📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 অন্যকে কষ্ট দিয়ে পোষাক বা খ্যাতি অর্জন করা

📄 অন্যকে কষ্ট দিয়ে পোষাক বা খ্যাতি অর্জন করা


এমনিভাবে যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে এবং তার হক নষ্ট করে পয়সা কামাবে তারপর ঐ পয়সা দ্বারা পোষাক বানাবে, তার বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামের ঐ পরিমাণ পোষাক পরাবেন। অর্থাৎ, আগুনের অঙ্গারের পোষাক পরাবেন।
এমনিভাবে যে ব্যক্তি অন্য মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে খ্যাতির আসন অর্জন করবে; যেমন কতক লোক অন্যের নিন্দা করে নিজের সুনাম অর্জন করে। ইলেকশনের সময় নির্বাচনী সমাবেশে অন্যের দোষ বর্ণনা করে নিজের সুনাম বর্ণনা করে। এমন লোকদেরকে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন দুর্নামের আসনে খাড়া করবেন। এখানে দুনিয়াতে তো সে সুনাম অর্জন করেছিলো, কিন্তু এর ফলে আল্লাহ তা'আলা সেখানে তার দুর্নাম রটাবেন। সর্বসাধারণের সামনে তাকে লাঞ্ছিত করবেন যে, এ এমন এক ব্যক্তি, যে মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে খ্যাতির আসন অর্জন করেছিলো।
এ হাদীস দ্বারা অনুমান করুন যে, কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া এবং তার হক নষ্ট করা কতো বিপজ্জনক কাজ এবং কতো মারাত্মক অপরাধ। এজন্যে আমি বার বার বলি যে, প্রত্যেকে নিজের কাজ এবং আচরণে লক্ষ রাখবেন, যেন অন্যের হক নষ্ট না হয়, আর এর ফলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা আমাদের থেকে এর হিসাব গ্রহণ করেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 অন্যের জিনিস নেওয়া

📄 অন্যের জিনিস নেওয়া


অপর এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যেন তার কোনো সাথী বা বন্ধুর জিনিস রসিকতা করেও না নেয় এবং বাস্তবেও না নেয়।২
অন্যের মালিকানাভুক্ত জিনিস তার অনুমতি ছাড়া, বরং খুশি মনে দেওয়া ছাড়া আপনার জন্যে ব্যবহার করা বা অধিকারে নেওয়া জায়েয নেই। বাস্তবেও এমন করা জায়েয নেই এবং ঠাট্টা করেও জায়েয নেই। সে তোমার নিকটতম বন্ধু বা আত্মীয় হলেও তার জিনিস অনুমতি এবং খুশি মনে দেওয়া ছাড়া ব্যবহার করা মোটেই জায়েয নেই।

টিকাঃ
২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২০৮৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৫০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭২৬১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 খুশি মনে দেওয়া ছাড়া অন্যের জিনিস হালাল নয়

📄 খুশি মনে দেওয়া ছাড়া অন্যের জিনিস হালাল নয়


অপর এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِي إِلَّا بِطِيبٍ نَفْسٍ مِنْهُ
'মুসলমানের কোনো সম্পদ তার খুশি মনের অনুমতি ছাড়া অন্যের জন্যে হালাল নয়।
এ হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'অনুমতি' শব্দ ব্যবহার করেননি, 'খুশি মনে' শব্দ ব্যবহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি কারো এমন কোনো জিনিস চাইলেন- যা দিতে তার মন চাচ্ছে না- কিন্তু ভদ্রতা রক্ষার্থে সে তা দিয়ে দিলো, অথচ তার মন খুশি নয়। এই জিনিস যদি আপনি ব্যবহার করেন তাহলে তা আপনার জন্যে জায়েয নয়। কারণ, আপনি তার মাল তার খুশি মনের অনুমতি ছাড়া নিয়েছেন।

টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩০১২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৭৪ ইসলামী মুআশারাত-১৭

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মওলবীগিরি বিক্রির জিনিস নয়

📄 মওলবীগিরি বিক্রির জিনিস নয়


হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী ছাহেব রহ. তাঁর কোনো ওস্তাদ বা শাইখের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন যে, একবার তিনি এক দোকানে একটি জিনিস ক্রয় করতে যান। তিনি ঐ জিনিসের মূল্য জিজ্ঞাসা করেন। দোকানদার মূল্য বলে। তিনি মূল্য পরিশোধ করছিলেন, এমন সময় অন্য এক ব্যক্তি সেখানে আসে, যে ঐ মাওলানা ছাহেবকে চিনতো। দোকানদার তাকে চিনতো না। ঐ লোকটি দোকানদারকে বললো যে, ইনি অমুক মাওলানা ছাহেব, তাকে ছাড় দিয়েন। তখন মাওলানা ছাহেব বললেন, আমি আমার মওলবী হওয়ার মূল্য নিতে চাই না। এই জিনিসের প্রকৃত মূল্য যা তাই আমার থেকে নাও। এ কারণে যে, প্রথমে তুমি যেই মূল্য বলেছিলে, সেই মূল্যে তুমি খুশি মনে এই জিনিস দিতে প্রস্তুত ছিলে। এখন যদি অন্য মানুষের কথায় তুমি ছাড় দাও, আর তাতে তোমার দিল পরিতৃপ্ত না থাকে, তাহলে তা খুশি মনে দেওয়া হবে না। তখন এ জিনিসের মধ্যে আমার বরকত হবে না এবং তা নেওয়া আমার জন্যে হালাল হবে না। এজন্যে তুমি আমাকে যেই পরিমাণ মূল্য বলেছিলে, ঐ পরিমাণ মূল্যই নাও।
এ ঘটনা দ্বারা এদিকে ইঙ্গিত করেন যে, মওলবীগিরি বিক্রির জিনিস নয় যে, বাজারে তা বিক্রি করা হবে, আর মানুষ এর কারণে জিনিসের মূল্য কম রাখবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00