দাও। বরং তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, এই পরিমাণ প্রয়োজন। প্রত্যেকে যার যার সুবিধা মতো যখন যে পরিমাণ ইচ্ছা চাঁদা দিবে। সুতরাং সাহাবায়ে কেরام পরবর্তীতে বিভিন্ন জিনিস এনে জমা দেন। এ ঘোষণা ছিলো না যে, এখন এবং এখানেই জমা করো।
দ্বিতীয় উত্তর এই যে, সাহাবায়ে কেরামের অবস্থাকে আমাদের অবস্থার সঙ্গে কি করে তুলনা করতে পারি? আল্লাহ তা'আলা সাহাবায়ে কেরামের মাখলাককে এমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিশুদ্ধ করে দিয়েছিলেন যে, তাদের মধ্যে কেউই এমন ছিলেন না যে, শুধু মানুষকে দেখানোর জন্যে চাঁদা দিবে। আল্লাহর জন্যে চাঁদা দেওয়ার থাকলে দিতেন, না দেওয়ার থাকলে না দিতেন। আমাদের সমাজের মানুষ চাপের মুখে পড়ে চক্ষুলজ্জার কারণে দিতে বাধ্য হয়। এজন্যে বর্তমানের অবস্থাকে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থার সাথে তুলনা করা যায় না। এজন্যে হযরত থানভী রহ. বলেন যে, সাধারণ মজমায় প্রচলিত নিয়মে চাঁদা সংগ্রহ করা জায়েয নয়। কারণ, এমন চাঁদার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত মনে দেওয়া পাওয়া যায় না।
📄 চাঁদা সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি
চাঁদা সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি এই যে, আপনি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন যে, এটি একটি প্রয়োজন এবং দ্বীনের সঠিক খাত। এখানে দান করলে সওয়াব হবে। এজন্যে যার যখন ইচ্ছা এ প্রয়োজন পূরণের জন্যে এবং সওয়াব অর্জনের জন্যে চাঁদা দিবেন। এসমস্ত বিধান এ হাদীস থেকেই বের হচ্ছে যে, কোনো ব্যক্তি অন্যের সম্পদ ও অন্যের সামানা বাস্তবেও নিবে না এবং ঠাট্টা করেও নিবে না।