📄 হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সতর্কতার একটি ঘটনা
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতো উঁচু মাকাম ছিলো যে, তিনি এ পরিমাণ সতর্কতা অবলম্বন করতেন যে, একবার তিনি হযরত ওমর ফারুক রাযি.-কে বলেন, আল্লাহ তা'আলা তোমার জন্যে জান্নাতের মধ্যে যেই মহল বানিয়েছেন আমি তা নিজ চোখে দেখেছি। সে মহল এতো সুন্দর ছিলো যে, আমার মন চাইলো ঐ মহলের ভিতরে প্রবেশ করি। আমি যখন ভিতরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন তোমার আত্মমর্যাদাবোধের কথা স্মরণ হলো। অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে অনেক বেশি আত্মমর্যাদা দান করেছেন। অন্য কোনো ব্যক্তি যদি তোমার অনুমতি ছাড়া তোমার ঘরে প্রবেশ করে তাহলে তোমার আত্মমর্যাদায় বাঁধে। এজন্যে আমি চিন্তা করলাম যে, তোমার অনুমতি ছাড়া এ ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। এজন্যে আমি তাতে প্রবেশ করিনি। হযরত ওমর ফারুক রাযি. এ কথা শুনে কেঁদে ফেললেন এবং নিবেদন করলেন- أَوَعَلَيْكَ أَغَارُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা-বাপ আপনার উপর কোরবান হোক। আপনার ব্যাপারেও কি আমি আত্মমর্যাদা দেখাবো?'
টিকাঃ
৪. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪০৩, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৪০৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৩৮০১
📄 উম্মতের জন্য শিক্ষা
এবার আপনারা অনুমান করুন যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন ওমর ফারুক রাযি.-এর মতো মানুষ নিজের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু সবকিছু তাঁর উপর কোরবান করতে প্রস্তুত আছেন। তাঁর কাছে বড়ো থেকে বড়ো কোনো সম্পদ থাকলে আর তা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহারে আসলে তিনি নিজের জন্যে গর্বের বিষয় মনে করবেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও তিনি তাঁর মহলের মধ্যে প্রবেশ করেননি। অথচ তা ছিলো জান্নাতের জায়গা। যেখানে কোনো কষ্ট নেই। ওলামায়ে কেরাম বলেন, এ হাদীস দ্বারা মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে এই শিক্ষা দিতে চেয়েছেন যে, দেখো! আমি নিজেও আমার এমন নিবেদিতপ্রাণ সাহাবীর ঘরে তার অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করিনি। তাহলে তোমাদের জন্যে সাধারণ অবস্থায় স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি ছাড়া অন্যের জিনিস ব্যবহার করা কি করে জায়েয হতে পারে?
📄 সালামের উত্তরের জন্যে তায়াম্মুম
আল্লাহ তা'আলা আমাদের মুহাদ্দিস ও ফকীহগণের কবরকে নূর দ্বারা ভরে দিন- আমীন। এঁরা আমাদের জন্যে বিস্ময়কর ভান্ডার রেখে গিয়েছেন। এক সাহাবী হাদীস বর্ণনা করেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার একপথ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এক সাহাবী তাকে দেখে সালাম করেন। এটা ইসলামের প্রথম যুগের ঘটনা ছিলো। তখন ওযু ছাড়া আল্লাহর নাম নেওয়া মাকরূহ ছিলো। 'সালাম'ও আল্লাহ তা'আলার 'আসমায়ে হুসনা'র অন্তর্ভুক্ত। তখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযু ছিলো না। এমতাবস্থায় যদি তিনি 'ওয়া আলাইকুমুস্ সালাম' বলতেন তাহলে ওযু ছাড়া আল্লাহর নাম নেওয়া হতো। তিনি ওযু ছাড়া আল্লাহর নাম নেওয়া থেকে বাঁচার জন্যে নিকটবর্তী যে বাড়ি ছিলো তার দেয়ালে তায়াম্মুম করেন। তারপর তিনি 'ওয়া আলাইকুমুস্ সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু' বলে উত্তর দেন।
টিকাঃ
৫. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৫৪, সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৩০৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৮৮৩
📄 হাদীস থেকে ওলামায়ে কেরামের মাসআলা বের করা
ঐ সাহাবী তো হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ফুকাহায়ে কেরামের অবস্থা ছিলো এই যে, একেকটি হাদীস থেকে উম্মতের জন্যে কী কী হেদায়েত বের হয়, তা উদ্ভাবনে তাঁরা ব্যপৃত হয়েছেন। হাদীস থেকে বিধান বের করার বিষয়টি যখন আমি কল্পনা করি, তখন আমার সামনে এই দৃশ্য ভেসে ওঠে যে, কোনো বিমান যখন বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তখন অবিলম্বে সব লোক নিজ নিজ ডিউটি করতে আরম্ভ করে। কেউ তা পরিষ্কার করে, কেউ তার মধ্যে পেট্রোল ভরে, কেউ যাত্রীদেরকে নামায়, কেউ খাবার উঠায়- সবাই নিজ নিজ কাজে লেগে যায়। এমনিভাবে যখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদীস সামনে আসে, তখন উম্মতের আলেমগণও বিভিন্ন দিক থেকে ঐ হাদীসের উপর কাজ করতে আরম্ভ করেন। কেউ ঐ হাদীসের সনদ যাচাই করেন যে, এর সনদ সহীহ কি না। কেউ বর্ণনাকারীদের পরখ করতে থাকেন। কেউ ঐ হাদীস দ্বারা যেসব বিধান বের হয় তা বের করতে থাকেন এবং দিকনির্দেশনা চিহ্নিত করতে থাকেন। এ মর্মে ফুকাহায়ে-কেরামের কাজ এই যে, কোনো হাদীস যখন তাদের সামনে আসে, তখন তারা ঐ হাদীসের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বিধান বের করতে থাকেন।