📄 প্রতিশোধ গ্রহণ না করে মাফ করে দাও
আরে ভাই! কেউ যদি তোমাকে গালি দিয়ে থাকে তাহলে তোমার কি ক্ষতি হয়েছে? তোমার আখেরাতের কি নষ্ট হয়েছে? বরং তোমার তো মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তুমি যদি প্রতিশোধ না নাও, মাফ করে দাও তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে মাফ করে দিবেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি অন্যের ভুল মাফ করে দেয় আল্লাহ তা'আলা তাকে সেদিন মাফ করে দিবেন, যেদিন সে মাফের সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হবে। অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন। এজন্যে প্রতিশোধ গ্রহণের চিন্তা ছেড়ে দাও, মাফ করে দাও।
📄 বুযুর্গদের বিভিন্ন শান
এক বুযুর্গের কাছে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো যে, হযরত আমি শুনেছি আল্লাহর ওলীদের বিরল-বিস্ময়কর শান হয়ে থাকে। কারো এক রং, কারো অন্য রং এবং কারো অন্য শান হয়ে থাকে। আল্লাহর ওলীদের সেই শান দেখতে আমার মন চায়। ঐ বুযুর্গ তাকে বললেন, তুমি কোন ঘোরের মধ্যে পড়লে! ওলী ও বুযুর্গদের শান দেখার চিন্তায় পড়ো না। নিজের কাজ করতে থাকো। লোকটি পীড়াপীড়ি করলো। আমি তো একটু দেখতে চাই। দুনিয়াতে কেমন কেমন বুযুর্গ হন? ঐ বুযুর্গ বললেন, তুমি যদি দেখতেই চাও তাহলে দিল্লীর অমুক মসজিদে যাও। সেখানে তুমি তিনজন বুযুর্গকে যিকিরে মগ্ন দেখতে পাবে। তুমি গিয়ে প্রত্যেকের পিঠের উপর একটি করে ঘুষি মারবে, তারপর দেখবে আল্লাহর ওলীদের কেমন শান হয়ে থাকে। সুতরাং লোকটি গেলো। সেখানে গিয়ে দেখে বাস্তবেই তিনজন বুযুর্গ বসে যিকির করছেন। সে গিয়ে প্রথম বুযুর্গের পিঠে একটি ঘুষি মারলো। তিনি মুখ ঘুরিয়ে দেখলেনও না। নিজের যিকিরে মগ্ন থাকলেন। দ্বিতীয় বুযুর্গকে যখন ঘুষি মারলো, তখন ঘুরে উঠে তিনিও একটি ঘুষি মারলেন, তারপর নিজের কাজে রত হলেন। তৃতীয় বুযুর্গকে ঘুষি মারলে তিনি ঘুরে ওঠে তার হাত বুলাতে আরম্ভ করলেন। এবং বললেন, আপনি ব্যথা তো পাননি?
তারপর লোকটি ঐ বুযুর্গের কাছে ফিরে এলো, যিনি তাকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- কি হলো? লোকটি বললো, অবাক কান্ড ঘটেছে। যখন আমি প্রথম বুযুর্গকে ঘুষি মেরেছি তখন তিনি আমার দিকে ঘুরেও তাকাননি। যখন দ্বিতীয় বুযুর্গকে ঘুষি মেরেছি তখন ঘুরে উঠে তিনিও আমাকে একটি ঘুষি মেরেছেন। আর যখন তৃতীয় বুযুর্গকে ঘুষি মেরেছি তখন তিনি ঘুরে উঠে আমার হাত বুলাতে আরম্ভ করেছেন।
ঐ বুযুর্গ বললেন, আচ্ছা বলো তো যিনি তোমাকে ঘুষি মেরেছেন, তিনি কি মুখ দিয়ে কিছু বলেছেন? লোকটি বললো, মুখ দিয়ে তো কিছু বলেননি। শুধু ঘুষি মেরে আবার নিজের কাজে মশগুল হয়েছেন।
📄 প্রতিশোধ গ্রহণে আমার সময় নষ্ট করবো কেন?
ঐ বুযুর্গ বললেন, এবার শোনো! প্রথম বুযুর্গ, যিনি প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি, তিনি চিন্তা করেছেন যে, আমি প্রতিশোধ গ্রহণে আমার সময় নষ্ট করবো কেন? সে আমাকে ঘুষি মেরেছে তো আমার কি হয়েছে? এখন আমি পিছনে ফিরবো। দেখবো যে কে মেরেছে? তারপর তার প্রতিশোধ গ্রহণ করবো। যতোটুকু সময় এতে ব্যয় হবে, তা আল্লাহ তা'আলার যিকিরে ব্যয় করবো না কেন?
📄 প্রথম বুযুর্গের দৃষ্টান্ত
প্রথম বুযুর্গের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন এক ব্যক্তিকে বাদশাহ ডাকলো এবং বললো যে, তুমি আমার কাছে আসো। আমি তোমাকে একটি বড়ো ধরনের পুরস্কার দিবো। এবার ঐ ব্যক্তি পুরস্কারের আগ্রহে দৌড়িয়ে বাদশার মহলের দিকে যাচ্ছে। সময় কম, যথা সময় তাকে পৌঁছতে হবে। পথে এক ব্যক্তি তাকে ঘুষি মারলো। এখন এ ব্যক্তি তার সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে, না নিজের পথ চলা অব্যাহত রাখবে এবং যে কোনোভাবে দ্রুত বাদশার কাছে পৌঁছবে? বলা বাহুল্য যে, সে আঘাতকারীর সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হবে না, বরং সে তো এই চিন্তায় থাকবে যে, আমি যে কোনোভাবে দ্রুত বাদশার কাছে পৌঁছে পুরস্কার গ্রহণ করি। একইভাবে এই বুযুর্গ তার আঘাতকারীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হননি। বরং নিজের যিকিরে মশগুল থেকেছেন, যেন সময় নষ্ট না হয়।