📄 সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা
সে সময় তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন যে, যে ব্যক্তি অস্ত্র সমর্পণ করবে সে নিরাপদ, যে ব্যক্তি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ রাখবে সেও নিরাপদ, যে ব্যক্তি হারামের মধ্যে প্রবেশ করবে সেও নিরাপদ, যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সেও নিরাপদ। তারপর তিনি সমস্ত মক্কাবাসীকে একত্রিত করে বলেন,
لَا تَثْرِيْبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَأَنْتُمُ الطَّلَقَاءُ 'আজকে তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা সকলে মুক্ত।১২
এ আচরণ তিনি ঐ সব লোকের সঙ্গে করেছেন, যারা ছিলো তাঁর রক্ত পিপাসু।
টিকাঃ
১২. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খন্ডঃ ৪, পৃঃ ৩০০-৩০১
📄 এসব সুন্নাতের উপরেও আমল করুন
মোটকথা, নবীগণের সুন্নাত এই যে, মন্দের উত্তর মন্দের দ্বারা দিবেন না, গালীর উত্তর গালির দ্বারা দিবেন না, বরং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সদয় আচরণ করুন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের সবগুলো পদ্ধতিই সুন্নাত। আমরা শুধুমাত্র বাহ্যিক কিছু জিনিসের নাম রেখেছি সুন্নাত। যেমন দাড়ি রাখা, বিশেষ ধরনের পোষাক পরিধান করা, ইত্যাদি। যতোগুলো সুন্নাতের উপর আমল করার তাওফীক হবে তা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। কিন্তু সুন্নাত শুধু এগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এগুলোও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত যে, মন্দের উত্তর মন্দের দ্বারা দিবেন না, গালির উত্তর গালির দ্বারা দিবেন না। যে ব্যক্তি এ সুন্নাতের উপর আমল করবে তার সম্পর্কে কুরআন শরীফে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَلَمَنْ صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ 'যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করলো এবং ক্ষমা করে দিলো নিঃসন্দেহে এটা অনেক বড়ো হিম্মতের কাজ। ১৩
এটা অনেক বড়ো হিম্মতের ব্যাপার যে, মানুষের ক্রোধের উদ্রেক হচ্ছে, রক্ত উদ্বেলিত হচ্ছে, সে সময় মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে সীমার উপর অটল থাকবে এবং সম্মুখস্থ ব্যক্তিকে মাফ করে দিবে এবং অন্য পথ ধরে চলে যাবে। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا 'যারা অসার বিষয় থেকে দূরে থাকে। ১৪
টিকাঃ
১৩. আশ শূরাঃ ৪৩
১৪. ফুরকানঃ ৭২
📄 এ সুন্নাতের উপর আমল করলে দুনিয়া জান্নাত হয়ে যাবে
আপনারা চিন্তা করে দেখুন! হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সুন্নাত যদি অর্জিত হয় তাহলে কি দুনিয়াতে ঝগড়া-বিবাদ থাকবে? যতো ঝগড়া, যতো ফাসাদ, যতো শত্রুতা সব এ কারণে যে, এই সুন্নাতের উপর আমল নেই। আল্লাহ তা'আলা যদি নিজ দয়ায় এই সুন্নাতের উপর আমল করার তাওফীক দান করেন, তাহলে এ দুনিয়া যা আজ ঝগড়া-বিবাদের কারণে জাহান্নামে পরিণত হয়েছে, যার মধ্যে শত্রুতার আগুন প্রজ্বলিত হচ্ছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সুন্নাতের উপর আমল করার ফলে তা জান্নাত হয়ে যাবে, পুষ্প উদ্যানে পরিণত হবে।
📄 কষ্ট পেলে এ কথা চিন্তা করুন
যখনই আপনি কারো দ্বারা কষ্ট পাবেন তখনই চিন্তা করবেন যে, আমি প্রতিশোধ গ্রহণের আবর্তে পড়বো কেন? দূর করো এ চিন্তা! আল্লাহ আল্লাহ করবো এবং তাকে মাফ করে দিবো। আসলে হয় এই যে, একজন আপনার সঙ্গে বাড়াবাড়ি করলো আপনি তার সঙ্গে তার চেয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলেন, এবার ঐ ব্যক্তি আপনার বাড়াবাড়ির প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, তারপর আপনি তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন, এভাবে শত্রুতার এক অন্তহীন ধারা আরম্ভ হয়ে যাবে, যার কোনো শেষ নেই। কিন্তু পরিশেষে আপনাকে কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে হার মানতে হবে। এই বিবাদ শেষ করতে হবে। তাই আপনি প্রথম দিনই তাকে মাফ করে দিয়ে ঝগড়া শেষ করে ফেলুন।