📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 নবী আলাইহিমুস সালামগণের উত্তর দেওয়ার ধরন

📄 নবী আলাইহিমুস সালামগণের উত্তর দেওয়ার ধরন


হযরাতে আম্বিয়ায়ে কেরামের পদ্ধতি এই যে, তাঁরা তিরস্কার করেন না। এমনকি সম্মুখস্থ কোনো ব্যক্তিও যদি তিরস্কার করে তাহলেও উত্তরে তাঁরা তিরস্কার করেন না।
সম্ভবত হযরত হূদ আলাইহিস সালামের ঘটনা যে, তাকে তাঁর জাতি বললো,
إِنَّا لَنَرْبِكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَذِبِينَ
নবীকে বলা হচ্ছে যে, আমাদের ধারণায় তুমি নিতান্ত পর্যায়ের বেউকুফ, নির্বোধ। আমরা তোমাকে অন্যতম মিথুক মনে করি। যে সকল নবীর উপর প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা নিবেদিত, তাঁদের সম্পর্কে এ কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রতি উত্তরে নবী বলছেন,
يَقَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَكِنِّي رَسُوْلٌ مِنْ رَّبِّ الْعَلَمِينَ 'হে আমার জাতি! আমি বেউকুফ নই, বরং আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে একটি পয়গাম নিয়ে এসেছি।'৭ অন্য এক নবীকে বলা হচ্ছে,
إِنَّا لَنَرْبِكَ فِي ضَلَلٍ مُّبِينٍ 'আমরা তোমাকে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিপতিত দেখছি।'৮ উত্তরে নবী বলছেন,
يَقَوْمِ لَيْسَ بِي ضَلَلَةٌ وَلَكِنِّي رَسُوْلٌ مِنْ رَّبِّ الْعَلَمِينَ 'হে আমার জাতি! আমি পথভ্রষ্ট নই। আমি তো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নবী হয়ে এসেছি।'৯ আপনারা লক্ষ করলেন, নবীগণ তিরস্কারের উত্তর তিরস্কার দ্বারা দেননি।

টিকাঃ
৩. আশ শুরাঃ ৪৩
৪. হা মীম সিজদা : ৩৪
৫. হা মীম সিজদা : ৩৫
৬. আ'রাফ: ৬৬
৭. আ'রাফ: ৬৭
৮. আ'রাফ: ৬০
৯. আ'রাফ: ৬১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 রহমাতুলিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধরন

📄 রহমাতুলিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ধরন


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- যাঁকে রহমাতুল্লিল আলামীন বানিয়ে পাঠানো হয়েছে, তাঁর উপর পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ হচ্ছে, হাঁটু রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে, কিন্তু মুখে এই দু'আ জারী রয়েছে যে,
اللَّهُمَّ اهْدِ قَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
'হে আল্লাহ! আমার এ জাতিকে হেদায়েত দান করুন। কারণ, এরা জাহেল। এরা বাস্তব অবস্থা জানে না। এ কারণে তারা আমার সঙ্গে এ আচরণ করছে। ১১০
নবীগণ কখনোই মন্দ আচরণের প্রতিশোধ মন্দ আচরণ দ্বারা নেননি। গালির বিনিময়ে গালি দেননি। সেই মক্কাবাসী, যারা মক্কায় বসবাসকারী সাহাবায়ে কেরামের জীবনকে আযাবে পরিণত করেছিলো। সাহাবায়ে কেরামকে উত্তপ্ত বালুর উপর শোয়ানো হয়েছে। বড়ো বড়ো পাথর তাদের বুকের উপর রাখা হয়েছে। তাদেরকে বয়কট করা হয়েছে। তাদের পানাহার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে হত্যা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তেরো বছর পর্যন্ত হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামকে জুলুম অত্যাচারের জাঁতায় নিস্পেষিত করা হয়েছে। কিন্তু সেই মক্কা শহরেই মক্কা বিজয়ের সময় হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিজয়ীরূপে প্রবেশ করছিলেন, তখনকার চিত্র অঙ্কন করে হযরত আনাস রাযি. বলেন, আমি দেখছিলাম যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটনীর উপর আরোহণ করে বিজয়ীরূপে মক্কা মুকাররমায় এ অবস্থায় প্রবেশ করছেন যে, তাঁর মস্তক অবনত ছিলো। অন্য কোনো বিজয়ী হলে তার মস্তক সটান থাকতো। কিন্তু হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মস্তক ছিলো অবনত। চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিলো। পবিত্র জবানে উচ্চারিত হচ্ছিলো এই আয়াত,
إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি।'১১

টিকাঃ
১০. সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৪১৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৩৪৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪০১৫, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৩৪২৯
১১. ফাতহ : ১ (সীরাতে মুস্তফা খন্ডঃ ৩, পৃঃ ২৪, ইবনে ইসহাক ও মুস্তাদরাকে হাকেমের উদ্ধৃতিতে)

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা

📄 সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা


সে সময় তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন যে, যে ব্যক্তি অস্ত্র সমর্পণ করবে সে নিরাপদ, যে ব্যক্তি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ রাখবে সেও নিরাপদ, যে ব্যক্তি হারামের মধ্যে প্রবেশ করবে সেও নিরাপদ, যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সেও নিরাপদ। তারপর তিনি সমস্ত মক্কাবাসীকে একত্রিত করে বলেন,
لَا تَثْرِيْبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَأَنْتُمُ الطَّلَقَاءُ 'আজকে তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা সকলে মুক্ত।১২
এ আচরণ তিনি ঐ সব লোকের সঙ্গে করেছেন, যারা ছিলো তাঁর রক্ত পিপাসু।

টিকাঃ
১২. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া খন্ডঃ ৪, পৃঃ ৩০০-৩০১

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 এসব সুন্নাতের উপরেও আমল করুন

📄 এসব সুন্নাতের উপরেও আমল করুন


মোটকথা, নবীগণের সুন্নাত এই যে, মন্দের উত্তর মন্দের দ্বারা দিবেন না, গালীর উত্তর গালির দ্বারা দিবেন না, বরং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সদয় আচরণ করুন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের সবগুলো পদ্ধতিই সুন্নাত। আমরা শুধুমাত্র বাহ্যিক কিছু জিনিসের নাম রেখেছি সুন্নাত। যেমন দাড়ি রাখা, বিশেষ ধরনের পোষাক পরিধান করা, ইত্যাদি। যতোগুলো সুন্নাতের উপর আমল করার তাওফীক হবে তা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত। কিন্তু সুন্নাত শুধু এগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এগুলোও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত যে, মন্দের উত্তর মন্দের দ্বারা দিবেন না, গালির উত্তর গালির দ্বারা দিবেন না। যে ব্যক্তি এ সুন্নাতের উপর আমল করবে তার সম্পর্কে কুরআন শরীফে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَلَمَنْ صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ 'যে ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করলো এবং ক্ষমা করে দিলো নিঃসন্দেহে এটা অনেক বড়ো হিম্মতের কাজ। ১৩
এটা অনেক বড়ো হিম্মতের ব্যাপার যে, মানুষের ক্রোধের উদ্রেক হচ্ছে, রক্ত উদ্বেলিত হচ্ছে, সে সময় মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে সীমার উপর অটল থাকবে এবং সম্মুখস্থ ব্যক্তিকে মাফ করে দিবে এবং অন্য পথ ধরে চলে যাবে। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا 'যারা অসার বিষয় থেকে দূরে থাকে। ১৪

টিকাঃ
১৩. আশ শূরাঃ ৪৩
১৪. ফুরকানঃ ৭২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00