📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 তৃতীয় বুযুর্গের ধরন

📄 তৃতীয় বুযুর্গের ধরন


আর তৃতীয় বুযুর্গ, যিনি তোমার হাত বুলাতে আরম্ভ করেছেন, তাকে আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুকের প্রতি স্নেহ ও মমতার গুণ দান করেছেন। এ কারণে তিনি ঘুরে উঠে হাত বুলাতে আরম্ভ করেছেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 প্রথম বুযুর্গের পদ্ধতি সুন্নাত

📄 প্রথম বুযুর্গের পদ্ধতি সুন্নাত


কিন্তু আসল সুন্নাত পদ্ধতি ঐটা, যা প্রথম বুযুর্গ অবলম্বন করেছেন। কেউ যদি তোমার ক্ষতি করে তাহলে তার প্রতিশোধ গ্রহণের চিন্তা তুমি কেন করবে? কারণ, তুমি যদি প্রতিশোধ গ্রহণ করো তাহলে তোমার কি লাভ হবে? এতোটুকুই তো হবে যে, তোমার মনের আগুন ঠান্ডা হবে। কিন্তু তুমি যদি তাকে মাফ করে দাও, ক্ষমা করে দাও, তাহলে মনের আগুন তো বটেই জাহান্নামের আগুনও ঠান্ডা হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করবেন।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 মাফ করা সওয়াব ও পুরস্কারের কারণ

📄 মাফ করা সওয়াব ও পুরস্কারের কারণ


আজকাল আমাদের ঘরে, পরিবারে এবং সাথী-সঙ্গীদের মধ্যে দিন-রাত এসব সমস্যা দেখা দেয় যে, অমুক আমার সঙ্গে এই করেছে, অমুক এই করেছে। এখন তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের চিন্তায় বিভোর। অন্যদের কাছে অভিযোগ করে ফিরছে। তাকে তিরস্কার করছে। অন্যদের নিকট তার গীবত করছে। অথচ এগুলো গোনাহের কাজ। কিন্তু তুমি যদি মাফ করে দাও এবং ছাড় দাও তাহলে তুমি অনেক বড়ো ফযীলত ও সওয়াবের অধিকারী হবে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَلَمَنْ صَبَرَ وَ غَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ 'যে ধৈর্য ধারণ করলো এবং ক্ষমা করে দিলো নিঃসন্দেহে এটা উচ্চ সাহসীকতার কাজ।
অন্যত্র ইরশাদ করেন,
ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ 'অন্যের মন্দ আচারণের বদলা ভালো আচরণ দ্বারা দাও। এর ফল এই হবে যে, যার সঙ্গে শত্রুতা রয়েছে সে তোমার অনুরক্ত হয়ে যাবে।' তবে সাথে একথাও বলেছেন যে,
وَمَا يُلَقَّهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّهَا إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ 'এ আমল তাদেরই ভাগ্যে জুটে যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা ধৈর্যের তাওফীক দান করেন এবং এ দৌলত বড়ো ভাগ্যবানরাই লাভ করে থাকে।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ > 📄 নবী আলাইহিমুস সালামগণের উত্তর দেওয়ার ধরন

📄 নবী আলাইহিমুস সালামগণের উত্তর দেওয়ার ধরন


হযরাতে আম্বিয়ায়ে কেরামের পদ্ধতি এই যে, তাঁরা তিরস্কার করেন না। এমনকি সম্মুখস্থ কোনো ব্যক্তিও যদি তিরস্কার করে তাহলেও উত্তরে তাঁরা তিরস্কার করেন না।
সম্ভবত হযরত হূদ আলাইহিস সালামের ঘটনা যে, তাকে তাঁর জাতি বললো,
إِنَّا لَنَرْبِكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَذِبِينَ
নবীকে বলা হচ্ছে যে, আমাদের ধারণায় তুমি নিতান্ত পর্যায়ের বেউকুফ, নির্বোধ। আমরা তোমাকে অন্যতম মিথুক মনে করি। যে সকল নবীর উপর প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা নিবেদিত, তাঁদের সম্পর্কে এ কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রতি উত্তরে নবী বলছেন,
يَقَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَكِنِّي رَسُوْلٌ مِنْ رَّبِّ الْعَلَمِينَ 'হে আমার জাতি! আমি বেউকুফ নই, বরং আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে একটি পয়গাম নিয়ে এসেছি।'৭ অন্য এক নবীকে বলা হচ্ছে,
إِنَّا لَنَرْبِكَ فِي ضَلَلٍ مُّبِينٍ 'আমরা তোমাকে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিপতিত দেখছি।'৮ উত্তরে নবী বলছেন,
يَقَوْمِ لَيْسَ بِي ضَلَلَةٌ وَلَكِنِّي رَسُوْلٌ مِنْ رَّبِّ الْعَلَمِينَ 'হে আমার জাতি! আমি পথভ্রষ্ট নই। আমি তো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নবী হয়ে এসেছি।'৯ আপনারা লক্ষ করলেন, নবীগণ তিরস্কারের উত্তর তিরস্কার দ্বারা দেননি।

টিকাঃ
৩. আশ শুরাঃ ৪৩
৪. হা মীম সিজদা : ৩৪
৫. হা মীম সিজদা : ৩৫
৬. আ'রাফ: ৬৬
৭. আ'রাফ: ৬৭
৮. আ'রাফ: ৬০
৯. আ'রাফ: ৬১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00