📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 যিকিরের জন্যে তায়াম্মুম করা

📄 যিকিরের জন্যে তায়াম্মুম করা


যেমন, কোনো ব্যক্তি যিকির করতে চায় বা তাসবীহ পাঠ করতে চায়। আল্লাহ তা'আলা তাঁর নাম নেওয়াকে এতো সহজ করে দিয়েছেন যে, এর জন্যে ওযু থাকার শর্ত নেই। তবে ওযুসহ যিকির করা মুস্তাহাব। এ কারণে যদি ওযু করার সুযোগ না থাকে আর যিকির করতে চায়, তাহলে কমপক্ষে তায়াম্মুম করে যিকির করবে। কারণ, তায়াম্মুম করে যিকির করা ওযু ছাড়া যিকির করা থেকে উত্তম। তবে এই তায়াম্মুম দ্বারা কোনো প্রকার নামায পড়া জায়েয হবে না।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 অন্যের দেয়ালে তায়াম্মুম করা

📄 অন্যের দেয়ালে তায়াম্মুম করা


ফুকাহায়ে কেরাম এ হাদীস দ্বারা দ্বিতীয় মাসআলা এই বের করেছেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই দেয়ালে তায়াম্মুম করেছেন তা ছিলো অন্য মানুষের ঘরের দেয়াল। এখন প্রশ্ন জাগে যে, তিনি অন্য মানুষের ঘরের দেয়াল তার অনুমতি ছাড়া তায়াম্মুমের জন্যে কি করে ব্যবহার করলেন? কারণ, অন্যের জিনিস তার অনুমতি এবং আন্তরিক সম্মতি ছাড়া ব্যবহার করা জায়েয নেই। ফুকাহায়ে কেরام এই প্রশ্ন উঠিয়েছেন এবং তাও উঠিয়েছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে যে, তিনি ঐ দেয়াল কি করে ব্যবহার করলেন?
তারপর ফুকাহায়ে কেরام এর উত্তরও দিয়েছেন যে, আসল বিষয় ছিলো এই যে, এটা শত ভাগ নিশ্চিত যে, বাড়ির দেয়ালের বাইরের অংশে তায়াম্মুম করতে কেউই তাঁকে নিষেধ করবে না। তাই তাঁর জন্যে ঐ দেয়ালে তায়াম্মুম করা জায়েয ছিলো। এ কারণে যেখানে এ বিষয় শত ভাগ নিশ্চিত হয় যে, মান্য মানুষ এটা ব্যবহার করার শুধু অনুমতিই দিবে না বরং তাতে খুশি হবে, তাহলে এমতাবস্থায় ঐ জিনিস ব্যবহার করা জায়েয। এবার আপনারা চিন্তা করে দেখুন যে, ফুকাহায়ে কেরام কতো সূক্ষ্ম বিষয় উদঘাটন করেছেন!

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 কোনো সম্প্রদায়ের ভাগাড় ব্যবহার করা

📄 কোনো সম্প্রদায়ের ভাগাড় ব্যবহার করা


ফুকাহায়ে কেরাম এই একই প্রশ্ন অন্য একটি হাদীসের উপরেও গিরিয়েছেন। সেই হাদীস শরীফটি এই যে, একবার হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে তাঁর পেশাব করার প্রয়োজন হয়। এক জায়গায় এক সম্প্রদায়ের ভাগাড় ছিলো। সেখানে মানুষ তাদের ময়লা-আবর্জনা ফেলতো। ঐ ভাগাড়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করেন। হাদীসের শব্দ এই-
أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ
'এক সম্প্রদায়ের ময়লা ফেলার জায়গায় তিনি এলেন।' ৭ ফুকাহায়ে কেরাম এই হাদীসের উপর প্রশ্ন উঠিয়েছেন যে, ঐ ভাগাড় কোনো সম্প্রদায়ের মালিকানাভুক্ত ছিলো। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনুমতি ছাড়া তা কীভাবে ব্যবহার করলেন? তারপর فুকাহায়ে কেরাম নিজেরাই এর উত্তর দিয়েছেন যে, মূলত তা সাধারণের ব্যবহারের জায়গা ছিলো। এ উদ্দেশ্যেই ঐ জায়গা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিলো। এ কারণে কোনো ব্যক্তির মালিকানায় হস্তক্ষেপ করার প্রশ্নই উঠে না।

টিকাঃ
১. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪০২, সুনানে তিরমিযী, হাদীস ২১০, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ১৮, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩০১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২১৫৭

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মেজবানের ঘরের জিনিস ব্যবহার করা

📄 মেজবানের ঘরের জিনিস ব্যবহার করা


এ হাদীস দ্বারা আপনারা অনুমান করুন যে, শরীয়ত অন্যের জিনিস ব্যবহার করার বিষয়ে কি পরিমাণ অনুভূতিপরায়ণ! উদাহরণস্বরূপ, আমরা মান্যর বাড়ির মেহমান হয়ে গেলাম। এখন যদি তার ঘরের কোনো জিনিস ব্যবহার করতে হয় তাহলে ব্যবহারের পূর্বে একটু চিন্তা করে দেখুন যে, আমার জন্যে এটা ব্যবহার করা জায়েয কি না এবং চিন্তা করে দেখুন যে, আমি এটা ব্যবহার করলে মেজবান খুশি হবে, নাকি তার অন্তরে সঙ্কোচন সৃষ্টি হবে। যদি তার অন্তরে সঙ্কোচন সৃষ্টি হওয়ার ব্যাপারে সামান্য আশঙ্কাও দেখা দেয়, সেমতাবস্থায় ঐ জিনিস ব্যবহার করা আপনার জন্যে জায়েয নেই।
আমাদের সমাজে এ বিষয়ে খুবই অসতর্কতা পাওয়া যায়। বন্ধুর বাড়িতে যায়, আর চিন্তা করে যে, এতো আমার অকৃত্রিম বন্ধু। এখন বন্ধুত্বের অজুহাতে তাকে লুট করতে আরম্ভ করে। তার জিনিস ব্যবহার করতে আরম্ভ করে। এটা জায়েয নেই। কারণ, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন যে, ঠাট্টা করেও অন্যের জিনিস নিয়ে ব্যবহার করা জায়েয নেই। তাহলে বাস্তবে কি করে তা জায়েয হতে পারে? এজন্যে আমাদের জরিপ চালিয়ে দেখা উচিত যে, অকৃত্রিমতার সুবাদে আমরা কোথায় কোথায় হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হুকুমের বিরুদ্ধাচরণ করে চলছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00