📄 অন্যকে কষ্ট দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করা
হযরত মুসতাওরাদ বিন শাদ্দাদ রাযি. থেকে বর্ণিত আছে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের গ্রাস ভক্ষণ করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে ঐ খানার সমপরিমাণ ওজনের জাহান্নামের অঙ্গার ভক্ষণ করাবেন। অর্থাৎ, কোনো মুসলমানের হক নষ্ট করে বা কোনো মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে বা কোনো মুসলমানের বদনাম করে নিজের কোনো স্বার্থ উদ্ধার করবে; যেমন কতক মানুষ এমন রয়েছে, যাদের জীবিকার ভিত্তিই হলো অন্যকে কষ্ট দিয়ে জীবিকার ব্যবস্থা করা। যেমন ঘুষ নিয়ে খেলো। সে মূলত একজন মুসলমানকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দিয়ে ভক্ষণ করলো। এমনিভাবে কাউকে ধোঁকা দিয়ে তার থেকে পয়সা হাতিয়ে নিলো, তাহলে সেও একজন মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে ভক্ষণ করলো। এমনিভাবে যদি কোনো মুসলমানের দুর্নাম রটিয়ে পয়সা অর্জন করে; যেমন বর্তমানে প্রচার- প্রসার ও পাবলিসিটির যুগ। এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে অন্যকে ব্লাকমেইল করাকে নিজের পেশা ও আমদানীর মাধ্যম বানিয়ে রেখেছে। এমন ব্যক্তি অন্যের দুর্নাম রটিয়ে পয়সা অর্জন করে এবং ভক্ষণ করে। এ সবগুলো পন্থাই এ হাদীসের অর্থের অন্তর্ভুক্ত যে, কোনো মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে যে ব্যক্তি খাবার খাবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে ঐ খানার সমপরিমাণ ওজনের জাহান্নামের অঙ্গার খাওয়াবেন।
টিকাঃ
* ইসলাহী খুতুবাত, খন্ডঃ ১১, পৃঃ ১৪৮-১৬৭, আসরের নামাযের পর, বাইতুল মুকাররম জামে মসজিদ, করাচী
১. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪২৩৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭৩২৫
📄 অন্যকে কষ্ট দিয়ে পোষাক বা খ্যাতি অর্জন করা
এমনিভাবে যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে এবং তার হক নষ্ট করে পয়সা কামাবে তারপর ঐ পয়সা দ্বারা পোষাক বানাবে, তার বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নামের ঐ পরিমাণ পোষাক পরাবেন। অর্থাৎ, আগুনের অঙ্গারের পোষাক পরাবেন।
এমনিভাবে যে ব্যক্তি অন্য মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে খ্যাতির আসন অর্জন করবে; যেমন কতক লোক অন্যের নিন্দা করে নিজের সুনাম অর্জন করে। ইলেকশনের সময় নির্বাচনী সমাবেশে অন্যের দোষ বর্ণনা করে নিজের সুনাম বর্ণনা করে। এমন লোকদেরকে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন দুর্নামের আসনে খাড়া করবেন। এখানে দুনিয়াতে তো সে সুনাম অর্জন করেছিলো, কিন্তু এর ফলে আল্লাহ তা'আলা সেখানে তার দুর্নাম রটাবেন। সর্বসাধারণের সামনে তাকে লাঞ্ছিত করবেন যে, এ এমন এক ব্যক্তি, যে মুসলমানকে কষ্ট দিয়ে খ্যাতির আসন অর্জন করেছিলো।
এ হাদীস দ্বারা অনুমান করুন যে, কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া এবং তার হক নষ্ট করা কতো বিপজ্জনক কাজ এবং কতো মারাত্মক অপরাধ। এজন্যে আমি বার বার বলি যে, প্রত্যেকে নিজের কাজ এবং আচরণে লক্ষ রাখবেন, যেন অন্যের হক নষ্ট না হয়, আর এর ফলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা আমাদের থেকে এর হিসাব গ্রহণ করেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে এ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
📄 অন্যের জিনিস নেওয়া
অপর এক হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যেন তার কোনো সাথী বা বন্ধুর জিনিস রসিকতা করেও না নেয় এবং বাস্তবেও না নেয়।২
অন্যের মালিকানাভুক্ত জিনিস তার অনুমতি ছাড়া, বরং খুশি মনে দেওয়া ছাড়া আপনার জন্যে ব্যবহার করা বা অধিকারে নেওয়া জায়েয নেই। বাস্তবেও এমন করা জায়েয নেই এবং ঠাট্টা করেও জায়েয নেই। সে তোমার নিকটতম বন্ধু বা আত্মীয় হলেও তার জিনিস অনুমতি এবং খুশি মনে দেওয়া ছাড়া ব্যবহার করা মোটেই জায়েয নেই।
টিকাঃ
২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২০৮৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৫০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৭২৬১
📄 খুশি মনে দেওয়া ছাড়া অন্যের জিনিস হালাল নয়
অপর এক হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِي إِلَّا بِطِيبٍ نَفْسٍ مِنْهُ
'মুসলমানের কোনো সম্পদ তার খুশি মনের অনুমতি ছাড়া অন্যের জন্যে হালাল নয়।
এ হাদীসে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'অনুমতি' শব্দ ব্যবহার করেননি, 'খুশি মনে' শব্দ ব্যবহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি কারো এমন কোনো জিনিস চাইলেন- যা দিতে তার মন চাচ্ছে না- কিন্তু ভদ্রতা রক্ষার্থে সে তা দিয়ে দিলো, অথচ তার মন খুশি নয়। এই জিনিস যদি আপনি ব্যবহার করেন তাহলে তা আপনার জন্যে জায়েয নয়। কারণ, আপনি তার মাল তার খুশি মনের অনুমতি ছাড়া নিয়েছেন।
টিকাঃ
৩. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩০১২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৯৭৭৪ ইসলামী মুআশারাত-১৭