📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ.-এর ঘটনা

📄 হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ.-এর ঘটনা


আমি আমার ওয়ালেদ মাজেদ রহ. থেকে হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ.-এর ঘটনা শুনেছি। তিনি এমন বুযুর্গ ছিলেন যে, নিকট অতীতে তার দৃষ্টান্ত মেলা কঠিন। রাজবংশের শাহজাদা ছিলেন। আল্লাহ তা'আলার দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্যে বের হন এবং কুরবানী করেন। একবার দিল্লীর জামে মসজিদে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বক্তব্য চলাকালে জনসমাবেশে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, আমি শুনেছি যে, আপনি হারামযাদা (নাউযুবিল্লাহ)। এতো বড়ো আলেম ও শাহাজাদাকে ভরা মজমার মধ্যে এই গালি দিলো এবং মজমাও ছিলো ভক্তদের। আমার ওয়ালেদ ছাহেব বলতেন যে, আমাদের মতো কোনো মানুষ হলে তাকে শাস্তি দিতো। আর নিজে শাস্তি না দিলেও তার ভক্তবৃন্দ তাকে টুকরা টুকরা করে ফেলতো। কমপক্ষে প্রতি উত্তরে এ কথা তো বলতো যে, তুই হারামজাদা, তোর বাপ হারামজাদা। কিন্তু হযরত মাওলানা শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ.- যিনি পয়গম্বরসুলভ দাওয়াতের আমল করছিলেন- উত্তরে বললেন, আপনি ভুল সংবাদ পেয়েছেন। আমার মায়ের বিয়ের সাক্ষী তো আজও দিল্লীতে রয়েছে। তিনি গালিকে মাসআলা বানিয়ে দিলেন। গালির উত্তরে গালি দেননি।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 গালির উত্তরে গালি দিবে না

📄 গালির উত্তরে গালি দিবে না


গালির উত্তরে গালি দিবে না। যদিও শরীয়তের দৃষ্টিতে অন্য ব্যক্তি তোমাকে যেমন গালি দিয়েছে তুমিও তাকে তেমন গালি দেওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু নবীগণ এবং তার ওয়ারিসগণ প্রতিশোধ গ্রহণের এই অধিকার ব্যবহার করেন না। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারাজীবনে কখনো এই অধিকার ব্যবহার করেননি। সবসময় মাফ করে দিয়েছেন। ছেড়ে দিয়েছেন। নবীগণের ওয়ারিসদেরও এ আদর্শই ছিলো।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 প্রতিশোধ গ্রহণ না করে মাফ করে দাও

📄 প্রতিশোধ গ্রহণ না করে মাফ করে দাও


আরে ভাই! কেউ যদি তোমাকে গালি দিয়ে থাকে তাহলে তোমার কি ক্ষতি হয়েছে? তোমার আখেরাতের কি নষ্ট হয়েছে? বরং তোমার তো মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তুমি যদি প্রতিশোধ না নাও, মাফ করে দাও তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে মাফ করে দিবেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি অন্যের ভুল মাফ করে দেয় আল্লাহ তা'আলা তাকে সেদিন মাফ করে দিবেন, যেদিন সে মাফের সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হবে। অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন। এজন্যে প্রতিশোধ গ্রহণের চিন্তা ছেড়ে দাও, মাফ করে দাও।

📘 ইসলামী মু'আশারাত পরস্পরের প্রতি কর্তব্য ও অধিকার সুন্দর ও সুখী সমাজ 📄 বুযুর্গদের বিভিন্ন শান

📄 বুযুর্গদের বিভিন্ন শান


এক বুযুর্গের কাছে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো যে, হযরত আমি শুনেছি আল্লাহর ওলীদের বিরল-বিস্ময়কর শান হয়ে থাকে। কারো এক রং, কারো অন্য রং এবং কারো অন্য শান হয়ে থাকে। আল্লাহর ওলীদের সেই শান দেখতে আমার মন চায়। ঐ বুযুর্গ তাকে বললেন, তুমি কোন ঘোরের মধ্যে পড়লে! ওলী ও বুযুর্গদের শান দেখার চিন্তায় পড়ো না। নিজের কাজ করতে থাকো। লোকটি পীড়াপীড়ি করলো। আমি তো একটু দেখতে চাই। দুনিয়াতে কেমন কেমন বুযুর্গ হন? ঐ বুযুর্গ বললেন, তুমি যদি দেখতেই চাও তাহলে দিল্লীর অমুক মসজিদে যাও। সেখানে তুমি তিনজন বুযুর্গকে যিকিরে মগ্ন দেখতে পাবে। তুমি গিয়ে প্রত্যেকের পিঠের উপর একটি করে ঘুষি মারবে, তারপর দেখবে আল্লাহর ওলীদের কেমন শান হয়ে থাকে। সুতরাং লোকটি গেলো। সেখানে গিয়ে দেখে বাস্তবেই তিনজন বুযুর্গ বসে যিকির করছেন। সে গিয়ে প্রথম বুযুর্গের পিঠে একটি ঘুষি মারলো। তিনি মুখ ঘুরিয়ে দেখলেনও না। নিজের যিকিরে মগ্ন থাকলেন। দ্বিতীয় বুযুর্গকে যখন ঘুষি মারলো, তখন ঘুরে উঠে তিনিও একটি ঘুষি মারলেন, তারপর নিজের কাজে রত হলেন। তৃতীয় বুযুর্গকে ঘুষি মারলে তিনি ঘুরে ওঠে তার হাত বুলাতে আরম্ভ করলেন। এবং বললেন, আপনি ব্যথা তো পাননি?
তারপর লোকটি ঐ বুযুর্গের কাছে ফিরে এলো, যিনি তাকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- কি হলো? লোকটি বললো, অবাক কান্ড ঘটেছে। যখন আমি প্রথম বুযুর্গকে ঘুষি মেরেছি তখন তিনি আমার দিকে ঘুরেও তাকাননি। যখন দ্বিতীয় বুযুর্গকে ঘুষি মেরেছি তখন ঘুরে উঠে তিনিও আমাকে একটি ঘুষি মেরেছেন। আর যখন তৃতীয় বুযুর্গকে ঘুষি মেরেছি তখন তিনি ঘুরে উঠে আমার হাত বুলাতে আরম্ভ করেছেন।
ঐ বুযুর্গ বললেন, আচ্ছা বলো তো যিনি তোমাকে ঘুষি মেরেছেন, তিনি কি মুখ দিয়ে কিছু বলেছেন? লোকটি বললো, মুখ দিয়ে তো কিছু বলেননি। শুধু ঘুষি মেরে আবার নিজের কাজে মশগুল হয়েছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية