📄 প্রতিশোধ গ্রহণে আমার সময় নষ্ট করবো কেন?
ঐ বুযুর্গ বললেন, এবার শোনো! প্রথম বুযুর্গ, যিনি প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি, তিনি চিন্তা করেছেন যে, আমি প্রতিশোধ গ্রহণে আমার সময় নষ্ট করবো কেন? সে আমাকে ঘুষি মেরেছে তো আমার কি হয়েছে? এখন আমি পিছনে ফিরবো। দেখবো যে কে মেরেছে? তারপর তার প্রতিশোধ গ্রহণ করবো। যতোটুকু সময় এতে ব্যয় হবে, তা আল্লাহ তা'আলার যিকিরে ব্যয় করবো না কেন?
📄 প্রথম বুযুর্গের দৃষ্টান্ত
প্রথম বুযুর্গের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন এক ব্যক্তিকে বাদশাহ ডাকলো এবং বললো যে, তুমি আমার কাছে আসো। আমি তোমাকে একটি বড়ো ধরনের পুরস্কার দিবো। এবার ঐ ব্যক্তি পুরস্কারের আগ্রহে দৌড়িয়ে বাদশার মহলের দিকে যাচ্ছে। সময় কম, যথা সময় তাকে পৌঁছতে হবে। পথে এক ব্যক্তি তাকে ঘুষি মারলো। এখন এ ব্যক্তি তার সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে, না নিজের পথ চলা অব্যাহত রাখবে এবং যে কোনোভাবে দ্রুত বাদশার কাছে পৌঁছবে? বলা বাহুল্য যে, সে আঘাতকারীর সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে না, বরং সে তো এই চিন্তায় থাকবে যে, আমি যে কোনোভাবে দ্রুত বাদশার কাছে পৌঁছে পুরস্কার গ্রহণ করি। একইভাবে এই বুযুর্গ তার আঘাতকারীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হননি। বরং নিজের যিকিরে মশগুল থেকেছেন, যেন সময় নষ্ট না হয়।
📄 দ্বিতীয় বুযুর্গের ধরন
দ্বিতীয় বুযুর্গ, যিনি প্রতিশোধ গ্রহণ করেছেন। তিনি চিন্তা করেছেন যে, শরীয়ত এ অধিকার দিয়েছে যে, যে পরিমাণ সীমালঙ্ঘন কেউ তোমার সঙ্গে করবে ঐ পরিমাণ তুমিও তার সঙ্গে করতে পারবে। তার অধিক করতে পারবে না। তুমি তাকে একটি ঘুষি মেরেছিলে তিনিও তোমাকে একটি ঘুষি মেরে দিয়েছে। তুমি তাকে মুখে কিছু বলো নি, তিনিও তোমাকে মুখে কিছু বলেননি।
📄 প্রতিশোধ গ্রহণ ও কল্যাণ কামনা
হযরত থানভী রহ. বলেন যে, কতক বুযুর্গ থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা যাদের সাথে কৃত অত্যাচারের প্রতিশোধ গ্রহণ করেছেন। এই প্রতিশোধ গ্রহণও হয়ে থাকে প্রকৃতপক্ষে ঐ ব্যক্তির কল্যাণ কামনার কারণে। কারণ, কতক আল্লাহর ওলীর অবস্থা এই হয়ে থাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি তাকে কষ্ট দেয় বা তার সাথে বেয়াদবী করে আর তিনি সবর করেন তাহলে এই সবর করার ফলে ঐ ব্যক্তি ধ্বংস হয়ে যায়। হাদীসে কুদসীর মধ্যে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
مَنْ عَادَى لِيْ وَلِيًّا فَقَدْ ذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ 'যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর সাথে শত্রুতা করবে তার জন্যে আমার পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রইলো।''
কতক সময় আল্লাহ তা'আলা তার প্রিয় বান্দার সাথে করা অত্যাচারের কারণে এমন আযাব নাযিল করেন যে, আল্লাহ তা'আলা তা থেকে হেফাজত করুন। কারণ, ঐ ওলীর সবর ঐ ব্যক্তির উপর এসে পতিত হয়। এ কারণেই আল্লাহওয়ালাগণ কতক সময় তার সাথে করা অত্যাচারের প্রতিশোধ গ্রহণ করেন, যেন তার বদলা হয়ে যায়। আল্লাহর আযাব যেন তার উপর পতিত না হয়।
টিকাঃ
২. জামেউল উলুমি ওয়াল হিকাম, ইবনে রজব হাম্বলী কৃত, খন্ডঃ ১, পৃঃ ৩৫৭, মাআরিজুল কুবুল, হাফেয ইবনে আহমাদ হুকমি কৃত, খন্ডঃ ৩, পৃঃ ১০০১