📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 হাদীস থেকে ওলামায়ে কেরামের মাসআলা বের করা

📄 হাদীস থেকে ওলামায়ে কেরামের মাসআলা বের করা


ঐ সাহাবী তো হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ফুকাহায়ে কেরামের অবস্থা ছিলো এই যে, একেকটি হাদীস থেকে উম্মতের জন্যে কী কী হেদায়েত বের হয়, তা উদ্ভাবনে তাঁরা ব্যপৃত হয়েছেন। হাদীস থেকে বিধান বের করার বিষয়টি যখন আমি কল্পনা করি, তখন আমার সামনে এই দৃশ্য ভেসে ওঠে যে, কোনো বিমান যখন বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তখন অবিলম্বে সব লোক নিজ নিজ ডিউটি করতে আরম্ভ করে। কেউ তা পরিষ্কার করে, কেউ তার মধ্যে পেট্রোল ভরে, কেউ যাত্রীদেরকে নামায়, কেউ খাবার উঠায়- সবাই নিজ নিজ কাজে লেগে যায়। এমনিভাবে যখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদীস সামনে আসে, তখন উম্মতের আলেমগণও বিভিন্ন দিক থেকে ঐ হাদীসের উপর কাজ করতে আরম্ভ করেন। কেউ ঐ হাদীসের সনদ যাচাই করেন যে, এর সনদ সহীহ কি না। কেউ বর্ণনাকারীদের পরখ করতে থাকেন। কেউ ঐ হাদীস দ্বারা যেসব বিধান বের হয় তা বের করতে থাকেন এবং দিকনির্দেশনা চিহ্নিত করতে থাকেন। এ মর্মে ফুকাহায়ে-কেরামের কাজ এই যে, কোনো হাদীস যখন তাদের সামনে আসে, তখন তারা ঐ হাদীসের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বিধান বের করতে থাকেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 'বুলবুলির হাদীস' দ্বারা একশ' দশটি মাসআলা উদ্ভাবন

📄 'বুলবুলির হাদীস' দ্বারা একশ' দশটি মাসআলা উদ্ভাবন


মনে পড়লো, শামায়েলে তিরমিযীর মধ্যে হাদীস আছে যে, হযরত আনাস রাযি.-এর একটি ছোট ভাই ছিলো, তিনি ছিলেন শিশু। তিনি একটি বুলবুলি পাখি পুষে ছিলেন। পাখিটি মরে যায়। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তার নিকট গেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন,
يَا أَنَا عُمَدٍ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ؟ 'হে আবু ওমাইর! তুমি যে বুলবুলি পাখি পুষে ছিলে, তার কী হয়েছে?' শুধু এই একটি হাদীস থেকে ফুকাহায়ে কেরাম একশ' দশটি ফিকহী মাসআলা বের করেছেন। একজন মুহাদ্দিস এই একটি হাদীসের ব্যাখ্যা এবং তা থেকে বের হওয়া বিধানসমূহের উপর স্বতন্ত্র পুস্তক রচনা করেছেন।

টিকাঃ
৬. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৬৬৪, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩০৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩১৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৭১০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১০৬৭

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 সালামের উত্তরের জন্য তায়াম্মুম করা জায়েয

📄 সালামের উত্তরের জন্য তায়াম্মুম করা জায়েয


যাই হোক, ঐ সাহাবীর সালামের উত্তরের জন্যে তিনি প্রথমে তায়াম্মুম করেন তারপর সালামের উত্তর দেন। এ হাদীস দ্বারাও ফুকাহায়ে কেরাম অনেকগুলি মাসআলা বের করেছেন। এ হাদীস দ্বারা ফুকাহায়ে কেরাম একটি মাসআলা এই বের করেছেন যে, যে কাজের জন্যে ওযু করা ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব, তার জন্যে ওযুর পরিবর্তে তায়াম্মুম করা জায়েয। যেমন দু'আ করার জন্যে আল্লাহ তা'আলা ওযু করাকে ওয়াজিব সাব্যস্ত করেননি। বরং তিনি তাঁর দরজার কড়া নাড়াকে এবং দু'আ করাকে সহজ করে দিয়েছেন যে, এর জন্যে ওযু শর্ত করেননি। এমনকি পাক থাকারও শর্ত আরোপ করেননি। এ জন্যে কোনো ব্যক্তির গোসল ফরয হয়ে থাকলে সে ঐ অবস্থাতেও দু'আ করতে পারে। কিন্তু দু'আ করার সময় ওযু থাকা মুস্তাহাব এবং উত্তম। যদি ওযুর সুযোগ না থাকে তাহলে তায়াম্মুম করবে। কারণ, তায়াম্মুম করে দু'আ করা ওযু ছাড়া দু'আ করা থেকে উত্তম। যদিও ঐ তায়াম্মুম দ্বারা নামায পড়া এবং এমন কোনো কাজ করা জায়েয হবে না, যার জন্যে ওযু করা ওয়াজিব। কিন্তু ঐ তায়াম্মুম দ্বারা দু'আ করতে পারবে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 যিকিরের জন্যে তায়াম্মুম করা

📄 যিকিরের জন্যে তায়াম্মুম করা


যেমন, কোনো ব্যক্তি যিকির করতে চায় বা তাসবীহ পাঠ করতে চায়। আল্লাহ তা'আলা তাঁর নাম নেওয়াকে এতো সহজ করে দিয়েছেন যে, এর জন্যে ওযু থাকার শর্ত নেই। তবে ওযুসহ যিকির করা মুস্তাহাব। এ কারণে যদি ওযু করার সুযোগ না থাকে আর যিকির করতে চায়, তাহলে কমপক্ষে তায়াম্মুম করে যিকির করবে। কারণ, তায়াম্মুম করে যিকির করা ওযু ছাড়া যিকির করা থেকে উত্তম। তবে এই তায়াম্মুম দ্বারা কোনো প্রকার নামায পড়া জায়েয হবে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px