📄 অন্যের জিনিস নেওয়া
অপর এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যেন তার কোনো সাথী বা বন্ধুর জিনিস রসিকতা করেও না নেয় এবং বাস্তবেও না নেয়।২
অন্যের মালিকানাভুক্ত জিনিস তার অনুমতি ছাড়া, বরং খুশি মনে দেওয়া ছাড়া আপনার জন্যে ব্যবহার করা বা অধিকারে নেওয়া জায়েয নেই। বাস্তবেও এমন করা জায়েয নেই এবং ঠাট্টা করেও জায়েয নেই। সে তোমার নিকটতম বন্ধু বা আত্মীয় হলেও তার জিনিস অনুমতি এবং খুশি মনে দেওয়া ছাড়া ব্যবহার করা মোটেই জায়েয নেই।
টিকাঃ
২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২০৮৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৫০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭২৬১
📄 খুশি মনে দেওয়া ছাড়া অন্যের জিনিস হালাল নয়
অপর এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِي إِلَّا بِطِيبٍ نَفْسٍ مِنْهُ
'মুসলমানের কোনো সম্পদ তার খুশি মনের অনুমতি ছাড়া অন্যের জন্যে হালাল নয়।
এ হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'অনুমতি' শব্দ ব্যবহার করেননি, 'খুশি মনে' শব্দ ব্যবহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি কারো এমন কোনো জিনিস চাইলেন- যা দিতে তার মন চাচ্ছে না- কিন্তু ভদ্রতা রক্ষার্থে সে তা দিয়ে দিলো, অথচ তার মন খুশি নয়। এই জিনিস যদি আপনি ব্যবহার করেন তাহলে তা আপনার জন্যে জায়েয নয়। কারণ, আপনি তার মাল তার খুশি মনের অনুমতি ছাড়া নিয়েছেন।
টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩০১২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৭৪ ইসলামী মুআশারাত-১৭
📄 মওলবীগিরি বিক্রির জিনিস নয়
হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী ছাহেব রহ. তাঁর কোনো ওস্তাদ বা শাইখের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন যে, একবার তিনি এক দোকানে একটি জিনিস ক্রয় করতে যান। তিনি ঐ জিনিসের মূল্য জিজ্ঞাসা করেন। দোকানদার মূল্য বলে। তিনি মূল্য পরিশোধ করছিলেন, এমন সময় অন্য এক ব্যক্তি সেখানে আসে, যে ঐ মাওলানা ছাহেবকে চিনতো। দোকানদার তাকে চিনতো না। ঐ লোকটি দোকানদারকে বললো যে, ইনি অমুক মাওলানা ছাহেব, তাকে ছাড় দিয়েন। তখন মাওলানা ছাহেব বললেন, আমি আমার মওলবী হওয়ার মূল্য নিতে চাই না। এই জিনিসের প্রকৃত মূল্য যা তাই আমার থেকে নাও। এ কারণে যে, প্রথমে তুমি যেই মূল্য বলেছিলে, সেই মূল্যে তুমি খুশি মনে এই জিনিস দিতে প্রস্তুত ছিলে। এখন যদি অন্য মানুষের কথায় তুমি ছাড় দাও, আর তাতে তোমার দিল পরিতৃপ্ত না থাকে, তাহলে তা খুশি মনে দেওয়া হবে না। তখন এ জিনিসের মধ্যে আমার বরকত হবে না এবং তা নেওয়া আমার জন্যে হালাল হবে না। এজন্যে তুমি আমাকে যেই পরিমাণ মূল্য বলেছিলে, ঐ পরিমাণ মূল্যই নাও।
এ ঘটনা দ্বারা এদিকে ইঙ্গিত করেন যে, মওলবীগিরি বিক্রির জিনিস নয় যে, বাজারে তা বিক্রি করা হবে, আর মানুষ এর কারণে জিনিসের মূল্য কম রাখবে।
📄 ইমাম আবু হানীফা রহ.-এর ওসীয়ত
আমাদের ইমাম হযরত আবু হানীফা রহ. তাঁর শাগরিদ হযরত ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-কে ওসীয়ত করেন যে, যখন তুমি কোনো জিনিস ক্রয় করবে বা ভাড়া নিবে, যেই পরিমাণ মূল্য ও ভাড়া সাধারণ মানুষ দিয়ে থাকে তুমি তার থেকে কিছু বেশি দিবে। এমন যেন না হয় যে, তোমার কম দেওয়ার কারণে ইলম ও দ্বীনের অসম্মান ও অমর্যাদা হয়।
যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা সতর্কতার এই মাকাম দান করেন, তারা এই পরিমাণ লক্ষ রাখেন যে, অন্যের কোনো জিনিস যেন তার অন্তরের সন্তুষ্টি ছাড়া আমার কাছে না আসে। যেমন আপনি কারো থেকে কোনো জিনিস চাইবেন, চাওয়ার আগে একটু চিন্তা করুন যে, অন্য কেউ যদি আপনার কাছে এ জিনিস চাইতো, তাহলে কি আপনি তাকে খুশি মনে তা দিতেন? আপনি যদি খুশি মনে রাজি না হতেন, তাহলে ঐ জিনিস অন্যের থেকে চাইবেন না। কারণ, হতে পারে ভদ্রতার খাতিরে সে আপনাকে ঐ জিনিস দিলো, কিন্তু তার অন্তর খুশি নয়। এর ফলে আপনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর লক্ষ্যে পরিণত হলেন যে, 'কোনো মুসলমানের সম্পদ তার খুশি মনের অনুমতি ছাড়া হালাল নয়।'