📄 আল্লাহ তা'আলা কেন প্রতিশোধ গ্রহণ করেন
হযরত থানভী রহ. বলেন যে, কারো যদি এ বিষয়ে প্রশ্ন জাগে যে, আল্লাহ তা'আলার এ আচরণ বিস্ময়কর যে, আল্লাহর ওলীগণ তো এতো স্নেহ-পরায়ণ যে, তারা তাদের উপর করা অত্যাচারের প্রতিশোধ গ্রহণ করেন না। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা আযাব দেওয়ার জন্যে উন্মুখ হয়ে আছেন। প্রতিশোধ নেওয়া না হলে তিনি অবশ্যই আযাব দিবেন। এর অর্থ তো এই দাঁড়ালো যে, আল্লাহ ওয়ালাগণের স্নেহ আল্লাহ তা'আলার স্নেহ ও দয়ার তুলনায় অধিক। এর উত্তর দিয়ে তিনি বলেন, মূলত সিংহীকে কেউ উত্যক্ত করলে সে তা উপেক্ষা করে, প্রতিশোধ নেয় না। তার উপর আক্রমণ করে না। কিন্তু কেউ যদি তার বাচ্চাকে উত্যক্ত করে তাহলে সিংহী তা সহ্য করে না। উত্যক্তকারীর উপর আক্রমণ করে। এমনিভাবে আল্লাহ তা'আলার শানে মানুষ বেয়াদবী করে- কেউ শিরক করে, কেউ আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাঁর সহনশীলতার গুণে তাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু আল্লাহর ওলীগণ- যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা- তাদের শানে কেউ বেয়াদবী করলে আল্লাহ তা'আলা সহ্য করেন না। এ কারণে এ বেয়াদবী মানুষকে ধ্বংস করে। তাই যেখানেই বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো আল্লাহর ওলী প্রতিশোধ গ্রহণ করেছেন, সেই প্রতিশোধ গ্রহণ করা তার কল্যাণ কামনার জন্যে হয়ে থাকে। কারণ, যদি প্রতিশোধ গ্রহণ না করে তাহলে জানা নেই আল্লাহ তা'আলার কোন আযাব তার উপর আপতিত হয়!
📄 তৃতীয় বুযুর্গের ধরন
আর তৃতীয় বুযুর্গ, যিনি তোমার হাত বুলাতে আরম্ভ করেছেন, তাকে আল্লাহ তা'আলা তার মাখলুকের প্রতি স্নেহ ও মমতার গুণ দান করেছেন। এ কারণে তিনি ঘুরে উঠে হাত বুলাতে আরম্ভ করেছেন।
📄 প্রথম বুযুর্গের পদ্ধতি সুন্নাত
কিন্তু আসল সুন্নাত পদ্ধতি ঐটা, যা প্রথম বুযুর্গ অবলম্বন করেছেন। কেউ যদি তোমার ক্ষতি করে তাহলে তার প্রতিশোধ গ্রহণের চিন্তা তুমি কেন করবে? কারণ, তুমি যদি প্রতিশোধ গ্রহণ করো তাহলে তোমার কি লাভ হবে? এতোটুকুই তো হবে যে, তোমার মনের আগুন ঠান্ডা হবে। কিন্তু তুমি যদি তাকে মাফ করে দাও, ক্ষমা করে দাও, তাহলে মনের আগুন তো বটেই জাহান্নামের আগুনও ঠান্ডা হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করবেন।
📄 মাফ করা সওয়াব ও পুরস্কারের কারণ
আজকাল আমাদের ঘরে, পরিবারে এবং সাথী-সঙ্গীদের মধ্যে দিন-রাত এসব সমস্যা দেখা দেয় যে, অমুক আমার সঙ্গে এই করেছে, অমুক এই করেছে। এখন তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের চিন্তায় বিভোর। অন্যদের কাছে অভিযোগ করে ফিরছে। তাকে তিরস্কার করছে। অন্যদের নিকট তার গীবত করছে। অথচ এগুলো গোনাহের কাজ। কিন্তু তুমি যদি মাফ করে দাও এবং ছাড় দাও তাহলে তুমি অনেক বড়ো ফযীলত ও সওয়াবের অধিকারী হবে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
وَلَمَنْ صَبَرَ وَ غَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ 'যে ধৈর্য ধারণ করলো এবং ক্ষমা করে দিলো নিঃসন্দেহে এটা উচ্চ সাহসীকতার কাজ।
অন্যত্র ইরশাদ করেন,
ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ 'অন্যের মন্দ আচারণের বদলা ভালো আচরণ দ্বারা দাও। এর ফল এই হবে যে, যার সঙ্গে শত্রুতা রয়েছে সে তোমার অনুরক্ত হয়ে যাবে।' তবে সাথে একথাও বলেছেন যে,
وَمَا يُلَقَّهَا إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَمَا يُلَقَّهَا إِلَّا ذُو حَظٍّ عَظِيمٍ 'এ আমল তাদেরই ভাগ্যে জুটে যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা ধৈর্যের তাওফীক দান করেন এবং এ দৌলত বড়ো ভাগ্যবানরাই লাভ করে থাকে।